গ্যালারি

রেসিপিঃ মাছের ঝোলে ঢেঁড়স রান্না (মজাদার)


রান্না শিখে ফেলার পর আমার এখন অনেক রান্নার সারঞ্জাম কিনতে ইচ্ছা হয়। বাজারে বা দোকানে গেলে আমার চোখ রান্নার কিছু পেলেই তার দিকে তাকিয়ে থাকে! বিশেষ করে রান্নার বা রান্না পরিবেশনের সারঞ্জাম দেখলেই কিনতে ইচ্ছা হয়। এর কারন আছে বটেই! আমি যে রেসিপি গুলো লিখি তাতেও কিছুটা ভিন্নতা আসে, আপনাদের দেখতে নিশ্চিয় ভাল লাগে। যাই হোক, রান্নার সারঞ্জামের দাম অনেক, আপনি ভাল কোন হাড়ি থেকে শুরু করে যাই কিনতে চাইবেন তা আপনি মধ্যবিত্ত হলে নাগালের বাইরে থাকবে। ফলে আমাদের মত পরিবার গুলো সস্তা ও মানহীন রান্নার সারঞ্জাম নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে হয়। চুলা থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুই। ‘যত দাম, তত মিঠা’, এই নীতিতে চলছে আমাদের সব কিছুই। প্রসঙ্গিকভাবে বলি, একটা ননষ্টিকি ফ্রাই প্যানের যা দাম তাতে সাধারন সিল্ভারের তিনটে হাড়ি বা প্যান কেনা যায়। ভাল মান সম্মত রান্নার সামগ্রী তাই ধনী পরিবার গুলোতেই দেখা যায়!

যাই হোক, গত কয়েকদিন আগে আমি একটা নুতন রান্নার পাত্র কিনেছি (স্টিকার উঠাতে দাগ ফেলে দেয়া হয়েছে), ভাঁজা বুরা বা সাধারন কোন তরকারি রান্না করার জন্য। ছোট এই ফ্র্যাই প্যানের দাম ভ্যাট দিয়ে প্রায় ৫০০ টাকার মত (মুল দামটা মনে করতে পারছি না, ভুলে যাওয়া রোগে পাইছে, রিসিট দেখতে হবে)। নুতন এই পাত্রে কি রান্না করবো ভেবে, গতকাল রাতে ঢেঁড়স বেছে নিয়েছি, মাই ফেবারেট মাছের ঝোলে রান্না। দারুন স্বাদ হয়েছিল, আপনাদের ব্যাটারী ভাবীর মুখে কোন কথা ছিল না! লা জওয়াব! হা হা হা।

চলুন মজাদার এই রান্না দেখে ফেলি।

পরিমান ও উপকরনঃ
– ২০০ গ্রাম ঢেঁড়স (অনুমানিক, কম বেশী)
– এক দুই টুকরা যে কোন মাছ (এটা ভেঙ্গে ঝোলে মিশে যাবে)
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি তিনটা
– আদা বাটাঃ হাফ চা চামচ
– রসুন বাটাঃ এক চা চামচ
– লাল মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে কম বেশী)
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচের কম
– কাঁচা মরিচঃ কয়েকটা
– লবনঃ পরিমান মত, দুই ধাপে
– তেলঃ ৫/৬ টেবিল চামচ (কম তেলেই রান্না উত্তম)
– পানিঃ এক কাপ বা বেশী মাছ গলিয়ে নিতে লাগলে আরো বেশী দিতে হবে।

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, ঢেঁড়স কাটার আগে ভাল করে ধুয়ে নিয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হয়। কাটার পর ঢেঁড়স আর ধোয়ার দরকার নেই।


ছবি ২, তেল গরম করে সামান্য লবন দিয়ে পেঁয়াজ কুঁচি, আদা, রসুন ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাল করে ভাঁজুন।


ছবি ৩, পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে গেলে এক কাপ পানি দিন।


ছবি ৪, হলুদ ও মরিচ গুড়া দিন।


ছবি ৫, মাছের টুকরা দিন। (আমি চোয়াল দিয়েছিলাম কারন এর মাংশ আরো স্বাদের)


ছবি ৬, মাছ নরম হয়ে এলে ভেঙ্গে দিন।


ছবি ৭, মাছের কাঁটা, হাড় গুলো বেছে ফেলে দিতে পারেন, ইচ্ছা!


ছবি ৮, ব্যস, মাছের ঝোল হয়ে গেল।


ছবি ৯, এবার ঢেঁড়স দিয়ে দিন (ঢেঁড়সের গায়ে একে দিলে মশলা জলদি প্রবেশ করবে)


ছবি ১০, সামান্য কিছু সময়ের জন্য ঢাকনা দিতে পারেন।


ছবি ১১, কম আঁচে কিছুক্ষন রাখুন। ঢেঁড়স গুলো নরম হল কি না দেখে নোট ভুলবেন না।


ছবি ১২, ফাইন্যাল লবন দেখুন। লাগলে দিন। ঝোল কেমন রাখবেন, ভেবে নিন।


ছবি ১৩, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৪, মাছের ঝোলে ঢেঁড়স! আহ, কি আনন্দ। গরম ভাতের সাথে বসে পড়ুন।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আমরা আরো আরো নুতন নুতন রেসিপি নিয়ে আসছি, আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন।

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ মাছের ঝোলে ঢেঁড়স রান্না (মজাদার)

  1. From the pictures, it seems like you have peeled the lady’s fingers. Could you confirm? I am not a big fan of lady’s fingers (no pun intended) but would want to try this recipe. Thanks!

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s