Gallery

রেসিপিঃ জালি/চাল কুমড়ার সুস্বাদু রান্না (একবার খেলে আবার খেতে মন চাইবেই)


গল্প ও রান্না’য় আজকাল আর তেমন একটা গল্প করতে পারছি না। আসল ব্যাপার হচ্ছে সময় এবং সুযোগ! সামান্য একটু বা একটা গল্প/জীবন কাহিনী লেখার জন্য যে মনোভাবনার দরকার সেই ভাবনার ধারে কাছেও যেতে পারছি না! ঘরে স্ত্রী ও দুই পুত্র, বাইরে অফিস! মাথায় সারাক্ষন ভিন্ন চিন্তা, এই নিয়ে সামান্য লেখার চিন্তা করাও দায়! তবুও এগিয়ে যেতে চাই, জীবনবোধের কথা গুলো আপনাদের শুনাতে চাই। হ্যাঁ, কি করে একজন লেখক হয়ে উঠেন! লেখালেখি কি এতই সোজা কাজ! (নিজকে লেখক দাবী করছি না!)

বাঙ্গালী মাত্রই কবি (সাহিত্যিক) বলে আগে যে একটা কথা চালু ছিল সেটা এখন আর চলে কি না কে জানে! এখন আর বাঙ্গালীরা কবি নয়! এখন বাঙ্গালীরা বেঁচে থাকার চিন্তায়, টাকা রুজির চিন্তায় এতই মগ্ন যে, কে আর কবিতা লিখবে! আমার মনে হয় এজন্যই এখন দেশে লেখকের সংখ্যা কমে গেছে! হা হা হা! বিশেষ করে বাঙ্গালীরা বিবাহের পর এখন পুরো দমেই চোর, ডাকাত, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, প্রতারক হয়ে পড়ছেই! (কারন গুলো নিয়ে আলোচনা না করাই ভাল তা হলে থলের বিড়াল বের হয়ে পড়বে! ক্যাট আউট ফ্রম ব্যাগ)

আমি নিজেও এই বৃত্ত থেকে নিজকে বের করে আনতে পারছি না! হা হা হা, চলুন কথা না বাড়িয়ে আরো একটা মজাদার রেসিপি দেখে ফেলি! কি আর করা, এই তো জীবন, মেনে নেয়া ছাড়া আর কি উপায় আছে! হ্যাঁ, বলছিলাম কি, খাবার বা খাদ্য! সারা দিনে যাই করেন না কেন খাবারের চিন্তা ছাড়া আর নুতন কি ভাবনা থাকে! নিজের ও পরিবারের খাবারের কি ব্যবস্থা হবে এই নিয়েই তো সারা দিন কেটে যায়!

আজকে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি, খব সহজ এবং সাধারন রান্না, জালি কুমড়ার সুস্বাদু রান্না। জালি কুমড়াকে আমরা ছোট বেলায় দেখেছি অনেক, ঘরের চালে হত (এখন মাটিতেই হয়!) ফলে একে বলা হত চাল কুমড়া। সে চাল কুমড়াকে এখন সবাই জালি বলে ডাকে! কচি থাক্তেই রান্না করে খেয়ে থাকে! যাই হোক, চাল কুমড়ার ঘ্রাণটা একটু ভিন্ন বা তেজী বলে আমরা খেতে চাইতাম না, এখন পেলে ছাড়ি না! হা, সবই বয়স। একেক বয়সে এক এক খাবার দারুন লাগে! অভিজ্ঞতায় বলি, জালি কুমড়া ৪৫ থেকে ৫৫ বয়সি মানুষের কাছে অসাধারন এক তরকারী!

জালি বা চাল কুমড়া বেশ বড় করে আগে মোরব্বা বানানো হত, যা এখন আর দেখা যায় না। এখন জালি ছোট থাক্তেই খেয়ে সাবাড়! চলুন, আগে রান্নাটা দেখে ফেলি!

পরিমান ও উপকরনঃ (পরিমান আপনিও অনুমান করতে পারেন)
– জালি বা চাল কুমড়া, ৫০০ গ্রাম (অনুমানিক, কচি)
– মুরগীর গোসত, ৩০০ গ্রাম (আনুমানিক, কম বেশি)
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি দুইটা

(নিন্মের মশলা মিক্স বাটি)
– এলাচি বাটা, দুই টা
– আদা বাটা, এক চা চামচ
– রসুন বাটা, হাফ চা চামচ
– জিরা বাটা, হাফ চা চামচ
– কাঁচা মরিচ বাটা, দুই চা চামচ
– ধনিয়া পাতা বাটা, দুই চা চামচ

– চিনি, হাফ চা চামচ

  • কাঁচা মরিচ, আস্ত, কয়েকটা
  • লবন (বুঝে শুনে, পরিমান মত, দুই ধাপে)
  • পানি, এক কাপ কম বেশি
  • তেল, ৬/৭ টেবিল চামচ, কম তেলেই রান্না ভাল

– ধনিয়া পাতার কুঁচি, একটু বেশী হলেই ভাল

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০


ছবি ১১


ছবি ১২


ছবি ১৩


ছবি ১৪, ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন। ঝোল একটু রাখুন ভাল লাগবে।


ছবি ১৫, আহ, পরিবেশনা!


ছবি ১৬, দেখেই শান্তি।


ছবি ১৭, এই রান্নাটা শিশুদের কথা মাথায় রেখে রান্না হয়েছে, সাধারণত শিশুরা এই ধরনের সবজি তরকারী খেতে চায় না বলে এভাবে বিশেষভাবে রান্না করলে খেয়ে মজা পাবে এবং খাবেই!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ জালি/চাল কুমড়ার সুস্বাদু রান্না (একবার খেলে আবার খেতে মন চাইবেই)

  1. ভাই কিছু প্রাসংগিক ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে চাই।
    ১। ছেলেরা সাধারনত রান্না করতে আগ্রহ পায় না। আমার পরিচিত গন্ডির মধ্যে এক আমি ছাড়া কোন ছেলে নাই যে কিনা রান্না করতে পছন্দ করে। আপনি কবে থেকে অনুধাবন করলেন যে রান্না-র উপরে আপনার স্পেশাল স্কিল আছে ?
    ২। কেউ একেবারে প্রথমেই শেফ বা ঘাগু রাধুনী হয়ে যায় না। করতে করতে ধীরে ধীরে হাত পাকা হয়। এছাড়া রান্নায় অন্য আরেকজন এর রান্নাকে ফলো করার টেন্ডেসি সবার থাকে। বিশেষ করে মায়ের রান্নার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারলেই নিজেকে সবাই স্বার্থক ভাবেন। আমি জানি আমি আপনার রান্নার পিছনে বিশেষ অবদান কার ? এ প্রশ্নে আপনি বলবেন, “মা” । তাই আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বিভিন্ন রকমের দেশি-বিদেশি রান্না শিখতে গিয়ে কে বা কাদের সাহায্য সবচে বেশি পেয়েছেন? বা এত কিছু জানার গোপন রহস্য কি????

    আপনি জেনে খুশী হবেন, আমি আপনার ব্লগের নিয়মিত রিডার। কোন নতুন রেসিপি জানতে হলে সরাসরি আপনার ব্লগে চলে আসি। এছাড়াও প্রতিনিয়ত আমি শিখছি এবং চেষ্টা করছি গুরুজনদের কাছ থেকে যতটা পারা যায় শিখে নেবার। রান্নার প্রতি আগ্রহের কারনে Chef হতে পারাটা ক্যারিয়ার লিস্টে শুরুর দিকে চলে এসেছে।

    অনেক সময় কোন রান্না জঘন্য হয়েছে আবার কখনো হয়েছে অমৃত। নিজের রান্না করা খাবার কাউকে তৃপ্তি নিয়ে খেতে দেখলে মনটা আসলেই ভরে যায়। তাই বুঝি আমার মা হাসিমুখে এত্ত রান্না কিভাবে করতে পারে। এমন কাউকে এখনও পাইনি যে বলেছে “আমার মায়ের কোন রান্নার থেকে আমারটা সবচে ভালো হয়”।

    . . . ইন্সপাইরেশন এর জন্য পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি সালাম। 🙂
    বিশাল এ লেখা কষ্ট নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

    Liked by 2 people

    • ধন্যবাদ মুস্তাফা ভাই,
      না, আমি রান্না মায়ের কাছ থেকে শিখি নাই, উনার রান্না দেখেছি। আমি এক সময়ে প্রবাসে ছিলাম, খাবারে অনেক কষ্ট করেছি। দেশে ফিরেও এই বিষয়ে নজর ছিল না, বাংলা টাইপ শিখে (অভ্রকে ধন্যবাদ) নানান ব্লগে লিখতে গিয়ে এক সময়ে বাংলায় রেসিপি লিখার কথা মনে পড়ে এবং আমি যেভাবে রেসিপি দিচ্ছি সেটা আর কেহ দেয় না বলে ভাবতে থাকি, কি করে প্রবাসী ব্যচেলর, বিবাহিত ব্যচেলরদের হেল্প করা যায়। এভাবেই শুরু, আস্তে আস্তে রান্না ঘরে প্রবেশ করি, স্ত্রীর কাছেই রান্না শেখা! (অবশ্য আরো অনেক কারন আছে, এখানে সব বলতে পারছি না! হা হা হা), এখনো তিনি হেল্প করেন তবে এখন পারি কিছুটা। রান্না হচ্ছে অভিজ্ঞতা, যত বেশি রান্না করা যাবে ততই শেখা যাবে। আমি এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি।

      ও , আরে একটা ব্যাপার মাথায় ছিলো, কি করে ছেলেদের রান্নায় আগ্রহী করে তোলা যায়! তবে এটা সত্য আমাদের দেশে ছেলেরা রান্না করে না, মেয়েদের কারনে। কারন স্ত্রী/ মা/ বোনদের সাথে রান্না ঘরে টিকে থাকা কঠিন কাজ বটেই!

      আমি টিকে গেছি! হা হা হা…

      হ্যাঁ, আমি আমার স্ত্রীকে সব সময়েই ধন্যবাদ দেই। তবে পাশাপাশি এটাও বলি, আমি আরো আরো সুযোগ চাই!

      আমার আম্মাও ভাল রান্না করতেন বিশেষ করে উনার কাজের ধরন এবং দ্রুততা এখনো আমার চোখে ভাসে। তিনি আমাকে সব সময়েই বড় টুকরা বা ভাল খাবার গুলো খাইয়েছেন।

      যাই হোক, চাল কুমড়া দিয়ে আমাদের অনেক গুলো আইটেম আছে, দেখে শুনে একটা রান্না করুন। আমরা সাথে আছি।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. আমার ২য় প্রশ্ন ছিলো, “মায়ের পর আপনার রান্নার গুরু কে/কারা?”

    ব্যপারটা কাকতালীয়। আমি চালডাল.কম থেকে অন্যান্য কেনাটা কাটা করে চিংড়ি শুটকি কিনলাম তাই আপনার ব্লগে এসেছি এইটা দিয়ে কি রান্না করা যায় দেখতে। এসে দেখি একদম ফ্রেশ পোষ্ট চাল কুমড়া নিয়ে। আর কি ভাগ্য!! কারন, শপিং লিস্ট এ চাল কুমড়া ও আছে !!!! 🙂

    Liked by 1 person

    • আবারো ধন্যবাদ আপনাকে,
      আশা করি আপনার উত্তর পেয়েছেন।

      আমি মনে করি রান্না হচ্ছে একটা ভালবাসা। আপনি আপনার প্রিয়জনের জন্য রান্না ছাড়া আর কি করতে পারেন! ভাল খাবার খাওয়াতে পারলেই তো সার্থকতা। আমি এটা মনে করি।

      রান্না একটু গুনের নাম, জানা থাকলে জীবন সুন্দর হয়, সময় কাটে আনন্দে।

      শুভেচ্ছা। আশা করছি, মাঝে মাঝে কমেন্ট করবেন, আপনাদের কমেন্ট গুলো আমাদের চলার পথের পাথেয়!

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s