গ্যালারি

আড্ডাঃ বেইলী রোডের শাহী মামা পেঁয়াজু (মামা পেঁয়াজু)


অনেকদিন ধরে এই বেইলী রোডে ঘুরাফেরার সুযোগে বলতে গেলে এই রাস্তার প্রায় সব কিছুই চিনে থাকি। কোথায় কোন চিপায় কি বিক্রি হয় তা বলে দিতে পারি। বেইলী রোড মুলত আগে মহিলা সমিতি ও মহিলাদের নানান পদের শাড়ির জন্য বিখ্যাত হয়ে থাকলেও এখন  অনেক বড় বড় মার্কেট হয়ে গেছে, এখন বেইলী রোডে কি না পাওয়া যায়। বিশেষ করে খাবারের দোকানের জন্য দিনের পর দিন এই বেইলী রোড সবার কাছে জনপ্রিয় হয়েই উঠছে! আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এই রাস্তায় শুধু মাত্র কয়েকটা চটপটির দোকান ও কয়েকটা পেয়াজুর দোকান ছিল, ক্রমে ক্রমে অনেক কিছু হয়ে গেছে!

যাই হোক, চলুন আজ আপনাদের এই রাস্তার পুরানো একটা পেঁয়াজু বা ভাজিয়ার দোকানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। আপনারা অনেকে এই দোকানের ভাঁজিয়া খেয়েছেন বলে আমি মনে করি। শাহী মামা পেঁয়াজু। এই দোকানের মালিক এক সময়ে বেইলী রোডে ফুটপাতে চা বিক্রি করতেন বলে জানা যায় (উক্ত দোকান টি এখনো আছে), পরে তিনি এই দোকান ছেড়ে সন্ধ্যাকালীন পেঁয়াজু, ভাঁজিয়া বিক্রি করেন। এখন আল্লাহর রহমতে অনেক টাকার মালিক, কিছুদিন আগে শুনেছিলাম তিনি এই এলাকায় ফ্লাট কিনছেন। যারা উনাকে চিনেন বা আদিকাল থেকে দেখেছেন, দেখেছেন কি করে একজন মানুষ সংগ্রাম করে বেড়ে উঠেন।

এই মামা পেঁয়াজুর দোকানটা হচ্ছে শান্তি নগর থেকে প্রবেশের পরে কিছু দূর গেলে গার্লস স্কুলের বিপরীতে। এমন আর একটা দোকান ছিল, মহিলা সমিতি থেকে সামান্য এগিয়ে গেলে। এই দোকানটা এখন আর নেই, এখন সেখানে ফখরুদ্দিন রেষ্টুরেন্ট বসেছে! ফলে এমন ভাজিয়ার দোকান মাত্র এই একটাই। মধ্যবিত্তরা তাই সন্ধ্যা বিকেলে এই দোকানের খাবারি পছন্দ করেন। আমি নিজেও ক্ষুধা লাগলে এই দোকান থেকে কিছু খেয়ে নেই। বিশেষ করে ভাজিয়ার সাথে এদের সসটা খুব ভাল লাগে। ভাঁজিয়া গুলোতে ফাকি ঝুঁকি নেই। নিখাদ, আপনি পছন্দ করে খেয়ে দেখতে পারেন।

চলুন কথা না বলে, ছবি দেখি। তবে আমি নিশ্চিত এই ছবি গুলো দেখে আপনারা অনেকেই অনেক বাল্য/যুবাস্মৃতি মনে পড়বে। প্রেমিকা বা প্রেমিককে নিয়ে কত না খেয়েছেন! হা হা হা, না খেয়ে থাকলে মিস করছেন!


ছবি ১, আগে বিকেল থেকে শুরু করলেও এখন বলা যায় সকাল এগারটা থেকে শুরু হয়ে যায়। তবে এই সময়ে সিঙ্গারা, সামুচা ইত্যাদি বেশী চলে। স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা এই খাবার খুব পছন্দ করে থাকে।


ছবি ২, এই আইটেমের নামটা মনে পড়ছে না, তবে সিংগারার ফর্মুলাই।


ছবি ৩, সামুচা।


ছবি ৩, চিকেন বল।


ছবি ৪, পটেটো চিপস, বেগুনী


ছবি ৫, কোনায় আছে পেঁয়াজু, যার নামে এই দোকানের নাম।


ছবি ৬, আলু চপ।


ছবি ৭, সবজি ভাঁজিয়া।


ছবি ৮, ডিম চপ


ছবি ৯, চার/ পাঁচ জন লোকে কাজ করেও ফুরায় না। হালকা বৃষ্ট হলে বা শীত পড়লে বিক্রি ২গুন বেড়ে যায়।


ছবি ১০, দোকানের সাইনবোর্ড।


ছবি ১১, এরা সব সময়ে ভাল তেল ও মশলা ব্যবহার করে থাকে বলে আমাকে জানায়।


ছবি ১২, এই ছিল আমার প্লেট!

আশা করি আপনি যখন বেইলী রোডে আসবেন তখন বাহারী খাবারের পাশে এই সাধারন খাবার খেয়ে দেখতে পারেন। আমি নিশ্চিত ভাল লাগবে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

Advertisements

5 responses to “আড্ডাঃ বেইলী রোডের শাহী মামা পেঁয়াজু (মামা পেঁয়াজু)

  1. “ছবি ১২, এই ছিল আমার প্লেট!”— vai ki rate vat kheye cilen———–:)

    Liked by 1 person

  2. According to pic no.2 is another form of Samosa, Samosas are made in this shape in my home.

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s