Gallery

রেসিপিঃ ডিম ও আলু (টক দৈ যোগে ভুনা)


আমাকে একটা আফসোস নিয়েই হয়ত মরতে হবে! হ্যাঁ, সেই আফসোসটা হচ্ছে ভাল লিখতে না পারা। আমার মনের মধ্যে অনেক কথা আসে, যা লিখতে পারলে নিজকে হালকা বোধ করতাম কিন্তু আমি সময়ভাবে তা লিখতে পারছি না। লেখালেখিটা সহজ কাজ নয় আবার সহজ কাজ বটেই! মুলত লেখালেখির জন্য একটা পরিবেশ বা মানষিক অবস্থা লাগে যা আমি আর আজকাল পাচ্ছি না! আমার চার পাশের কেহ আর এতটুকু বুঝতে বা সময় দিতে চাইছে না যে, আমি লিখি! মুলত লেখালেখিটা আমার মৌলিক পেশা নয় বলে হয়ত কেহ বুঝতে চাইছে না কিন্তু লেখালেখিটা যে আমার মনের খোরাক তা তাদের বুঝাই কি করে! হা হা হা।

সে যাই হোক, আপনাদের কাছে মাঝেমাঝে মনের কিছু কথা লিখে যাই। আপনারা যারা আমাকে ভালবাসেন তাদের সাথে কথা বলে আমি আরাম পাই। জগতে কেহ আমাকে মনে রাখুক আর নাই রাখুক, আমার রেসিপি পাঠক/পাঠিকারা আমাকে মনে রাখবেন এটা আমি মনে করি। রেসিপি লেখার পাশাপাশি আমি এইজন্যই গল্প করে যেতে চাই। আমাদের দৈনিক জীবনে যা কিছু ঘটে তার সাথে অনেকের অনেক ঘটনার মিল আছে বলে এই সব গল্প করা চলে। মানুষের এই সামান্য জীবনে, কত কি আফসোস নিয়েই চলে যেতে হয়। এই দুনিয়ার কত মানুষের কত দীর্ঘশ্বাস লুকিয়েই আকাশে মিশে যায়!

যাই হোক, চলুন, আজ একটা মজাদার রান্না দেখি। এই ধরনের রান্না প্রায়ই আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে হয়ে থাকে। আমাদের মা, বোন, স্ত্রীরা ঘরে তেমন কিছু না থাকলে এই ধরনের রান্না করে ফেলেন। তবে এমন রান্না আমরা আগেও আপনাদের দেখিয়েছি। আমাদের ডিম বিষয়ক সেকশনে এমন রান্না আগেও অনেক আছে তবে এই রান্নার বিশেষত্ব হচ্ছে, এই রান্নায় টক দৈ ব্যবহার করা হয়েছে, যা রান্নায় একটা আলাদা স্বাদ এনে দিয়েছে। হ্যাঁ, ডিম আলু ভুনা টক দৈ যোগে। চলুন, দেখে ফেলি।

পরিমান ও উপকরনঃ
– গোটা ৩/৪ ডিম (আমরা ৩টা নিয়েছিলাম)
– গোল আলু, কয়েকটা, আমরা ১৩/১৪টা নিয়েছিলাম (এগুলো বগুড়ার আলু ছিল)
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি একটা
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচের কম
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– হাফ কাপ টক দৈ
– লবন, পরিমান মত
– তেল, ১০/১২ টেবিল চামচ (কম তেলে রান্না ভাল, তবে রান্না করার সময়ে খেয়াল বেশী রাখতে হয়!)
– জিরা গুড়া, হাফ চা চামচের কম বেশী।

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১, আলু ডিম সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন।


ছবি ২, সামান্য হলুদ ও লবন দিয়ে মেখে কিছু সময় রাখুন।


ছবি ৩, এবার তেল গরম করে আলু ও ডিম ভেঁজে নিন।


ছবি ৪, আলু ও ডিম ভেঁজে তুলে রাখুন, তবে ভাঁজতে সাবধানে।

মুল রান্নাঃ

ছবি ৫, এবার মুল রান্নায় আসুন। সেই কড়াইতেই প্রথমে পেঁয়াজ কুঁচি ভাঁজুন, সামান্য লবন দিতে ভুলবেন না। একটু পরেই রসুন বাটা দিয়ে দিন এবং আরো ভাঁজুন। পেঁয়াজ হলদে হয়ে গেলে সামান্য পানি দিয়ে দিন।


ছবি ৬, ভাল করে মিশিয়ে এবার মরিচ ও হলুদ গুড়া দিন। ভাল করে কষিয়ে নিন।


ছবি ৭, এবার টক দৈ দিয়ে দিন।


ছবি ৮, ভাল করে মিশিয়ে নিন। ব্যস, ঝোল হয়ে গেল।


ছবি ৯, এবার ভেঁজে তুলে রাখা আলু ও ডিম দিয়ে দিন।


ছবি ১০, মিশিয়ে নিন, আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে।


ছবি ১১, চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না। আগুন একদম নিন্ম করে দিন। আস্ত কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিন।


ছবি ১২, কম আঁচে থাকুক কিছুক্ষন। মাঝে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।


ছবি ১৩, ঝোল শুকিয়ে এমন অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ১৪, এবার স্বাদ আরো বাড়াতে জিরা গুড়া (ভেঁজে গুড়ো করে নেয়া) ছিটিয়ে দিন।


ছবি ১৫, মিশিয়ে নিন। ব্যস। আগুন বন্ধ করে দিন।


ছবি ১৬, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৭, সাদা গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন। আশা করি আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই পছন্দ করবেন। আমরা সবাই পছন্দ করে খেয়েছি, ভাল লেগেছে।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন, আমরা আসছি আরো আরো মজাদার রান্না নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

16 responses to “রেসিপিঃ ডিম ও আলু (টক দৈ যোগে ভুনা)

  1. ব্যালট এর ডিম কোই ? ডিম তো ৩ টা ।

    Like

  2. এই রান্নাটা ট্রাই করবো, একটা প্রশ্ন: ডিম থেকে আলু বেশী হয়ে গেলে কোন সমস্যা হয় না!!!

    Liked by 1 person

  3. খুব সহসা টেরাই দিমু এই রেসিপি। অনেক ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।

    Liked by 1 person

  4. Dim amar khub priyo. Tai ei rannata valo legeche.

    Liked by 2 people

  5. bhaiya shorir valo to? family’r sobai valo acheto?……kono somossa hoini to? ……….por por koyekdin apner post na dekhle monta anchan kore……vabhi kono bipod apod holo nato…………adoa kori allah apnader amader sobaike valo rakhuk….shushtho rakhuk

    Liked by 1 person

  6. অনেক মজার রেসিপি। ডিমের সাথে মানানসই সাইজের আলু নির্বাচন খাবারটিকে অনেক লোভনীয় করে তুলেছে।
    শুভেচ্ছা রইলো ভাই।

    Liked by 1 person

  7. I’m gonna try this tomorrow. যদিও আলু খাওয়া নিষেধ

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ আপনাকে।
      আমি নিজেও আলু কম খেতে চাই কিন্তু পারছি কই। আলু ছাড়া আমাদের দেশের পরিবার গুলো চলতে পারে না। যে কোন তরকারীতে আলু না হলে ভাল লাগে না। কিংবা দিতেই হয়। পরিবারে কেহ কেহ আলু খুব পছন্দ করে।
      যাই হোক, আশা করি একদিন রান্না করে দেখবেন।
      শুভেচ্ছা নিন।

      Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s