Gallery

রেসিপিঃ ভাতের চালের ঝরঝরে খিচুড়ি


আমরা যত যা বলি না কেন, প্রতিদিন একই খাবার খেতে আমাদের কারোই ইচ্ছা হয় না! না পেরে খাই বটে, অভাবে খাই বটে, অলস্যে খাই বটেই! সামান্য এক্টিভ হলে আমরা কত কিছু করে দেখাতে পারি, আই মিন রান্না করতে পারি! কথা না বলে চলুন আজ একটা রান্না দেখি, সময়ের বড় অভাব আমার! আমি এই জীবনে বুঝে গেছি অনেক আগেই! “মধ্যবিত্তের(!) ‘টাকা’ বাঁচানোর চ্রম উপায় হচ্ছে, কম খাবার দাবার/বাজার সদাই কম করা। আর ‘সময়’ বাঁচানোর উপায় হচ্ছে, নিজের দিকে তেমন নজর না দেয়া!” হ্যাঁ, আমার এমনি করেই দিন কেটে যাচ্ছে!

রান্না সহ একটা পোষ্ট ভাল করে ডিটেইলস লিখতে হলে কমের পক্ষে তিন/চার ঘন্টা সময় লাগে, এত সময় দিনে আমি কোথায় পাই, অথচ প্রতিদিন আমি একটা রেসিপি পোষ্ট দিতেই চাই! সময় তো আর কেহ কাউকে দিতে চায় না! আশে পাশের সবাইকে কত বুঝাই যে, আমার একটু সময় দাও! কে শুনে কার কথা, সবাই সবার মত করেই এগিয়ে যাচ্ছে! ছোট শিশু থেকে সবাই! তবুও সংগ্রাম করে পথচলা! একটু আপনাদের হৃদয়ে স্থানের চেষ্টা করে যাচ্ছি! অতলে হারিয়ে যাবার আগে, কত কি ভাবনা!

যাই হোক, সময়ের ব্যাপারে একজন শিশু, কিশোর, যুবক যেভাবে ভাবে, একজন মাঝ বয়সির চিন্তা সেই থেকে ভিন্ন! শিশু কিশোর যুবকের যেহেতু মৃত্যু চিন্তা কম তাই তাদের হাতে প্রচুর সময়! তবে আমার মত মাঝ বয়সিরা বিশেষ করে এই দেশে এই বেশে কখন পরপারের ডাক পড়ে কে জানে! মৃত্যুর ভয়ে যেখানে অস্থির হয়ে থাকতে হয় একজন মাঝবয়সিকে, সেখানে সেতো সময় খুঁজে বেড়াবেই! কিছু না করতে পারার চিন্থা, আর্থিক চিন্থা, শরীরের নানা রোগ শোকে কাবু হয়ে পড়ার পর সময় না খুঁজে উপায় কি! যাই হোক, মনে অনেক দুঃখ থাকলেও কার তাতে কি! দুনিয়া চলবে দুনিয়ার মত করেই। যাদের খাবার সময় তারা মৃত মানুষকে সামনে রেখেই খেতে হবে! তাছাড়া বেঁচে থাকলে খেতে হবেই! স্বাদের এই দুনিয়া! (প্রিয় পাঠকপাঠিকা, মন খারাপ করে দেয়ার জন্য সরি সরি সরি। বাস্তবতা আসলে অনেক কঠিন।)

চলুন, কথা না বাড়িয়ে খাবার রান্না দেখি, খুব সাধারন রান্না। আশা করি সবাই পছন্দ করবেন, বাংলাদেশী বাঙ্গালী মাত্রই খিছুড়ি দেখলে জিবে জল আসেই! আশা করি রান্নাটা আপনাদের মন ভাল করে দেবে। তবে আগেই বলে নেই এই খিছুড়ি আমি রান্না করেছি, আমাদের প্রতিদিনের ভাতের চাউল দিয়ে। দারুন, ঝরঝরে করে। চলুন, দেখে ফেলি!

উপকরনঃ (ছবি দেখেও পরিমান অনুমান করতে/বুঝতে পারবেন)
– ভাতের চাউল, তিন পোয়া (আমি মিনিকেট নিয়েছিলাম, আপনারা যে চাউলের ভাত খান সেই চাউল দিয়েই এই রান্না করতে পারেন, তবে চাউলের টেম্পারমেন্ট মানে কত পানি এবং কত সময়ে ভাত হয়, সেটার একটা আইডিয়া থাকতে হবে।)
– মুসরী ডাল, দুই পোয়া
– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ
– আদা বাটা, দুই টেবিল চামচ
– রসুন বাটা, দুই টেবিল চামচ
– শুকনা মরিচ গুড়া, ১ বা দেড় চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়া, ২ চা চামচ
– গরম মশলা (এলাচি কয়েকটা, দারুচিনি কয়েক পিস, লং কয়েকটা)
– তেজপাতা, দুইটা (যদি থাকে দিতে পারেন)
– লবন, পরিমান মত
– কয়েকটা আস্ত কাঁচা মরিচ
– তেল, এক কাপ কম বেশি
– পানি, পরিমান মত

প্রনালীঃ
ভাতের চাল প্রিপারেশনঃ

ভাতের চাল ধুয়ে ভাতের পাতিলে পানি সহ চুলায় ছড়িয়ে দিন। মাধ্যম আঁচে মিনিট ১৫ রাখুন এবং নামিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন এবং একটা ঝাঁঝরিতে ঠান্ডা পানি দিয়ে সামান্য ধুয়ে নিন। এই পানি ঝারানোর কাজ সাবধানে করুন! মোটামুটি এ্টা হচ্ছে ভাত প্রিপারেশন। পাকা রান্নাবিধরা কথা উঠতে পারেন এই কাজ আমি কেন করলাম! (শেষ ব্যাখ্যা দেবে)

মুল রান্নাঃ

কড়াইতে তেল গরম করে এলাচি, দারুচিনি, লং দিয়ে দেই।


পেঁয়াজ কুঁচি দিন ভাঁজুন, কাঁচা মরিচ, আদা ও রসুন বাটাও দিয়ে দিন। আগুন মাধ্যম আঁচে চলবে। হাফ চা চামচ লবন দিতে ভুলবেন না!


কিছুক্ষনের মধ্যেই এমন অবস্থায় এসে যাবে। চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না। কাঠের খুন্তি দিয়ে নাড়িয়ে চলুন। হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন।


এবার হলুদ ও মরিচের গুড়া দিন। ভাল করে কষিয়ে নিন।


তেল উঠে এই অবস্থায় এসে যাবে।


এবার ধুয়ে রাখা মুশরীর ডাল দিয়ে দিন। এবং একটু কষিয়েই পানি দিয়ে দিন। পানি এক/দেড় কাপ দিতে হবে, ডাল বুঝে।


এবার মাধ্যম আঁচে রেখে ঢেকে দিন। মাঝে মাঝে ঢাকনা সরিয়ে দেখুন বা নাড়িয়ে দিন।


ডাল নরম হল কিনা দেখুন।


ডাল নরম হয়ে গেলে, পানি ঝরিয়ে রাখা ফুরফুরে হাফ সিদ্ধ ভাত দিয়ে দিন।


এমন দেখাবে। ভাল করে মিশিয়ে নিন।


আরো দুই কাপ মানে ভাতের চালের লেয়ারের দেড় ইঞ্চি পানি দিন (কম দেয়াই ভাল, কারন শেষে পানি লাগলে দেয়ার সুযোগ থাকবে)। লবন দেখুন, পানি কটা হতে হবে, লাগলে লবন দিন।


ব্যস, ঢাকনা দিয়ে চুলায় তাওয়া মানে শহুরে দম শুরু করুন! শহুরে দম নিয়ে আগেও বা পোলাউ পোষ্ট গুলোতে অনেক কথা হয়েছে। মানে পাতিলের তলায় রুটি ভাজার তাওয়া দিন। এতে আগুন সরাসরি পাতিলে না লেগে তাওয়াতে লাগবে।


২০/২৫ মিনিটে এমনি হয়ে যাবে। নাড়িয়ে উপরে নিচে করে দিন।


যদি দেখেন, চাল শক্ত রয়ে গেছে তা হলে সামান্য পানি ছিটিয়ে দিতে পারেন।  পানি না লাগলেই ভাল।


ব্যস, পাতিল সহ খাবারের টেবিলে নিয়ে যেতে পারেন। আপনার বাসা, আপনার টেবিল, আপনার পরিবারের সবাই তো! হা হা হা… কেহ কিছু বললে, নিশ্চয় আপনার ব্যাখ্যার অভাব থাকবে না!


দারুন স্বাদ। কয়েক প্লেট সাটিয়ে উঠে পড়ুন।

সবাইকে শুভেচ্ছা। সাথে থাকুন, আসছি আরো আরো মজাদার খাবারের রেসিপি নিয়ে।

রেসিপিঃ ভাতের চালের ল্যাটকা খিচুড়ি (সাথে কিছু সব্জিও, সকালের নাস্তা কিংবা ইফতারে)

6 responses to “রেসিপিঃ ভাতের চালের ঝরঝরে খিচুড়ি

  1. Bhaijan…Cal age preparation na kore, Cal and Dal ak sathe die Pani Ki proman lagbe?? Tablig’ e gie onek somoy ranna korte hoye to!……onek suvessa , { N.B: Apni amader ridoye asen ,thakben sobsomoy, Insha Allah!}

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ রেদোয়ান ভাই।
      চাল ডাল এক সাথে দিয়ে রান্নার রেসিপিটা আগে দেখিয়েছি। লিঙ্ক এই পোষ্টের নিচে আছে। তবে সেই ক্ষেত্রে পানি একটু বেশী দিতে হয়, দেড় দুই ইঞ্চি পানি দিতে হয়। বাকী সব প্রায় একই। আপনি আমার পূর্বের রেসিপিটা দেখে নিতে পারেন, আশা করি জট খুলে যাবী। আমি এই রেসিপিটা করেছি হোটেলের মত করে।

      আমাকে মনে রাখার জন্য আপনি সব সময়েই এগিয়ে আছেন। শুভেচ্ছা।

      Like

  2. Donnobad bahi…. apnake mone na rekhe upay nai…..karon na kheye thakte parbona… ar khete hole to apnar site-a asteiy hobe……..ha ha…ha…, thanks again….valo thakun..

    As- Salamu -Alaikum!

    Liked by 1 person

  3. Siddo chaler jonno recipe ki eki rokom thakbe Udraji bhai?

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s