Gallery

রেসিপিঃ নেহারী (কম মশলায় সকালের নাস্তায়)


বর্তমান বাংলাদেশে গরুর গোস্তের দাম আকাশ ছোঁয়া, ২৫০ টাকা থেকে এক লাফে ৩৫০ গিয়ে ঠেকেছে, আর কত বাড়তে পারে তাই দেখার বিষয়! ইন্ডিয়া থেকে গরু না এলে এই দাম আরো আরো বাড়বে বলে হাসি খুশি কসাইগণ বা বিক্রেতারা আশা করছেন! তবে ফাঁকে এখন যদি দেশে বড় বড় খামার গড়ে উঠে। যাই হোক, সারা বিশ্বে গরু একটা অসহায় প্রানী বটেই! সারা জীবন মানুষের উপকার করে, শেষে জীবন দিয়েও মানুষের ভালবাসা পায় না! মানুষ কত বড় অমানুষ, নিজের স্বজাতীরে গালি দেয় ‘গরু’ বলে!

উপরের ছবিটা নেট থেকে নেয়া।

চলুন আজ আবারো নেহারী রান্না দেখি। এখানে উল্লেখ্য যে, এখন বাজার থেকে গোশত কিনতে গেলে প্রায় হাড্ডি গুড্ডি দেয়! ১ কেজিতে ২৫০ গ্রাম হাড্ডি আপনার জন্য বরাদ্দ থাকবেই! জমিয়ে রাখা সেই নল্লি দিয়েই আজকে আমাদের নেহারী রান্না (হাসবেন না)। কম মশলায় এই রান্না নিশ্চিতে ভাল লাগবে। পরিবেশনা বাসায় তৈরী সাইজ ছোট জিতু পরোটা! আগেই বলি, এই রান্নায় সময় লাগে, কমের পক্ষে ৪ ঘন্টা। সুতারাং সন্ধ্যা রাতে রান্না করুন এবং পরদিন সকালের নাস্তায় চালিয়ে দিন। চলুন!

পরিমান ও উপকরনঃ
– পা ও নল্লির হাড়, দুই কেজি খানেক, হিসাব ছাড়া
– এলাচি, ৩/৪ টা
– দারুচিনি, ৪/৫ পিস, এক ইঞ্চি
– তেজপাতা, ২/৩ টা
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচের কম (অনেকে হলুদের সাথে লাল মরিচের গুড়াও দিয়ে থাকেন, আমরা দেই নাই, না দিলেও স্বাদ কম হয় না, রঙ সুন্দর হয়)
– রসুন বাটা, এক টেবিল চামচ
– আদা বাটা, এক টেবিল চামচ
– লেবুর রস, ৩/৪ চা চামচ (আপনি চাইলে তেঁতুলের টক দিতে পারেন)
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– লবন, পরিমান মত (প্রথমে কম, পরে পরিমান মত)
– তেল, ১০/১২ চা চামচ, শুধু বেরেস্তার জন্য (কম তেলে রান্না ভাল, তবে রান্না করার সময়ে খেয়াল বেশী রাখতে হয়!)

  • পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি ৬/৭ টা, বেরেস্তা করে নিতে হবে, রান্না শেষে দিতে হবে কিংবা পেঁয়াজ বাগারের মত করে দিতে পারেন (আমরা পেঁয়াজ বাগার দিয়েছি)।

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, হাড় গুলো পরিস্কার করে নিয়ে একটা বড় পাত্রে কয়েক লিটার (দুই লিটারের মত, এটা আপনি নিজেও অনুমান করতে পারে, ঝোল বাড়াতে চাইলে শেষেও গরম পানি মিশাতে পারেন) পানিতে রাখুন। এরপর চুলায় চড়িয়ে আগুন মাধ্যম আঁচে করে একের পর এক মশলা দিয়ে দিন।


ছবি ২, লবন দিতে ভুলবেন না।


ছবি ৩, মশলা সব দিয়ে নাড়িয়ে নিন।


ছবি ৪, আগুন জ্বলুক।


ছবি ৫, ঢাকনা দিয়ে দিন।


ছবি ৬, চলুক। (এই পর্যায়ে উপরে কিছু ময়লা ভেসে উঠতে পারে, তা চামচ দিইয়ে তুলে ফেলে দিতে পারেন, ছবিটা মিসিং হয়েছে)


ছবি ৭, ঘন্টা ৩/৪ পরে (আগুনের অবস্থা ভেদে) এমনি অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ৮, লেবু রস দিন।


ছবি ৯, ঠিক এই রকম হলে চুলা নিবিয়ে রাখুন।


ছবি ১০, এবার বেরেস্থা ভাঁজুন।


ছবি ১১, এটা অনেকটা পেঁয়াজ বাগারের মতই।


ছবি ১২, পেঁয়াজ বেরেস্থা দিয়ে দিন।


ছবি ১৩, চুলার আগুন বাড়িয়ে দিন।


ছবি ১৪, এবার কাঁচা মরিচ গোটা বা চিঁরে দিন।


ছবি ১৫, ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন।


ছবি ১৬, কিছুক্ষন এভাবে ঢেকে রাখুন। ঝোল উঠে শান্ত হয়ে যাবে! সকালে গরম করে পরিবেশন করুন।


ছবি ১৭, সকালে আবার গরম করে নিন এবং পরিবেশন করুন।


ছবি ১৮, দারুণ স্বাদ।

তবে ইচ্ছা হলে এই রান্নায় আরো নানা পদের মশলা দিতে পারতেন, আমি বলি কি দরকার। সাধারন মশলায় যদি এত স্বাদ করা যায়, তবে আর কি দরকার।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

নেহারীর আরো একটা রান্না আছে, কিছু মশলা বাড়িয়ে। দেখে আসতে পারেন।
http://wp.me/p1KRVz-S

11 responses to “রেসিপিঃ নেহারী (কম মশলায় সকালের নাস্তায়)

  1. Nehari….holo mojadar kari…
    Somoy pele aisen amader bari…

    Liked by 1 person

  2. Yes , bhai , waiting for you. Pls come in Mirpur-6,

    Liked by 1 person

  3. ভাইয়া, নেহারির সিম্পল রেসিপির জন্য ধন্যবাদ। যারা পায়ের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে তারা যদি সপ্তাহে একবার নেহারি খায় উপকার পাবে। তবে রেগুলার খেলে দ্রুত মুটিয়ে যাবার আশঙ্কা রয়ে যায়।

    Liked by 2 people

  4. আহা নেহারী দিয়ে গরম মচমচে পরোটা! কী যে সুস্বাদু! এখন তো কোলস্ট্রলের ভয়ে নেহারী খাওয়া ছেড়েই দিয়েছি।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ আপা,
      আজ সকালেও নেহারীর সাথে পরোটা খেয়ে অফিসে গেলাম। সারাদিন ভাল জোর পেয়েছি। মাঝে মাঝে বা বছরে এক দুইবার না খেলে কি চলে? এখন ঘরে ছেলের বউ এসেছে, তাকে না খাওয়ালে চলবে কি করে? হা হা হা।
      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  5. খাব আর burn করে ফেলবো কিন্তু খাওয়া ছাড়বো না. কোরবানী ঈদ এর মাংশ রকমারি তে থাকতে হবে ই তার পর বছরে খেলাম না হয় একবার দুবার

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s