Gallery

রেসিপিঃ ময়ানে ভাঁজা ইলিশ


ময়ানে ভাঁজা ইলিশ! ইলিশ মাছের নাম শুনলেই জিবে জল আসে, তার উপর ময়ানে ভাঁজা! আহ। বাজারে এখন প্রচুর ইলিশ মাছ দেখা গেলেও দাম লাগালের বাইরেই বলা চলে। তবুও সেদিন মাছ বাজারের বিশু বলল, এই সিজনে তো ইলিশ কেনেন নাই। বিষয়টা লজ্জার বটেই! ব্যস, মোটামুটি সাইজের দুটো কিনে ফেললাম! আফটার অল, ইজ্জতের সাওয়াল! পকেটে টাকা থাকুক আর নাই থাকুক, মানুষ চেহারা দেখে যায়! এই তো দুনিয়া! তবে এবার বিশু পদ্মার ইলিশ আর অন্য নদীর ইলিশের পার্থক্য বুঝিয়ে আমাকে একটা ঝাড়া বক্তব্য দিয়েছে! পদ্মার ইলিশের বুক দেখে কি করে চিনতে হয়, সেই বিষয়েও বিশু এবার আমাকে ভাল ট্রেনিং দিয়েছে! আগামীবার ইলিশ কিনতে মনে থাকলেই হল! কত শিক্ষা এখনো বাকী!

এদিকে ইলিশের অনেক রেসিপি আছে, অন্যদিকে এমন ইলিশ কিনে রেসিপি না করে খেয়ে ফেলার কোন মানে হয় না! অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবীরের রেসিপি বই ঘেঁটে ব্যাটারী জানালেন, ময়ানে ভাঁজা ইলিশ করতে পার! ঘরে সব কিছুই আছে, শুধু গোল মরিচের কিনে নিয়ে আসলেই হবে। আমি যেহেতু জটিল রেসিপি এড়িয়ে চলি, মাছের খরচার কথা বিবেচনা করে এই রেসিপিতে আর ইনভেষ্ট করতে চাইলাম না, কাজে কাজেই ময়ানে ভাঁজা ইলিশ পছন্দ হয়ে গেল। বাসায় ফিরার পথে বিশ টাকার গোল মরিচ কিনে ফিরলাম! বিশ টাকার গোল মরিচ বিশটা হবে কি না সন্দেহ। ইলিশের চেয়ে গোল মরিচের দাম বেশি মনে হল! হা হা হা।।

যাই হোক, আমাদের প্রিয় মাছের রাজা বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ এমনি একটা মাছ যে, এটা কম্বলে পেঁচিয়ে রেখেও গরম করে খাওয়া যায়! কিংবা সামান্য নুনে মেখেও ভাজি করে খাওয়া যায়। এছাড়া ইলিশ মাছ দিয়ে আমাদের দেশের প্রায় সব তরকারী রান্না করা যায়। ইলিশ মাছের স্বাদ সব কিছুকে ছাড়িয়েই যায়। আই লাভ ইলিশ! চলুন কথা না বলে দেখে ফেলি!

উপকরনঃ (ছবি দেখেও পরিমান অনুমান করতে/বুঝতে পারবেন)
–  ইলিশ মাছের কয়েক টুকরা
– সামান্য হলুদ
– গুড়া মরিচ
– আদা বাটা
– রসুন বাটা
– লেবুর রস, এক দেড় চা চামচ লাগবে
– লবন

ময়ানঃ
– হাফ কাপ ময়দা
– হাফ চা চামচ গোল মরিচ
– দুই চিমটি বেকিং পাউডার (না থাকলে নাই)
– দুই চিমটি বা সামান্য বেশি লবন
– পরিমান মত পানি (ময়ান কিছুটা গাঢ় হবে)

প্রনালীঃ
মাছ কাটা, পরিস্কার এবং মেরিনেটেড করাঃ

ছবি ১, ইলিশ মাছের আঁশ ছাড়াতে এই ধরনের একটা যন্ত্র ব্যবহার করতে পারেন, দামে সস্তা কাজে ও গুনে অনেক। এই যন্ত্র দিয়ে প্রায় সব মাছের আঁশ ছাড়ানো যায়। মাত্র দশ টাকায় এটা রাস্তার ধারের দোকান থেকে কেনা হয়েছিল।


ছবি ২, লবন পানি দিয়ে মাছ ধুয়ে নেয়া ভাল।


ছবি ৩, এর পর উপরে উল্লেখিত সব মশলা, লবন, লেবু রস দিয়ে দিন। মরিচ গুড়া দেখে দেবেন, বেশী হলে ঝাল বেশি হয়ে যাবে।


ছবি ৪, ভাল করে মাখিয়ে নিন এবং ঘন্টা খানেকের জন্য সাধারন তাপমাত্রায় রেখে দিন।

ময়ান তৈরীঃ

ছবি ৫, একটা বাটিতে ময়দা দিন, গোল মরিচের গুড়া দিন, সামান্য লবন দিন, এবং থাকলে সামান্য ব্রেকিং পাউডার দিন। ব্যস।


ছবি ৬, ভাল করে মিশিয়ে, আস্তে আস্তে পানি দিয়ে মিশাতে থাকুন। ময়ানের ঘনত্ব একটু বেশি হওয়াই ভাল তবে আবার এত বেশী নয় যে, চাকা চাকা হয়ে যায়। চাকা চাকা হতে পারবে না।

ময়ান ও ইলিশঃ

ছবি ৭, এভাবে সাজিয়ে এবার মুল ভাঁজাতে চলুন। প্রথমে তেল গরম করুন।

মুল ভাজাঃ

ছবি ৮, ময়ানে ইলিশ চুবিয়ে বা ভাল করে উলটা পালটা করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ৯, এভাবে ময়ান ইলিশে লাগবে। এর পর গরম ডুবো তেলে ভাঁজুন।


ছবি ১০, তেলের অপচয়ে একটা একটা করে ভাঁজতে পারেন!


ছবি ১১, এক পিট হয়ে গেলে অন্য পিট উলটে দিন।


ছবি ১২, কম আঁচে ভাল করে ভাঁজতে হবে এবং বুঝতে হবে যে, ভিতরের ইলিশ নরম হয়েছে বা ভাল ভাঁজা হয়েছে! এভাবে ভেঁজে তুলে জমিয়ে ফেলুন।


ছবি ১৩, চাইলে দুটো করেও ভাঁজতে পারেন। ব্যাপার না, তবে যে কোন কিছু ভাজার সময়ে অধিক সতর্কতা নেয়া উচিত। সামান্য ভুলে আপনি কষ্ট পেতে পারেন।


ছবি ১৪, মাছ বা এই ধরনের ভাঁজা ভাজির সময়ে শিশুদের কখনো চুলার ধারে আসতে দেবেন না।


ছবি ১৫, ভাঁজা হয়ে গেলে এভাবে তুলে রাখুন।

পরিবেশনাঃ

ছবি ১৬, পরিবেশনা আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। কেমন করে সাজিয়ে পরিবেশন করবেন।


ছবি ১৭, এই ময়ানে ভাঁজা ইলিশ বিকেলের নাস্তায় কিংবা খাবার সময়ে ভাতের সাথে পরিবেশন করা যেতে পারে। এমন কি, মেহেমান এলেও দেয়া যেতে পারে, মেহমান খেয়ে আপনার তারিফ করবে এতে কোন সন্দেহ নেই!  উপরের ছবিতে ভিতরের অংশ দেখুন, দেখেতে কেমন লোভনীয় দেখাচ্ছে! দারুন স্বাদ, একদিন খেয়েই দেখুন।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবীর (রেসিপির মশলায় সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে) ও মানসুরা হোসেন

বিদ্রঃ এই রেসিপির বাই প্রোডাক্ট হিসাবে, ময়ানে কাঁচা মরিচ ভাঁজা হয়েছিল, কারন কিছু ময়ান বেঁচে যাচ্ছিলো এবং তা কাজে লাগিয়ে আরো একটা মজাদার ভাঁজা পেয়েছিলাম। নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে আসতে পারেন।
>রেসিপিঃ ময়ানে কাঁচা মরিচ ভাঁজা (ঝাল যাদের প্রিয়, বাই প্রোডাক্ট)<

4 responses to “রেসিপিঃ ময়ানে ভাঁজা ইলিশ

  1. ১। ওহ দারুণ! সিদ্দীকা কবীরের বই দেখে আমাদের বাসাতেও এটা ২/১ বার করা হয়েছিলো, অসাধারণ খেতে! দেখেই জিভে জল চলে আসলো, হাহাহা 🙂

    ২। মাছের আঁশ ছাড়ানোর এই যন্ত্রটা খুবই কাজের, ধন্যবাদ এটার কথা বলার জন্য, অনেকেরই উপকার হবে। তবে এটা দিয়ে আমি আঁশ ছাড়ালে আঁশগুলো পুরো হাইজাম্প লংজাম্প করতে করতে আকাশ-বাতাস ভরিয়ে ফেলে, আমার এক বন্ধু এর জন্য বড় গামলায় পানিতে মাছ ডুবিয়ে তারপর ছাড়াতো 😀

    ৩। পদ্মার ইলিশ কী করে চিনতে হয়, এই নিয়ে আপনার মাছ-বিক্রেতা বিশুর টিপস আমাদের সাথেও শেয়ার করেন প্লীজ!

    ৪। ইলিশ চেনার কথায় মাথায় আইডিয়া এলো, আপনার পরবর্তী কোনো সিরিজ/ ব্লগপোস্টের জন্য এই টপিকটা ভেবে দেখতে পারেন “বাজারে গিয়ে কীভাবে ভালো মাছ/শাক/সব্জী/ইলিশ/মাংস/পদ্মার ইলিশ চিনবেন” আমার ধারণা এই পোস্ট/সিরিজ ব্যাপক হিট হবে!

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ রনি ভাই।
      বাংলাদেশে এ যাবত যত রান্নার বই দেখেছি তাতে তিনিই সেরা। অন্তত তিনি রান্না করে পরিমান লিখেছেন বলে প্রমান পাওয়া যায়। বাকী যারা আছে, বেশীর ভাগ না রান্না করেই অন্য থেকে কপি বা সংগ্রহ করে রেসিপির বই প্রকাশ করেন। আমি উনার একজন ভক্ত সমাজ। উনার জন্য দোয়া করি। উনার অনেক রান্না আমি করেছি এবং সব গুলোতেই উনার নাম নিয়েছি।

      আঁশ ছাড়ানোর এই মেশিনটা ভালই। হ্যাঁ, ছেলেরা কাজ করলে এদিক সেদিন উড়বেই! হা হা হা।।

      পদ্মার ইলিশ অনেকটা স্লিম ফিগারের, পেটে ঝুল নেই! হা হা হা।।

      আসলে আমি সিরিজ লিখতেই ভালবাসি! দুনিয়ার সব কিছুই সিরিজ, ধারাবাহিকতা। হা হা হা…

      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  2. আজ কোন কাজ হাতে নাই, তাই আপনার এই রেসিপিটা আজকের আমার এক্সপেরিমেন সাবজেক্ট।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s