গ্যালারি

রেসিপিঃ গার্লিক নান (ঘরেই হোটেলের মজা)


নানা রুটির খামির সহ নানান আইটেম আপনাদের আগেও দেখানো হয়েছে, তারই অংশ হিসাবে চলুন আজ গার্লিক নান রুটির রেসিপি দেখে নেই। বিষয়টা তেমন কঠিন নয়, নান রুটি আসলে এখন ঘরেই সবাই বানিয়ে খেয়ে থাকেন। তবে হোটেলে এই ধরনের রুটি বানিজ্যিক ভাবে বড় চুলায় (মটকা টাইপ) হয়ে থাকে অনেক কাষ্টমার এক সাথে মেনেজ করার জন্য (এর বিকল্প নেই)। তবে ঘরে বানালেও তার চেয়ে কম স্বাদ হয় না এবং আশা করি পরিবারের সবাই পছন্দ করবেনই।

চলুন দেখে ফেলি, তবে আগের নানের খামিরের চেয়ে এই খামিয়ে একটি উপকরন বেশী দেয়া হয়েছে যাতে করে নানা আরো ফুরফুরে হয়। হ্যাঁ, সেটা হচ্ছে পরিমান মত টক দই। স্বাদ বেড়ে যাবে কয়েক গুন এবং নানা রুটির ভিতরটাও বেশ ফুরফুরে হয়ে উঠবে।

উপকরনঃ (আমরা অনুমান দেখিয়ে দিলাম এখন আপনি যত গুলো বানাবেন সেই অনুসারে উপকরণ বাড়িয়ে কমিয়ে ব্যবহার করবেন)
– ময়দা, তিন কাপ (পাতলা করলে ৯ টা হতে পারে আর বড় ও মোটা করলে ৬ টা হবে)
– ইষ্ট, তিন চা চামচ
– চিনি, দুই চা চামচ
– লবন, হাফ চা চামচ বা কম (তিন চিমটি)
– টক দই, হাফ কাপ
– সয়াবিন তেল, হাফ কাপ
– পানি, কুসুম গরম, পরিমান মত
– গার্লিক, ৬/৭ কোষ (প্রথমে আস্ত অবস্থায় টেলে নিয়ে থেতো করে নিতে হবে এবং সামান্য লবন দিয়ে মশিয়ে নিতে হবে)
– ধনিয়া পাতার কুঁচি, দেখতে সুন্দর দেখানোর জন্য, সামান্য
– মাখন, পরিমান , উপরে লাগিয়ে দেয়ার জন্য

প্রনালীঃ

ছবি ১, কাই বানানোর বাটিতে একে একে সব উপকরণ নিন। ( চামচে ইস্ট) ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ২,এবার টক দই দিন।


ছবি ৩, মিশিয়ে নিন।


ছবি ৪, এবার আস্তে আস্তে কুসুম গরম পানি দিন এবং মাখাতে থাকুন। এক সাথে বেশী পানি দিবেন না।


ছবি ৫, মাখুন।


ছবি ৬, এবার হাফ কাপ তেল দিন। মাখুন।


ছবি ৭, এবার ঢাকনা দিয়ে ঘন্টা দুয়েকের জন্য রেখে দিন, সাধারন তাপমাত্রায়।


ছবি ৮, কাই ফুলে এমনি অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ৯, এবার অনুমান করে একটা গোলা নিন এবং হাত দিতে টেনে আপনার ইচ্ছানুযায়ী সাইজ করুন, প্রয়োজনে আলাদা ময়দার গুড়া ব্যবহার করুন, যাতে হাতে না লেগে যায়।


ছবি ১০, এবার ছেঁচা রসুন (প্রিপারেশন পরিমানে বলা হয়েছে) ছিটিয়ে দিন, সাথে দেখতে সুন্দর করতে কিছু ধনিয়ার কুঁচি দিতে পারেন (এটা আপনার ইচ্ছা!)


ছবি ১১, এবার নন স্টিকি তাওয়া গরম করে তাতে এই নানা সেঁকে নিন।


ছবি ১২, তাওয়াতে কোন তেল দিবেন না।


ছবি ১৩, এক পিট হয়ে গেলে অন্য পিট উলটে দিন।


ছবি ১৪, ভিতরটা হল কিনা তা দেখেই বুঝা যায়। পাতলা হলে তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে আর একটু মোটা হলে সময় নিবে।


ছবি ১৫, এবার নামিয়ে চামচ দিয়ে তরল মাখন উপরে মেখে নিন।


ছবি ১৬, ব্যস হয়ে গেল গার্লিক নান।


ছবি ১৭, অসাধারন স্বাদ, দোকানের চেয়ে কম নয় বরঞ্চ বেশী এবং হাইজেনিক। হোটেলে দামের তুলনায় কম খরচও লাগে!


ছবি ১৮, এর পর আর কি? চা চা চা…।। যারা কফি পছন্দ করেন তাদের জন্য কফি কফি কফি!

সবাইকে শুভেচ্ছা। সাথে থাকুন, আমরা আসছি, আরো আরো মজাদার খাবারের রেসিপি নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

10 responses to “রেসিপিঃ গার্লিক নান (ঘরেই হোটেলের মজা)

  1. আমার রুটি ফুলেনা,নরমও হয়না।কেন?

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      আপনি পরিমান সঠিক করে আর একবার চেষ্টা করুন এবং কাই করে ঢাকনা দিয়ে ঘন্টা দেড়েক রেখে দিন। আশা করি অবশ্যই নরম হবে, ফুলবেও। পরিমান সঠিক হওয়াটা জরুরী এবং একটু সময় নিয়ে রুটি বেলে নিলে আশা করি ভাল হবেই। অনুগ্রহ করে আর একবার বানিয়ে দেখুন। তবে ভাঁজার সময়ে তাওয়াতে রুটি দিয়ে অন্য একটা কাপড়ের গোলা দিয়ে চাপ দিতে ভুলবেন না। শুভেচ্ছা।

      Like

  2. ভাইয়া,
    ১কাপ &২ কাপ ময়দার জন্য গার্লিক নান এর রেসিপি টা বললে ভালো হত। এক্সপেরিমেন্ট করব, নস্ট হলে বকা খেতে হবে না স্বামির কাছ থেকে

    Like

    • ধন্যবাদ বোন, ভাইয়ের সংসার সুন্দর করে ধরে রাখা জন্য! দুই কাপ ময়দার জন্য এই নিন, এমনি করে দেখতে পারেন!
      – ময়দা, দুই কাপ (পাতলা করলে ৬টা হতে পারে আর বড় ও মোটা করলে ৪/৫ টা হবে)
      – ইষ্ট, দুই চা চামচ
      – চিনি, দেড় চা চামচ
      – লবন, হাফ চা চামচের কম
      – টক দই, হাফ কাপের কিছু কম
      – সয়াবিন তেল, হাফ কাপের সামান্য কম
      – পানি, কুসুম গরম, পরিমান মত
      – গার্লিক, ৫/৬ কোষ (প্রথমে আস্ত অবস্থায় টেলে নিয়ে থেতো করে নিতে হবে এবং সামান্য লবন দিয়ে মশিয়ে নিতে হবে)
      – ধনিয়া পাতার কুঁচি, দেখতে সুন্দর দেখানোর জন্য, সামান্য (না হলে নাই)
      – মাখন, পরিমান , উপরে লাগিয়ে দেয়ার জন্য

      চলুক চেষ্টা!

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s