Gallery

আড্ডাঃ কর্মজীবি পুরুষের বিকেলের নাস্তা!


কর্মজীবি (চাকুরী/ব্যবসাহী/আমলা/কামলা) পুরুষেরা (কর্মজীবি নারীদেরও যোগ করা যেতে পারে) বিকাল সন্ধ্যায় একবার নাস্তা করে থাকেন, এই নাস্তা না করলে কর্মজীবি পুরুষেরা কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবেন না বলেই আমি মনে করি। সকালে বাসা থেকে সামান্য নাস্তা (যারা বাসা থেকে নাস্তা করে বের হতে পারেন তারা এই দুনিয়ার সৌভাগ্যবান পুরুষ, বেশীভাগ পুরুষই নাস্তা না করে বের হন বলে আমি বিশ্বাস করি) করে বের হয়ে দুপুরে কোথায় কে কিভাবে খাবার খান উপরওয়ালাই জানেন! কর্মজীবি পুরুষেরা অনেক সময়ে এই দুপুরের খাবার নিয়ে কিছু বলতে চান না, কারন পকেটে টাকা না থাকলে অনেক সময়ে না খেয়েও বসে থাকেন (এমন আমি অনেক দেখেছি!) দুপুরে কেহ অফিসে খান, কেহ হোটেলে খান, কেহ কোন মেসে খান বলা চলে মোটামুটি জীবন চালিয়ে নেয়া! তবে বিকেল সন্ধ্যায় অফিস বা কর্ম শেষে বাড়ির পথে নামতে রাস্তায় কোন না কোন হোটেলে কিছু খেয়ে নেন। কারন বাসায় ফেরার সময় বাসে বা হেঁটে তিনি নিজেও জানেন না যে, কখন তিনি বাসায় পৌছাবেন! আর শরীর ঠিক না রাখতে পারলে, পুরা পরিবারের অবস্থা কি হবে এই ভেবে তিনি সব কিছু ভুলে যান! খেতে হয়ই! হা হা হা…

ফলে শহরের হোটেল গুলো চালু থাকে বলে আমি বিশ্বাস করি! আপনি এই পোষ্ট পড়ছেন এবং আপনি যদি পাঠক হয়ে থাকেন তবে নিশ্চয় আমার সাথে আপনারা এক মত হবেন। বিকেল এবং সন্ধ্যায় যে সব হোটেল চালু থাকে তাতে যারা খেতে বসেন তাদের সবাই প্রায় পুরুষই! এই সময়ে না খেয়ে পুরুষদের উপায় নেই! যাই হোক, কথা বললে অনেক বলা যাবে। আমি নিজেও মাঝে মাঝে অফিসে বা বাড়ীর পথে নামলে এই বৈকালিক বা সন্ধ্যাকালীন নাস্তা করে নেই। আজ আপনাদের আমি এই নাস্তার ছবি দেখাবো!

তবে আগেই বলে নেই, এই নাস্তা নির্ভর করে পকেটের টাকার উপর। বেশী টাকা থাকলে ভাল হোটেল, টাকা কম থাকলে পথের ধারের চা বিস্কুট কিংবা ডালপুরি! আমাকে অফিস থেকে বের হতে অনেক দিন দেরী হয়, সেই দিন গুলোতে অফিসে কিছু আনিয়ে নেই, নতুবা কখনো নিজে যেয়ে খেয়ে আসি। তবে বেশির ভাগ দিন একবারেই বের হয়ে বাস ধরতে প্রায় অর্ধ কিমি হেঁটে যেতে হয়, এই সময়ে পথের ধারে পকেটের অবস্থা বুঝে কিছু খেয়ে নেই! বস্তুত আমি অনেক সময়েই শান্তি নগরের নানা মাঝারি হোটেলে এই নাস্তা করে থাকি।


নাস্তা খেতে বসেই আগে পানির খবর নিয়ে নেই!


তেল ছাড়া পরোটা আমার ফেবারেট!


কম তেলে রান্না করা ডাল ভাজির মিশ্রন আমার পছন্দ তবে টাকা বেশী থাকলে মাঝে মাঝে অন্য কিছুও খেয়ে থাকি, কাবাব টাইপ কিছু!


চায়ের ব্যাপারটা আমি ফুটপাতের দোকানেই পছন্দ করি। যেভাবে চিনি কম দিয়ে সুন্দর করে দিতে বলি তারা তাই করেন। গরম পানি দিয়ে কাপ ধুয়ে দেয়াও চলে!


বলা ভাল যে, দুধ চা আমার পছন্দ!

পুরুষেরা যদি বাইরে না খেত তবে দুনিয়ার সব হোটেল বন্ধ হয়ে পড়ত অনেক আগেই! তবে পুরুষেরা এই খাবারের কথা সাধারণত পরিবারের মধ্যে কাউকে বলেন না, এমন কি স্ত্রী সন্তানকেও বলেন না (একটা ভাবে থাকেন বটেই)! পুরুষেরা এই খাবার না খেলে তিনি নিজেও টিকবেন না, এটা তিনি নিজে জানেন বলেই খেয়ে থাকেন।

তবে পুরুষেরা এই বৈকালিক খাবার খেয়ে থাকেন তার আর্থিক সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখেই কারন বাসায় ফিরে যেতে, হাতে কিছু নিয়ে যেতেই হবে, মা, বোন, স্ত্রী কিংবা সন্তানের জন্য কিংবা সংসারের কোন নিত্য প্রয়োজনীয়  কিছু মাছ, মাংস, সবজি কিংবা প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি! আর তা না হলে কোন ফলাদি, দেশী কিংবা বিদেশী, তা না হলে অন্তত কিছু তাৎক্ষনিক খাবার!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s