Gallery

রেসিপিঃ ইয়েলো রাইস (Yellow Rice)


বিদেশের হোটেলে ইয়েলো রাইস পাওয়া যায়, দেখতে চ্রম হলুদ বলেই এই নাম হয়ত! আমি বিদেশে থাকাকালীন বা এখনো গেলে হোটেলে খেতে বসলে বা কোন এক বেলায় এই ইয়েলো রাইস খেয়ে থাকি। বিশেষ করে এই রাইসের সাথে চিকেন গ্রীল, চিকেন ফ্রাই বা ঝাল জাতীয় মাংশ রান্না বেশ চমৎকার লাগে। বেশ কয়েক দিন ধরে এই ইয়েলো রাইস রান্না করবো বলে ভাবছিলাম, সময় এবং সুযোগ হচ্ছিলো না। আজ তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে দেখি চরম করে গরুর ভুনা গোসত রান্না আছে, ফলে আমি আর সময় নষ্ট করতে চাইলাম না। ইয়েলো রাইসের কয়েকটা রান্না নেটে দেখে নিজের বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে কাজে নেমে পড়লাম। মধ্যপ্রাচ্য সহ ইউরোপের প্রায় দেশেই এই ইয়েলো রাইস একটা জনপ্রিয় খাবার, বিশেষ করে সে সব দেশে সাদা ভাত পছন্দ করে না!

আমি আমার রেসিপিতে স্পেনের একটা রেসিপি ফলো করছি তবে অবশ্যই আমাদের দেশি ফর্মুলায়, যাতে আমার রেসিপি প্রিয় বন্ধুরা সহজে এই রান্না করে ফেলতে পারেন। আর একটা ব্যাপার এই রান্নায় প্রায় সব হোটেলে বা ওই সব দেশে খাবারের রঙ ব্যবহার করা হয়, যা আমি এড়িয়েছি এবং আমাদের হলুদের উপর চাপ দিয়েছি, তবে আবার মনে করবেন না যে, এই রান্নায় হলদে ঘ্রান আছে, তা নয়। রান্নার কৌশলে হলদে ঘ্রান আর থাকে না!

চলুন দেখে ফেলি, কারন এই রেসিপি প্রকাশের আগে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করাতে অনেকেই এই রেসিপি দ্রুত চাইছেন, কাজেই আর গল্প চলে না। বিদেশ গেলে আমরা ‘ইয়েলো রাইস’ খেয়ে থাকি, দেশে তেমন একটা পছন্দ বা বাসায় করা হয় না। এবার দেখে নিন। খুব সহজ এবং সাধারন। রেসিপি লিখছি…।। (ছবি আগেই প্রকাশ করে দিলাম)

দুই ধাপের রান্না, এক) চাউল হাফ সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রাখা এবং দুই) মুলরান্না। চলুন!

উপকরনঃ (ছবি দেখেও পরিমান অনুমান করতে/বুঝতে পারবেন)
– চাউল, ৫০০ গ্রাম, মিনিকেট (আপনি যে কোন চাউল নিতে পারেন, তবে চাউলের অবস্থার উপর জ্বাল বা সময় নির্ভর করবে)
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি  দুইটা, দেশি
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা (ঝাল বুঝে কম)
– এলাচি, দুইটা/তিনটা
– রসুন বাটা, এক টেবিল চামচ (দেশি)
– হলুদ গুড়া, এক চা চামচ (রঙ বুঝে)
– লবন, পরিমান মত
– তেল, এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ, কম তেলে রান্না, আপনি একটু বাড়িয়ে দিতে পারেন
– পানি, এক/দেড় কাপ কম বেশী (চাল হাফ সিদ্ধ করতে আলাদা পানি দিতে হবে)

প্রনালীঃ
ভাত হাফ সিদ্ধ করে নেয়াঃ

ছবি ১, চাউল হাফ সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রাখুন। (হোটেলে সাধারণত পুরো রান্না করে পানি ঝরিয়ে ফ্রীজে রেখে দেয়, কাষ্টমার এলে সেখান থেকে পরিমান মত নিয়ে রান্না করে দেয় এবং এই রান্নাটা হোটেলে কড়াইতে করা হয়, খুন্তি দিয়ে নাড়াতে সহজ হয়। আমরা সেটা করি নাই, আরো আরো একটু সুন্দর এবং স্বাদ বাড়ানোর জন্য, আফটার অল ঘরের রান্নাতো!)

মুল রান্নাঃ

ছবি ২, তেল গরম করে হাফ চা চামচ লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি, এলাচি, কাঁচা মরিচ (চিরে) ভাল করে ভাঁজুন।


ছবি ৩, এবার রসুন বাটা দিন।  ভাজুন।


ছবি ৪, ভাঁজুন, সামান্য পানি দিন, এতে মশলার ঝাঁজ কমে যাবে।


ছবি ৫, ভাল করে ভাঁজুন। আরো।


ছবি ৬, এবার হলুদ গুড়া দিন।


ছবি ৭, ব্যস কষিয়ে তেল উপরে উঠিয়ে নিন। ভাল করে কষিয়ে নিতে হবে, ফলে হলুদের ঘ্রান আর থাকবে না।


ছবি ৮, এবার আধা সিদ্ধ চাউল দিন।


ছবি ৯, এমন দেখাবে।


ছবি ১০, ভাল করে মিশিয়ে নিন, আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে। মিনিট ৫/৭ ভাঁজুন।


ছবি ১১, এবার দেড় কাপ পানি দিন।


ছবি ১২, আগুন মাধ্যম আঁচে রাখুন।


ছবি ১৩, ঢাকনা দিন।


ছবি ১৪, চুলার উপরে একটা তাওয়া দিতে পারেন যাতে আগুনের আঁচ আরো সুন্দর হয়ে লাগে। (মাঝে মাঝে নারিয়ে দিতে পারেন) এই সময়ে একটা চামচ নিয়ে কিছু চাল খেয়ে লবন দেখতে পারেন, লবন কম মনে হলে, কিছু লবন ছিটিয়ে দিয়ে নাড়িয়ে মিশিয়ে দিতে পারেন।


ছবি ১৫, মিনিট ১৫/২০ এর মধ্য হয়ে যাবে। (যদি দেখেন, চাল কিছুটা শক্ত তবে পানির ছিটা দিতে পারেন বা আগুন কমিয়ে আরো বেশ কিছুক্ষন চুলায় রাখতে পারেন) তবে চুলারধার ছেড়ে যাবেন না, ভুলে গেলে পুড়ে যেতে পারে!


ছবি ১৬, ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। ঝর ঝরে ইয়েলো রাইস!


ছবি ১৭, চাইলে কিছু পরিবেশন সৈন্দর্য্য বাড়িয়ে নিতে পারেন।


ছবি ১৮, স্বাদ, দারুন। আমরা গরুর গোসত ভুনা দিয়ে খেয়েছি, ডিলিসিয়াস। আমাদের রান্না টেষ্টার বুলেট, কথা বন্ধ, চুপ, মানে ভাল হয়েছে।

যারা নুতন রান্না করেন তাদের কথা মাথায় রেখেই এই রান্না করা হয়েছে এবং খাদক হিসাবে শিশুদের কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। আমি নিশ্চিত আপনার শিশুরা (শিশুদের বাবা, চাচা, মামা, খালু সহ) এই রান্না দারুন পছন্দ করবে। আর এই রান্নাতো প্রতিদিন করা হবে না, কাজেই এই রান্না করে আপনি সবাইকে একটা আলাদা খাবারের স্বাদ দেখিয়ে দিতে পারেন। বাইরে বা বিদেশে হোটেলে খেতে গেলে অন্তত এক বেলা এই ইয়েলো রাইস নিতে ভুলবেন না। ঘরের স্বাদ আর হোটেলের স্বাদ মুখে নেয়া দরকার, তবে আগেই বলে দিচ্ছি, এই ধরনের রান্নায় হোটেলে আরো আরো মশলা এবং রঙ ব্যবহার করে থাকে, যা ঘরে আমরা কখনোই করি না।

সবাইকে শুভেচ্ছা। সাথে থাকুন, আমরা আরো আরো মজাদার রান্না নিয়ে ফিরছি।


ইয়েলো রাইস শেষ খেয়েছিলাম ব্যাংককের একটা হোটেলে। এই বিষয়ে পোষ্ট লিখেছিলাম, আশা করি লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে আসবেন, আমন্ত্রন জানিয়ে গেলাম। ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৫ (একটি আদর্শ রেস্টুরেন্ট, দুনিয়ার সবার জন্য!)

7 responses to “রেসিপিঃ ইয়েলো রাইস (Yellow Rice)

  1. গুড মর্নিং উদরাজী ভাই, এই রান্না আমাদের গ্রামের বাড়িতে শীতকালে সকাল ১০ টার নাস্তায় থাকত । আমরা একে ভাজি ভাত বলি। একই রেসিপি।

    Liked by 1 person

  2. আমার যখন এটা খেতে ইচ্ছে করবে আমি তখন এটার সঙ্গে অল্প সব্জী সেদ্ধ যোগ করবো। আর ভাতটা নেবো রাতের বেচে যাওয়া ভাত। নামানোর আগে একটি ডিম ফেটিয়ে মিশিয়ে নামিয়ে… গরম… গরম! আহ! অমৃত!
    সিলেটে এমনি করেই করে ভাত বিরান/ ভাত ভাজি। আর এটা খেতে আমার কোনো তরকারীর দরকার হয়না। শুধু একটু কাঁচামরিচ আর পেঁয়াজ হলেই ব্যাস!

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      হ্যাঁ, আপনি যেভাবে বলেছেন যেভাবে রান্না করা যায়। তবে আমি এটা করেছি একটা বেসিক রান্না হিসাবে, যাতে আমাদের পাঠক/পাঠিকা বন্ধুরা এই রান্নায় সাহস করেন এবং চেষ্টা করবেন।

      গত কিছুদিন আগে আমি থাইল্যান্ডে এই ইয়েলো রাইসের সাথে খাসির রেজালা মিক্স খেয়েছিলাম! সেটা এখনো ভুলি নাই! হা হা হা…
      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  3. Gaye holude , ei holud vat {yellow rice} akta new menu hote pare…..birianir bodole….ki bolen bhai??!!~~~~ ha ha… valo thakun …moja korlam.!

    Liked by 1 person

  4. ধন্যবাদ বাংলা ট্রিবিউন, বাংলা ট্রিবিউনে এই রেসিপিটা প্রকাশ করার জন্য বোন নাজলাকে শুভেচ্ছা। লিঙ্কঃ http://www.banglatribune.com/news/show/92223

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s