গ্যালারি

রেসিপিঃ টমেটো ভুনা (মায়ের হাতের রান্না)


গত রাতে কিছু রান্না করবো ভেবে রান্নাঘরে প্রবেশ করছিলাম, আম্মা অনেকদিন প্রবাস থেকে ফিরে এসেছেন, তিনিও বাসায় ছিলেন। রান্নাঘরে উনাকে ডেকে নিয়ে ভাবছিলাম, উনার কাছ থেকে কিছু রান্নার টেকনিক শিখে নেব, ফলাফল তিনি আমাকে পাশে রেখে নিজেই রান্না করে দেখালেন। আমার কাছে উনার রান্নাকে যাদুর মতই মনে হয়েছে, প্রথম থেকে আগুনের আঁচ মাঝারি রেখে শেষে আগুন বাড়িয়ে নিমিষেই রান্না করে দিলেন। খুব কম সময়েই তিনি দুটো আইটেম করে দেখিয়ে দিলেন। বগুড়ার ছোট আলু ও ডিম রান্না এবং টমেটো ভুনা। ছবি তুলে উনার সাথে পেরে উঠছিলাম না, কত কম মশলায় তিনি এই রান্না গুলো করে দেখালেন তা সত্যই অসাধারন। রান্না যে একটা অভিজ্ঞতা শিল্প তা চোখের সামনে দেখলাম। তবে এই টমেটো ভুনায় তিনি কিছু ছোট চিংড়ি মাছ চাইছিলেন যা বাসায় ছিল না, না বলতে তিনি বললেন, লাগবে না!

চলুন আপনাদের ছবি দেখাই এবং ছবির সাথে বর্ননাও দেব। তবে আগেই বলে নেই, এই ধরনের ভুনা আগে দেখালেও এই টমেটো ভুনায় টুইষ্ট ছিল ‘টমেটো সস’ যা তিনি নিজে দিয়ে স্বাদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। স্বাদের কথা আর কি বলবো, আমি প্রথম প্লেট ভাত এই টমেটো ভুনা দিয়েই সাবাড় করেছি। চলুন, আর দেরী কি! এখন বাজারে প্রচুর টমেটো পাওয়া যাচ্ছে, দামেও কম, আশা করি নিজেই একদিন বানিয়ে টেষ্ট করে নিবেন।

উপকরনঃ (ছবি দেখেও পরিমান অনুমান করতে/বুঝতে পারবেন, মোটামুটি মাঝারি এক কাপ বা ছোট বাটির পরিমান)
– পাকা টমেটো, ২৫০ গ্রাম বা কম বেশী
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি তিনটে
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচের কম
– টমেটো সস, দুই টেবিল চামচ (না থাকলে দুই চিমটি চিনি)
– ধনিয়া পাতার কুঁচি, ৩/৪ টেবিল চামচ অনুমান
– লবন, পরিমান মত
– কয়েকটা আস্ত কাঁচা মরিচ, তিনটে নেয়া হয়েছিল, ছিরে
– তেল, ৬/৭ টেবিল চামচ
– পানি, হাফ কাপ

প্রনালীঃ

ছবি ১, এভাবে কেটে সাজিয়ে জাতের কাছে রাখলে রান্না দ্রুত করা যায়, পরিমান চোখের সামনে চলে আসে।


ছবি ২, তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুঁচি দিন, দুই চিমটি লবন দিন।


ছবি ৩, ভেঁজে হলদে করে নিয়ে সামান্য পানি দিন (এই পানি টুকু ঝাঁজ না উঠার জন্যই দেয়া হয়েছে)


ছবি ৪, এবার রসুন বাটা দিন, ভাল করে মিশিয়ে ভাঁজুন।


ছবি ৫, এবার হলুদ গুড়া দিন। ভাল করে মিশিয়ে ভাঁজুন। আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে।


ছবি ৬, এবার টমেট কুঁচি দিন। মিশিয়ে সামান্য কিছুক্ষন রাখুন।


ছবি ৭, এবার হাফ কাপ পানি দিয়ে মিশিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন, মিনিট ৪/৫, আগুন মাধ্যম আঁচে।


ছবি ৮, এবার টমেটো সস দিন (এই টমেটো সস দেয়ার বিষয়টা আমার জানা ছিল না, আম্মা জানালেন, এতে স্বাদ বেড়ে যায়, কারন বাজারে পাওয়া টমেটো সসে চিনি সহ নানা উপাদান থাকে যা রান্নায় স্বাদ আনে তবে তিনি জানালেন এই সস ঘরে না থাকলে দুই চিমটি চিনি দিলেও চলবে।) এবং মিশিয়ে নিন।


ছবি ৯, এবার আগুন বেড়ে যাবে এবং নাড়াতে থাকুন, টমেট গুলোকে মিশিয়ে নিন। এই পর্যায়ে ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন।


ছবি ১০, ধনিয়া পাতার কুঁচি এবং কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ১১, ফাইন্যাল। আগুন নিবিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন কিছু সময়।


ছবি ১২, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

অসাধারন স্বাদ। আমি হলে এই রান্নায় গুড়া মরিচ ব্যবহার করতাম বলে উনাকে জানালে তিনি জানান, তা হলে শিশুরা খেতে পারবে না। তবে যারা ঝাল পছন্দ করবেন তারা কাঁচা মরিচ গুলো মেখে নিতে পারেন। খাবার টেবিলে, আমি তা দেখছিলাম, তিনটে মরিচের একটা আমি একটা আমার ব্যাটারী মেখে খেয়েছিলাম। আম্মা ও আমার ছেলে খেয়েছে কিন্তু মরিচ নেয় নাই। হ্যাঁ, একেই বলে অভিজ্ঞতা, একেই বলে ভালবাসা, রান্নাতে ভালবাসার প্রমান হয় বার বার।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ আমার আম্মা ফিরোজা বেগম

(বি দ্রঃ উনার আরেকটা রান্না বগুড়ার ছোট আলু ও ডিম রান্নাও নিয়ে আসছি সহসা)

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ টমেটো ভুনা (মায়ের হাতের রান্না)

  1. Dakhei mone hosse osadharon hoyese khete. Are colour ta onek onek sondor asece. Vaia please apner amma ke amar Salam deben.

    Liked by 1 person

  2. Khalamma ke amar salam janaben….thanks!

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s