Gallery

রেসিপিঃ শসা ভাঁজি (নিরামিষ)


আমরা ছোট বেলায় শসার মোরব্বা খেয়েছি এবং বড় বড় শসা মাছায় দেখেছি। এত বড় বড় শসা দেখেছি যে, এখনকার শিশুরা সেটা মনে হয় কল্পনাও করতে পারবে না। আরো দেখেছি এত বড় শসা যে, নেয়ার বা খাবার কোন লোক নেই, গরু ছাগলেও খেত না! মাছার শসা মাচাতেই পচে যেত! তবে এই শসা কচি অবস্থায় সবাইকে খেতে দেখতাম, তরকারি হিসাবে রান্না হত কি না এখন আর মনে করতে পারি না মাছ বা মাংশের সাথে রান্না হত কি না তা বলতে পারছি না, মোরব্বার কথাই মনে আছে। তবে এখন আর এমন বড় শসা দেখি না, আমার মনে হয় এখনো এমন শসা গ্রামে পাওয়া যায়। ঢাকা শহরের বাজারে এখন এমন শসা দেখি না। যাই হোক, তবুও মাঝারি বা সামান্য বড় টাইপের কিছু শসা পাওয়া যায়, যা তরকারি হিসাবে রান্না করে খাওয়া যায়।

আমি আগে আপনাদের গোস্তের সাথে এই শসা রান্না দেখিয়েছি। যারা তরকারীতে ঘ্রান পছন্দ করে থাকেন তাদের জন্য এই শসার তরকারি ভাল। আমি খাদ্য রসিক হিসাবে, এই ধরনের তরকারি সব সময়েই পছন্দ করে থাকি এবং সবাইকে এই সমস্ত তরকারি খেতে উৎসাহ দিয়ে থাকি। আমি যখন শিশু ছিলাম, আমিও পছন্দ করতাম না, এখন বয়স হয়ে বুঝতে পারি! আপনাদের শিশুদের এই সমস্ত তরকারি খেতে দিন, ছোট বেলা থেকেই অভ্যাস গড়ে উঠুক।

শসা নিয়ে এসে ভাবছিলাম, কি দিয়ে রান্না করবো, রুটি দিয়ে খাবার উপযোগী করে একটা সাধারন ভাঁজি করলে মন্দ হয় না। সুতারাং কাজে লেগে গেলাম। দেখুন, কি সহজ এবং সাধারন রান্না।

উপকরণ ও পরিমানঃ
– শসা, হাফ কেজি বা বেশী, অনুমানিক
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি দুইটা
– রসুন বাটা, এক চা চামচের বেশী
– শুকনা মরিচ, কয়েকটা
– চিনি, এক চিমটি বা বেশী
– লবন, পরিমান মত
– তেল, ৪/৫ টেবিল চামচ (কম তেলেই রান্না ভাল)
– পানি, হাফ কাপের কম বা লাগবে না, যদি কম আঁচে রান্না করেন।

(ধনিয়া পাতার কুঁচি, অফশন্যাল, থাকলে দিতে পারেন।)

প্রস্তুত প্রনালীঃ

ছবি ১, শসার খোসা ছাড়িয়ে এভাবে কেটে নিন, পাতলা স্লাইস।


ছবি ২, মুল রান্না শুরু। কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি ও রসুন বাটা ভাঁজুন, সামান্য লবন দিতে ভুলবেন না।


ছবি ৩, ভাঁজুন, এবার শুকনা মরিচ দিয়ে দিন।


ছবি ৪, ভাঁজুন, ঘ্রান দেখুন। পেঁয়াজ কুঁচি হলদে হয়ে আসবে।


ছবি ৫, এবার শসা কুঁচি দিন।


ছবি ৬, মিশিয়ে নিন। আগুন মাধ্যম আঁচে রাখুন। শসা থেকে পানি বের হবে, যদি বেশী নরম করতে চান তবে সামান্য পানি দিতে পারেন।


ছবি ৭, হাফ চা চামচ চিনি দিলে স্বাদ বেড়ে যাবে, এটা আপনার ইচ্ছা।


ছবি ৮, এবার ঢেকে রাখুন কয়েক মিনিট।


ছবি ৯, মাঝে নাড়িয়ে দিন। ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন। ঝোল শুঁকাতে আগুন বাড়িয়ে দিন। সামান্য ঝোলেও পরিবেশন চলে!


ছবি ১০, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১১, যারা খাদ্য রসিক বা দুনিয়ার সব ধরনের খাবারের সম্মাদার তাদের কাছে দারুন লাগবেই। বিশেষ করে মানুষের বয়স হয়ে গেলে, এক এক জন অভিজ্ঞতা নিয়ে বিরাট বিরাট শিল্পী হয়ে উঠেন, তাদের কাছে এই সবজি অমৃত লাগবেই! হায়রে বয়স!

রুটির সাথে সকালে এই সব্জির তুলনা চলে না, দারুন নাস্তা। আলু ভাঁজি মার্কা খাবার বাদ দিয়ে এই ধরনের ভাঁজি ভুজিতে আসতে পারেন, ভাল লাগবে, কথা দিলাম!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

বিদ্রঃ এই রান্না করে ফেবুতে ছবি নিয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম, কি সবজি রান্না। অনেকই বুঝতে পারেন নাই! বেশ জমজমাট আলোচনা হয়েছে।

2 responses to “রেসিপিঃ শসা ভাঁজি (নিরামিষ)

  1. আমরা শশা দিয়ে মাছের ঝোল করে খাই। আর শশাকে গোল গোল করে কেটে মসলা মাখিয়ে ভেজেও খাই, দারুণ কিন্তু! আপনার রেসিপিটা ট্রাই মারতে হবে, দারুণ কালার কম্বিনেশান।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বাবুল ভাই।
      আমি শসা খুব পছন্দ করি। মশলা মেখে ভেঁজে খাবারটার কথা শুনে জিবে জল এল। আশা করি একদিন রান্না করে ফেলবো, আমি সহজ রান্না গুলো পছন্দ করি। আমাদের মত যারা রান্না শিখতে চায় বা সহজ করে রান্না করতে চান, তাদের জন্য অপূর্ব।
      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s