Gallery

রেসিপিঃ ডিম পোলাউ (লাউপাতা টুইষ্ট, এক্সপেরিমেন্ট)


রান্নাটা পুরানো, রেসিপি লিখবো লিখবো করে লিখা হচ্ছে না। আজ হাতে কিছু সময় আছে, তাই ভাবছি এই রেসিপিটা দিয়ে দেই। এমন রান্নাকে আপনি এক্সপ্রেরিমেন্ট বলতে পারেন। তবে আমি আগেও বলেছি বা বলেই আসছি যে, আপনি যত রান্না করবেন তত আপনার হাত ও চোখ খুলে যাবে। রান্না বেশি বেশি করা মানেই আপনি যা চাইবেন তা করতে পারবেন। ঘরে কি আছে না আছে তার ধার আপনাকে ধরতে হবে না! আপনি হাতের কাছে যা পাবেন তা দিয়েও মজাদার কিছু বানিয়ে নিতে পারবেন। তাই সময় পেলেই রান্না করুন, রান্নায় নানান ধরনের টুইস্ট দিন, এতে রান্না মজাদার হবে এমন কি আপনিও বুঝতে পারবেন কোথায় কি হলে ভাল বা দরকার ছিলো!

আজকের রান্নাটা এমনই রান্না। আমি অফিস থেকে ফেরার পথে হাসের ডিম ও লাউ শাক নিয়ে ফিরছিলাম। হাঁসের ডিম দিয়ে সকালের নাস্তা বা অন্য কাজে লাগবে এবং লাউ শাক দিয়ে আমি একটা সাধারন রান্না বা ভাজি করবো বলে (শাক সবজি প্রতিদিন খাওয়া উচিত)। বাসায় ফেরার পর বড় ছেলে বুলেট আবদার করলো, পোলাউ খেতে ইচ্ছা হচ্ছে। আমি বললাম, ডিম পোলাউ রান্না করা হবে কিন্তু সাথে শাক দেব, খেতে চাইলে বলতে পার!

তাতেই সে রাজী, মানে পোলাউ চাই! হা হা হা, আজকালকের ছেলে মেয়েরা ভাত মাছের চেয়ে পোলাউ মাংস বেশ পছন্দ করে থাকে। কিন্তু তবুও আমি বলি, শিশুদের স্বার্থেই তাদের শাক সবজি খাওয়ানো উচিত। কারন বয়স কালে আমরা এখন বুঝি! খাবার দাবার আবহাওয়া ভেদে খেতে হয়, আমাদের দেশে সব সময়ে মাংশ বা বেশি মশলায় রান্না খাওয়া উচিত নয়।

যাই হোক, চলুন রান্না দেখে ফেলি। তবে আমি মনে করি এটা তিন ধাপের রান্না। একসাথে সময় বাচাতে চাইলে দুই চুলায় রান্না শুরু করতে পারেন। আগেই বলি, এই রান্নার আইডিয়া নিয়ে আপনি খুব সহজেই মোরগ পোলাউ থেকে শুরু করে এমনি নানান কম্বিনেশনের রান্না করতে পারেন। পুরোটা আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে!

১। ডিম রান্না
২। পোলাউ রান্না
৩। রান্না মিশ্রন

উপকরন ও পরিমানঃ

  • * ডিম রান্নার জন্যঃ
    – চারটে ডিম (আমরা তিনটে দিয়ে রান্না করেছি)
    – পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি দুটো
    – রসুন বাটা, এক চা চামচের কম
    – মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচের কম বা অর্ধেক
    – হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচের কম বা অর্ধেক
    – এলাচি, দুইটে
    – দারুচিনি, কয়েক পিস
    – লবন, সামান্য
    – তেল, কয়েক চামচ
    – লাউ পাতা (টুইষ্ট), সামান্য কিছু
    (এটা অনেকটা মাংশ রান্নার মশলা দিয়েই রান্না)
  • * পোলাউ রান্নার জন্যঃ
    – ৭৫০ গ্রাম পোলাউ চাল (মোটামুটি তিন জনের জন্য)
    – পেঁয়াজ কুঁচি, কয়েকটা
    – কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
    – আদা বাটা, এক টেবিল চামচ
    – এলাচি, ২/৩টা
    – দারুচিনি, ২/৩ পিস
    – লবন, পরিমান মত
    – তেল, ৬/৭ টেবিল চামচ (কম তেলে)

প্রনালীঃ
ডিম রান্নাঃ

ছবি ১, ডিম সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে সামান্য তেলে ভেঁজে নিতে হবে এবং তুলে রেখে দিতে হবে।


ছবি ২, এবার সেই কড়াইতেই পেঁয়াজ কুঁচি, সামান্য লবন, কাঁচা মরিচ (চিরে), এলাচ, দারুচিনি দিয়ে ভাঁজতে হবে। পেঁয়াজ হলদে হয়ে এলে রসুন বাটা দিয়ে দিতে হবে। হাফ কাপ পানি দিয়ে ঝোল বানিয়ে নিতে হবে।


ছবি ৩, এবার মরিচ গুড়া ও হলুদ গুড়া দিতে হবে এবং কষিয়ে ঝোল উঠিয়ে নিতে হবে।


ছবি ৪, লাউ পাতা দিয়ে দিতে হবে।


ছবি ৫, ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ৬, সামান্য পানি ও সিদ্ধ ভেঁজে রাখা ডিম দিয়ে ঢাকনা দিয়ে কিছুক্ষন নিম্ম আঁচে রাখুন।


ছবি ৭, ফাইন্যাল লবন দেখে তুলে রাখুন।

পোলাউ রান্নাঃ

ছবি ৮, এবার পোলাউ রান্নায় আসুন। কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি, সামান্য লবন, কয়েক পিস দারুচিনি, দুই/তিন্টে এলাচি, কাঁচা মরিচ কয়েকটা ও আদা বাটা দিয়ে ভাঁজুন।


ছবি ৯, পেঁয়াজ কুঁচি হলদে হয়ে যাবে।


ছবি ১০, এবার পোলাউ চাল (যা আগেই ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে) দিয়ে দিন।


ছবি ১১, সামান্য সময়ে ভাঁজুন, মাধ্যম আঁচে।


ছবি ১২, এবার পানি দিয়ে দিন।


ছবি ১৩, পানির পরিমান চালের উপর নির্ভর করে, তবে নুতন চাল হলে চালের উপর ১ ইঞ্চি, পুরানো চাল হলে সামান্য বেশি দিতে হয়।


ছবি ১৪, এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, পানি কিছুটা কটা হতে হবে। মাধ্যম আঁচে।


ছবি ১৫, মিনিট ১০/১৫ পর হাড়ির তলায় তাওয়া বসিয়ে দিন। আগুন মাধ্য আঁচেই চলুক।


ছবি ১৬, ঠিক এমনি অবস্থায় এসে যাবে। যদি দেখেন যে চাল শক্ত আছে তবে কিছু পানি দিতে পারেন আর যদি মনে হয় হয়ে যাবে, তা হলে কথা নেই, সামনে বাড়ুন।

মিশ্রনঃ

ছবি ১৭, এবার রান্না করে রাখা ডিম চালের মাঝখানে দিয়ে দিন।


ছবি ১৮, এবার চার পাশের চাল তুলে দিয়ে ঢেকে দিন।


ছবি ১৯, আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে। আবারো ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০/১৫ রাখুন।


ছবি ২০, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত, পাতিল সহ খাবারের টেবিলে নিয়ে যেতে পারেন।


ছবি ২১, দারুন স্বাদ, বলে বুঝানো যাবে না। আপনারা জানেন যে, লাউ পাতার একটা আলাদা ফ্লেভার আছে এবং সেই ফ্লেভার এই রান্নায় ছড়িয়ে আছে!

রান্না টেষ্টার বুলেট খেয়ে কোন কথা বলল না, মানে স্বাদ এমন হয়েছে যে, মুখের কথা বন্ধ! হা হা হা…

যাই হোক, যারা অধিক ভাল রান্না জানেন, তাদের কাছে হয়ত এই রান্নাটা একটা আজব রান্না মনে হবে কিন্তু মোরগ পোলাউ আসলে এভাবেই রান্না হয়, আপনি ডিমের অংশটায় মোরগ রান্না করুন এবং পোলাউ ও মিশ্রনের ব্যাপারটা ঠিক রেখে কাজ করুন। দারুন মোরগ পোলাউ পাবেন। ব্যাচেলর ভ্রাতা ও ভগ্নীগন, আমার সাথেই থাকুন। আমাদের আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

5 responses to “রেসিপিঃ ডিম পোলাউ (লাউপাতা টুইষ্ট, এক্সপেরিমেন্ট)

  1. দারুণ!!! চমৎকার কম্বিনেশন করেছেন, ডিম আর পোলাওয়ের সাদা রংএর সাথে লাউশাক এর সবুজ রং এর কন্ট্রাস্ট দেখতেও সুন্দর হয়েছে! আপনার এক্সপেরিমেন্ট সফল 🙂

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ রনি ভাই।
      আপনার উতসাহ চিরকাল মনে থাকবে। হ্যাঁ, কিছুটা এক্সপেরিমেন্ট না করলে আর চলে না।
      আজকাল তাই করি মাঝে মাঝে, আসলে এত রেসিপি হয়ে গেছে যে, এখন নুতন কিছু করতেই হয়। একই রেসিপি দিতে ইচ্ছাও হয় না। যাই হোক, আগামীতে আরো নুতন নুতন রেসিপি নিয়ে হাজির হচ্ছি। শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  2. Another innovative recipe, excellent idea , carry on Shahadat Bhai.

    Liked by 1 person

  3. আজকে করবো। ঝোল ছাড়া শুকনা শুকনা লাগে। হোটেল স্টাইলের শুধু ঝোল বানানোর উপায়টা বাতলে দিলে উপকৃত হতাম।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s