গ্যালারি

রেসিপিঃ শিম, আলু ও শুঁটকী বাটা (অদ্ভুত স্বাদ)


আজ থেকে ২০০ বছর আগের কয়জন লোকের নাম ও ইতিহাস জানি আমরা, ঠিক এমনি ভাবে আজ থেকে ২০০ বছর পরে কে আমাদের খেয়াল রাখবে! অনলাইনের এই স্টোরের কারনে আমাদের নাম ধাম ছবি খুঁজে পাওয়া যাবে হয়ত, কিন্তু কে সেই সময়ে খুঁজে দেখবে! ২০০ বছর আগে এই অঞ্চলের লোকেরা যা খেত তা কি এখন আমরা খাই, আর ২০০ বছর পরে কি এখনকার খাবার চলবে, মনে হয় না!

চলুন, আজ আপনাদের এমনি একটা রান্না দেখাই, এই ধরনের রান্না এখন আর হয় না বলেই চলে, অথচ এই ধরনের রান্না এক সময়ে আমাদের প্রায় পরিবারেই হত! আজ থেকে ২০০ বছর পরে এই রান্না দেখে হয়ত আমাদের সেই জেনারেশনের শিশুরা হাসবে! অন্যদিকে, ২০০ বছর পরে পরিবার গুলোতে হয়ত রান্নার ব্যবস্থাই থাকবে না! মোবাইলের শক্তিশালী ব্যাটারীর মত শক্তিশালী ট্যাবলেট আবিস্কার হয়ে যাবে, হয়ত একটা খেলে এক সপ্তাহ মানে ১৬৪ ঘন্টা আর কিছুই খেতে হবে না, পুরা স্যান্ডবাই!

যাই হোক, আমি আসলেই উলটা পালটা চিন্তা একটু বেশী করি, পাগল আর কি! ২০০ বছর পরে কি কেহ কখনো আমার নামটা উচ্চারন করবে! কেহ কি নেটে আমার রেসিপি গুলো খুঁজে দেখবে!

উপকরনঃ (ছবি দেখেও পরিমান অনুমান করতে/বুঝতে পারবেন)
– শিম, ৩০০ গ্রাম কম বেশি, গ্রামের শক্ত শিম হলে ভাল হবে।
– আলু, মাঝারি দুইটা, যেমন ইচ্ছা কাটেন
– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি, দুইটা
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচ (কাঁচা মরিচ আছে বলে কম দিতে হবে)
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– কাঁচা মরিচ ফালি, ঝাল বুঝে কয়েকটা
– লবন, পরিমান মত
– তেল, সয়াবিন, ৬/৭ চামচ (কম তেলেই ভাল)

– চিংড়ি শুঁটকী ও কাঁচা মরিচ বাটা, শুঁটকী এক মুষ্টি এবং কাঁচা মরিচ একটা।

প্রনালীঃ
শুঁটকী বাটাঃ

ছবি ১, শুঁটকী প্রথমে ভেঁজে নিয়ে ধুয়ে, পানি ঝরিয়ে বেটে নিতে হবে। সাথে একটা কাঁচা মরিচ বেটে নিতে হবে (ঝাল বুঝে)।


ছবি ২, রান্না শুরু করার আগে এভাবে শুঁটকী বেঁটে হাতের কাছে রাখতে হবে। এর পর শিম এবং আলু কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে।

মুল রান্নাঃ

ছবি ৩, কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি, রসুন বাটা, কাঁচা মরিচ এবং হাফ চামচের কম লবন দিয়ে ভাঁজতে হবে।


ছবি , পেঁয়াজ কুচি গুলো হলুদ হয়ে যাবে।


ছবি ৫, এবার মরিচ গুড়া এবং হলুদ গুড়া দিতে হবে এবং ভাল করে ভেঁজে নিতে হবে। আগুন কমে, না হলে মরিচ পুড়ে কাশাকাশি করে রান্নার স্বাদ মিটে যাবে, সাবধানে। কন্টোল না করতে পারলে, হাফ কাপ পানি দেয়া যেতে পারে (আমি অবশ্য এই পর্যায়ে অন্য সব রান্নার মত পানি দেই নাই)।


ছবি ৬, এবার শিম ও আলু দিয়ে দিন।


ছবি ৭, এভাবে।


ছবি ৮, ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিনিট ১০ মাধ্যম আচে রাখুন এবং নাড়িয়ে নিন।


ছবি ৯, এবার এক কাপ পানি দিন।


ছবি ১০, এই রকম দেখাবে।


ছবি ১১, এবার মাধ্যম আঁচে, ঢাকনা দিয়ে বসে পড়ুন, রান্না ঘরে অন্য কাজ বা ধোয়া মোছার কাজ থাকলে সেরে ফেলুন। মিনিট ১৫ লাগবে। (তবে এই শিম গুলো গ্রাম থেকে নিয়ে আসা অরিজিন্যাল বলে সময় একটু বেশী লেগেছে, শহরে পাওয়া শিমে সময় কম লাগবে। তাড়াতাড়ি সিদ্ধ এবং নরম হয়ে যাবে)। মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দেবেন।


ছবি ১২, এই রকম দেখাবে।


ছবি ১৩, পানি শুকিয়ে শিম নরম হয়ে গেলে এবার সেই বিশেষ শুঁটকী বাটা দিয়ে দিন।


ছবি ১৪, এই শুটকীর ঘ্রান এবং মিশ্রন সারা রান্নাইয় আনন্দে এনে দেবে। ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ১৫, নাড়িয়ে দিলে এই রকম দেখাবে। আরো কিছু সময় ঢাকনা রাখতে পারেন, না হলেও চলে! তবে বেশিক্ষন ঢাকনা দিয়ে রাখলে শিমের রঙ কালচে হয়ে যাবে! লক্ষ্য রাখবেন।


ছবি ১৬, আগুন মাধ্যম আঁচে। এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন না লাগলে ওকে বলে এগিয়ে চলুন। মনে রাখবেন, লবন এমন একটা ব্যাপার যে, বেশী কম মেনে নেয়া যায় না। আমাদের প্রতিটা রান্নায় দেখবেন, লবনের ব্যাপারে আমরা প্রায়ই বলে থাকি। শুরুতে কম দিয়ে শেষে এই ধরনের পর্যায়ে সঠিক লবন দিতে উতসাহিত করি।


ছবি ১৭, ঝোল তাড়াতাড়ি শুকাতে চাইলে আগুন বাড়িয়ে দিন বা ঝোল রাখতেও পারেন। আমি ঝোল শুঁকিয়ে নিয়েছি, কারন আমার ব্যাটারী (এই রান্না খাবার মানুষ আমরা দুইজনই) ঝোল পছন্দ করেন না!


ছবি ১৮, হ্যাঁ, এই নিন পরিবেশনা!


ছবি ১৯, বিশ্বাস করুন, স্বাদ অতুলনীয়, অদ্ভুত। ওয়ার্ডপ্রেস সার্ভারের কসম, আমি আর কোন তরকারী নেই নাই, এই তরকারী দিয়েই দুই প্লেট সাটিয়ে উপরওয়ালার কাছে শোকরিয়া জানিয়ে উঠে পড়েছি! অনেকদিন পর মনে হল, কিছু খেলাম!

বলতে ভুলে গেছি, এটা একটা আঞ্চলিক রান্না – শিম, আলু ও শুঁটকী বাটা! ওয়াও!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আমরা আসছি আরো আরো নুতন নুতন রান্না নিয়ে, আমাদের সাথে থাকুন।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ শিম, আলু ও শুঁটকী বাটা (অদ্ভুত স্বাদ)

  1. A real innovative dish it is.

    Liked by 1 person

  2. এটা করতে হবে। ভাতের সাথে খাওয়ার মজাই আলাদা হবে।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s