Gallery

রেসিপিঃ বাইম মাছ ভুনা (খুব কম মশলায় অসাধারন রান্না)


প্রতিদিন অনেক রেসিপি প্রিয় বন্ধুরা আমাকে মেসেজ, মেইল বা কমেন্টে অনেকে অনেক কিছু বলে থাকেন। সব সময়ে জবাব দেয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। তবে কিছু কিছু কথা মনে অনেক আনন্দ এনে দেয়। গত কয়েকদিন আগে এমনি পাশাপাশি এক ভাই এবং দুই বোন লিখেছেন, যা পড়ে অনেক আনন্দিত হয়েছি।

আল আমিন ভাই লিখেছেন, “ধন্যবাদ ভাই আজ আমার উপর রান্নার বাড় পরল এটা না পরলে কি যে হত!”

বোন ইভা লিখেছেন, “অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। রান্না করতে আমার অনেক সময় লাগতো। কিন্তু আপনার রান্না দেখে বিশেষত টেকনিক গুলো ফলো করে এখন রান্না অল্প সময়ে সুস্বাদু করে ফেলতে পারি। খুবই মজার অনুভূতি।”

বোন নাজমা কয়েকদিন ধরে নুতন কোন পোষ্ট না দেখে লিখেছেন, “bhaiya shorir valo to? family’r sobai valo acheto?……kono somossa hoini to? ……….por por koyekdin apner post na dekhle monta anchan kore……vabhi kono bipod apod holo nato…………adoa kori allah apnader amader sobaike valo rakhuk….shushtho rakhuk।”

ধন্যবাদ রেসিপি প্রিয় বন্ধুরা। আপনাদের ভালবাসা পেয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সবাইকে সত্যি আমি অনেক মিস করি। প্রতিদিন নুতন পোষ্ট না দিতে পারলে আমারও মনে অনেক কষ্ট জমে যায়। আমিও চাই প্রতিদিন নুতন নুতন রেসিপি লিখে আপনাদের চমক দিতে। কিন্তু সত্য হচ্ছে আজকাল প্রায় সব কিছুই আমার বিপক্ষে চলে যাচ্ছে! সারা দিনে আমার লিখার সময় হচ্ছে রাত ১২টা থেকে ২টা সেই সময় টুকুও লিখার কাজে ব্যয় করতে পারছি না! কোথায় যেন আটকে যাচ্ছি! এত চাপে মোটামুটি দিশেহারা হয়ে পড়ছি! হা হা হা।

লেখালেখি, খুব একটা সহজ কাজ নয়! লেখালেখি যদি খুব সহজ কাজ হতো তবে সবাই বিবাহের পর লিখতে পারতো! হা হা হা, বিবাহের পর গল্প বুকে জমা হয়ে যায় অনেক তবে খাতা কলমে তা বের করতে পারে কয়জনে! বিবাহের পর গল্প গুলো পেটে জমিয়েই অনেকে নিঃস্ব রিক্ত হয়ে এক সময়ে পরপারে পাড়ি দেন, আমিও সেই দলেই! এক দিন হারিয়ে যাব, অনেক কথা না বলেই! হা হা হা, আমি লিখতে চাই, আমি গল্প করতে চাই, প্রান খুলে! ভেবে, ভাবে, দিন চলে যাচ্ছেই!

জীবনকে যতভাবে সাজাতে চেয়েছি, সাজে নাই! জীবন তার মত করে সেজে উঠেছে! আমার বোঝা ও দেখানো পথে জীবন কখনো হেঁটে বেড়ায় নাই বরঞ্চ জীবনই আমাকে তার মত করে অলিগলি দিয়ে ঘুরিয়ে তার গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে! শুধু মনে হয়, জীবন আমাকে কলুর বলদ পেয়েছে!

চলুন, আজ সাধারন একটা রেসিপি দেখি। এই রেসিপিটা খুব সাধারন এবং সহজ, ঘরে থাকা সাধারন মশলা দিয়েই রান্না, বাইম মাছ ভুনা। আমি মনে করি, বাইম মাছ এই দেশের প্রায় পুরুষেরাই পছন্দ করেন, মেয়েরা মায়েরা বোনেরা বাইম মাছ একটু কম পছন্দ করেন, কেন তা বলতে পারবো না! তবে এটাও একটা গবেষনার বিষয় হতে পারে!

পরিমান ও উপকরনঃ
– বাইম মাছ, বড় সাইজ, ৩০০ গ্রাম হতে পারে (দুই জনের জন্য রান্না ছিল)
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি তিনটা
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– আদা বাটা, এক চা চামচ
– মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচের কম
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ (প্রথমে এক চিমটি)
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা, চিরে
– লবন, পরিমান মত
– তেল, ৬/৭ টেবিল চামচ (কম তেলে রান্না ভাল, তবে রান্না করার সময়ে খেয়াল বেশী রাখতে হয়!)
– ধনিয়া পাতার কুঁচি, ইচ্ছানুসারে

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, বড় বাইম মাছের চামড়া তুলে নেয়াই উত্তম এবং মাছ মাটির হাড়িতে সামান্য লবন ধুয়ে নেয়াই ভাল। মাছ ধুয়ে নিয়ে পানি ঝরিয়ে এক চিমটি লবন ও এক চিমটি হলুদ গুড়া দিয়ে মাখিয়ে কিছুক্ষন রাখা যেতে পারে, এই ফাঁকে অন্য কাজ বা মশলা গুলো হাতের কাছে রাখা যেতে পারে।


ছবি ২, কড়াইতে তেল দিয়ে গরম করে এবার মাছ গুলো সামান্য ভেঁজে নেয়া যেতে পারে।


ছবি ৩, মাছ ভেঁজে তুলে রাখুন। মাছ ভাঁজলে মাছ শক্ত হয়ে যায় এবং রান্নায় মাছের শেফ ঠিক থাকে, ভাঙ্গে না! অনেকটা হোটেল স্টাইল! হা হা হা, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাজা মাছ ভেঁজে রানা করা পছন্দ করি না, তবে মাছ কিছুটা নরম হলে ভাঁজা সাপোর্ট করি! হা হা হা, তবে অনেকে মাছ না ভেঁজে রান্না করলে মুখেই তুলতে চান না!

মুল রান্নাঃ

ছবি ৪, সেই কড়াইতেই, সেই তেলেই পেঁয়াজ কুঁচি এবং কাঁচা মরিচ চিরে ভাঁজুন।


ছবি ৫, পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে এলে আদা ও রসুন বাটা দিন এবং ভাঁজুন।


ছবি ৬, ভাঁজুন। আগুন কম থাকবে, লবন চিটিয়ে দিন। (লবন আগে দিয়েই ভাঁজা যেত, এই রান্নায় লবন একটু পরে দেয়া হয়েছে)


ছবি ৭,  এবার মরিচ ও হলুদ গুড়া দিন।


ছবি ৮, ভাল করে মিশিয়ে নিন। ভাঁজুন।


ছবি ৯, এবার আগে ভেঁজে রাখা বাইম মাছ দিয়ে দিন। ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ১০, মাছ রাখার প্লেট ধুয়ে হাফ কাপের কম পানি দিন।


ছবি ১১, চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না। আগুন একদম নিন্ম করে দিন।


ছবি ১২, ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে থাকুক কিছুক্ষন। মাঝে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।


ছবি ১৩, ওহ, দারুণ। মাছ সিদ্ধ হয়ে মশলা লেগে যাবে।


ছবি ১৪, ঝোল কমাতে আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন। আর ঝোল রাখতে চাইলে, কোন কথা নেই!


ছবি ১৫,  এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন।


ছবি ১৬, মিশিয়ে নিন। (আমি ঝোল কমিয়ে ফেলেছি)


ছবি ১৭, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। সাদা গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন। আশা করি আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই পছন্দ করবেন। স্বাদ বলে বুঝানো যাবে না, পুরো বাটি আমি এবং বুলেট শেষ করেছি!


ছবি ১৮, সেই রাতের পরিবেশনা, করলা ভাঁজি, বাইম মাছ ভুনা এবং বেগুন চিংড়ি, মাখামাখি!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন, আমরা আসছি আরো আরো মজাদার রান্না নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ বাইম মাছ ভুনা (খুব কম মশলায় অসাধারন রান্না)

  1. ভাইয়া, দিলেন তো মনটা খারাপ করে! কতোদিন বাইম মাছ খাই না। কাটতে পারি না বলে কেনা হয় না।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s