Gallery

রেসিপিঃ করলা চিংড়ি মাখামাখি


আমি আমাদের দেশের মা, মেয়ে, স্ত্রীদের বলব, আপনারা আপনাদের পাশে থাকা ছেলেদের দিয়েও রান্নাঘরে কিছু কাজ করান, নিজ হাতে কিভাবে রান্না করতে হয় তার টেকনিক শিখিয়ে দিন। এতে আপনার সুবিধা হবে, আপনি যখন অসুস্থ্য হবেন তখন আর আপনাকে বাড়তি টেনশন করতে হবে না! আপনার পাশে থাকা ছেলেটা আপনার জন্য রান্না করে টেবিলে সাজিয়ে রাখবে। তা ছাড়া আপনি যদি আপনার পাশে থাকা ছেলেটাকে রান্নায় কাজে লাগান তবে তার বাইরে বের হয়ে আড্ডা বা এই বাজে বন্ধুদের সাথে/জাতীয় আড্ডা থেকে দূরে থাকবে এবং ছেলেটার জীবন সুন্দর হবে এবং ছেলেটা তার ভবিষ্যতে আনন্দে সময় কাটতে পারবে এমন কি সে যদি কোন হোটেল ব্যবসায় (খাবার দবারের) আসে, সেটাও কাজে লাগবে। আর প্রবাসী হলে তো কথাই নেই, নিজের খাবার নিজে রান্না করে খেয়ে সুস্বাস্থ্য নিয়ে থাকতে পারবে।

সত্য বলতে কি, আমাদের দেশের বর্তমান সময় হচ্ছে আমার দেখা সব চেয়ে বাজে সময়! এখন খারাপ হয়ে পড়া তুড়ি দেয়ার মত ব্যাপার! বাজে সঙ্গে পড়ে ছেলেরা কিভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা আমি আমার মহল্লায় দেখি। নেশা/ড্রাগ সহ কত আজে বাজে ঘটনায় আজকালকার সন্তানরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তা ভাবলে মাথা উলটা হয়ে যায়। সুশাসনের অভাবে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এমনিতেই ধুকে ধুকে মরছে। ফলে আপনার প্রিয়জনকে আপনিই ভালবেসে আলগে রাখুন, এটা এখন আপনার দায়িত্ব। সন্তান বা প্রিয় মানুষকে আপনিই ভালবেসে কাছে রাখুন। এতে আপনারই মঙ্গল। আপনার প্রিয় মানুষটা হারিয়ে গেলে, আপনারই যাবে। এই কষ্ট দুঃখ দুনিয়ার আর কেহ বুঝবে না! সুতারাং ভেবে চলুন।

চরম সত্য হচ্ছে, আমাদের দেশের মায়েরা, মেয়েরা, স্ত্রীরা, ছেলেদের রান্নাঘরে প্রবেশ করতে দেন না। এটা আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকেও বুঝি, আমি এখনো সহ্য করি! হা হা হা! একটা ছেলে রান্নাঘরে গেলে কি কি সমস্যায় পড়েন, কত আজে বাজে কথা তাকে শুনতে হয়! তবুও আমি আমি ছেলেদের বলবো, আপনরা নিজেরাও চেষ্টা করুন। একদিন আপনার এই চেষ্টা আপনাকে বাঁচিয়ে দেবে। আপনি নিজেও আপনার সময় কাটাতে পারবেন, আপনার মত করে। প্রথম প্রথম আপনি আপনার মা, বোন কিংবা স্ত্রী থেকে অনেক আজে বাজে মন্তব্য শুনবেন, এই কান দিয়ে শুনে ওই কান দিয়ে বের করে দিন! দিন শেষে আপনার জয় নিশ্চিত!

যাই হোক, আজ চলুন একটা চমৎকার রেসিপি দেখি। ছেলেদের জন্যই চরম সুন্দর এবং সহজ করে রান্না। তবে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, মাঝের কয়েকটা ছবি মিসিং হয়েছে, আসলে চারটে ছবি ছাড়া বাকি গুলো হারিয়ে ফেলেছিলাম। কম্পুটারে কপি করার সময় কি করে যেন হারিয়ে গিয়েছিল! কিছুতেই আর খুঁজে পাই নাই। রেসিপিটা দেয়া যেত না, আবার যেয়ে কয়েকটা ছবি তুলেছি! রেসিপিটা চরম স্বাদের বলেই লোভ সামলাতে পারলাম না!

পরিমান ও উপকরনঃ (আনুমানিক এক মাঝারি বাটি)
– করলা ৪০০ গ্রাম অনুমানিক (সিদ্ধ করার পর যা থাকে)
– চিংড়ি, ১০০ গ্রাম বা কম বেশি (হিসাব ছাড়া)
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি দুইটা
– মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচের কম
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচের কম
– কাঁচা মরিচ, ২/৩ টা
– লবন, পরিমান মত
– তেল, ৮/১০ টেবিল চামচ (কম তেলে রান্না ভাল, তবে রান্না করার সময়ে খেয়াল বেশী রাখতে হয়!)
– পানি, করলা সিদ্ধ করতে পরিমান মত

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, সামান্য লবন দিয়ে করলা সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন, প্রয়োজনে হাতের মুষ্টি দিয়ে চাপ দিয়ে দিয়ে নিন।


ছবি ২, পেঁয়াজ কুঁচি, মরিচ গুড়া, হলুদ গুড়া নিন।


ছবি ৩, চিংড়ি নিন এবং সব একটা বোলে নিন।  তেল ছাড়া উপরের সব কিছুই।


ছবি ৪, লবন দেয়ার দরকার নেই, কারন লবন দিয়ে করলা আগেই সিদ্ধ করা হয়েছে। এভাবে সব কিছু মেখে নিন এবং মিনিট ২০/৩০ রেখে দিন।


ছবি ৫, এই ধরনের ভাঁজি লোহার কড়াই এবং এই ধরনের খুন্তি দিয়ে করা উচিত।

(এখান থেকে কয়েকটা ছবি মিসিং আছে। তবে আশা করি ২/৩ ছবি মিসিং হলেও আপনারা যারা আমার রেসিপি নিয়মিত দেখেন তারা বুঝে যাবেন।)

  • কড়াইতে তেল গরম করে করলা চিংড়ি মিক্স দিয়ে মাধ্যম আঁচে রান্না করুন। চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না। কিছু সময়ের জন্য ঢাকনা দিয়ে রাখুন। মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিন। তেল কম দিলে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। ভাঁজাটা আপনার মনের মত হলে লবন দেখে নামিয়ে ফেলুন। ব্যস।


ছবি ৬, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ৭, গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন (ভাত রান্না না জানলে এই রেসিপি দেখতে পারেন)


ছবি ৮, আশা করি এমন এক বাটি ফিনিশ করা আপনার জন্য কোন ব্যাপার না! তবে খাবার সময় দেখে শুনে আশে পাশে কেহ থাকলে তাকে বাদ দিয়ে সব টুকুই নিজের মত করে খেয়ে নিবেন না! এটাই মানবিকতা, এটাও ভালবাসা! দুই দিনের দুনিয়ায়!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন, আমরা আসছি আরো আরো মজাদার রান্না নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

3 responses to “রেসিপিঃ করলা চিংড়ি মাখামাখি

  1. Tried to download the app from android market but could not find the app. Has it already become unavailable?

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s