Gallery

রেসিপিঃ পাট শাক ভাঁজি (মায়ের হাতের)


মায়ের হাতের রান্না সন্তানের জন্য চিরকালের জন্য ভালবাসার ও আনন্দের। যার যার মায়ের হাতের রান্না তার কাছে অমৃত। আমি এর কারন জানার সামান্য চেষ্টা করেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা এই জন্য যে, মা প্রথম সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন, শিশু প্রথম খাবারের রান্নাটা মাই করে থাকেন এবং তার পর থেকে মায়ের রান্নাই খেয়ে বড় হয়। প্রত্যেক মা তার সন্তানের জন্য যে যত্ন করে রান্না করেন তা স্বাদ না হয়ে পারে না। খাবারের অভ্যাস, খাবারের স্বাদ ইত্যাদি একজন মাই প্রথম তার সন্তানের কাছে তুলে দেন। এই সব নানান কারনে সন্তানের কাছে মায়ের রান্নার স্বাদ ভুলে যাবার মত নয় এবং কখনো একজন সন্তান তা ভুলে যায় না। খাদ্যাভাস এমন একটা ব্যাপার যে, আপনি শিশু কালে যা খাবেন তাই তাজীবন ভাল লাগবে। সারা দুনিয়ার মানুষের জন্যই এটা সত্য!

যাই হোক, চলুন আমার মায়ের হাতের একটা রান্না দেখি। বলে নেই, আমার মা এখন নিয়মিত রান্না করেন না, প্রবাসে ছিলেন অনেক দিন। ফিরে এসেছেন। এখন আপাতত গ্রামের বাড়িতে আছেন। এখন মাঝে মাঝে রান্না করেন। গতকাল আমি বাড়ীতে গেলে তিনি রান্না করেছিলেন, আমি সহযোগী হিসাবে ছিলাম। আমার মায়ের রান্নায় একটা ব্যাপার আমার কাছে খুব আশ্চর্য্য মনে হয়, তিনি খুব ঝটপট রান্না করেন, টের পাবার আগেই উনার রান্না শেষ হয়ে পড়ে। এত দ্রুত তাল লয় মিলিয়ে রান্না করেন যে, আমি অবাক হয়ে পড়ি। স্বাদ, ১০০ তে ১০০!

আমার মায়ের রান্নাঘর। খুব পরিচ্ছন্ন, সাধারন ময়লাও চোখে পড়ে না।

গতকাল দুপুরে আমি ও আম্মা এক সাথে দুপুরের খাবার খেয়ে ছিলাম। আমাদের রান্না ছিল গরুর গোসত এবং পাট শাক ভাঁজি। আমি দুটো খাবার তুলতে পরেছি। চলুন আজ পাটশাক ভাঁজি দেখি। এমন শাক ভাঁজি আমি আগেও আপনাদের দেখিয়েছি কিন্তু এটা দেখার পর মনে হয়েছে, এর চেয়ে সহজ আর কি হতে পারে। এত কম উপকরণে আর কি খাবার চাই?

উপকরন ও পরিমানঃ
– পাটশাক, কচি, ২ মুট কেটে কুটে যা হয়ছিল (গ্রামের বাজার থেকে কেনা)
– কয়েক কোষ রসুন কুঁচি
– শুকনা মরিচ, কয়েক টা (ঝাল বুঝে)
– তেল, কয়েক চামচ
– লবন, পরিমান মত

প্রনালীঃ

শাক গুলো সামান্য লবন দিয়ে ভাপিয়ে নিয়েছিলেন। কড়াইতে পাটশাক নিয়ে তাতে লবন ছিটিয়ে দিয়ে, সামান্য পানির ঝাপ্টা দিয়েছিলেন মাত্র। চুলায় কয়েক মিনিটেই ঝরঝরে পাটশাক ভাপিয়ে গিয়েছিল।


মুল রান্না শুরু, কড়াইতে তেল গরম করে রসুন কুঁচি ও মরিচ ভেঁজে নিয়েছিলেন। মরিচ গুলো তুলে রেখেছিলেন।


রসুন কুচির রঙ হলদে হয়ে এলে ভাপিয়ে রাখা শাক গুলো দিয়ে দিলেন।


আগুন মাধ্যম আঁচে, ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিলেন।


মিনিট ৫ পরেই তুলে রাখা ভাঁজা মরিচ গুলোর কয়েকটা কুঁচি করে কেটে দিলেন।


কয়েকটা গোটাই দিলেন। ঝালের দরকার হলে চাইলে ব্যবহার করা যাবে। ফাইন্যাল লবন দেখেই তুলে নিলেন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য রেডী। আমি তুলে রাখা এই বাটি থেকেই খাওয়া শুরু করি। অসাধারন।  পাঠশাক, কোন তিতে ভাবো ছিল না! বিশ্বাস করুন, এই পাঠ শাক দিয়ে আমি আমার প্রথম প্লেট সাবাড় করে দিয়েছি।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s