গ্যালারি

রেসিপিঃ বাদাম ভর্তা


ভর্তা নিয়ে আর কি লিখবো! ভর্তার কথা মনে হলেই খেতে ইচ্ছা হয়, দেশ বিদেশে এমন কোন বাংলাদেশী আছেন নাকি যিনি ভর্তা পছন্দ করেন না! ভর্তার ঝাল পছন্দ না হতে পারে, কিন্তু ভর্তা! আহ, আমি তো ভর্তা পেলেই প্রথম প্লেট সাবাড় করে দেই।  নিশ্চয় আপনিও! তবে আমাদের দেশে প্রায় পরিবারেই বিশেষ করে দুপুরের খাবারের সময়ে ভর্তা করা হয়ে থাকে। ভর্তা অপেক্ষাকৃত একটু পাটাপুতার ব্যাপার বলে অনেকে বানাতে এড়িয়ে চলেন কিন্তু পেলে ছাড় দেন না!

যাই হোক, এযাবত আপনাদের আমি অনেক ভর্তার রেসিপি দিয়েছি, মোটামুটি আমাদের দেশের প্রায় সকল কমন ভর্তার রেসিপি দেয়া হয়ে গেছে তবে আমাদের দেশে এমন ভর্তা অনেক পদের ভর্তা আছে যা আমি এখনো খাই নাই বা বানাই নাই। আমি আশা করি আগামীতে আমি আরো ভর্তার প্রতি যত্নবান হব এবং আপনাদের আরো আরো ভর্তার রেসিপি দিতে পারবো।

এই সুত্রে চলুন আজ একটা ভর্তার রেসিপি দেখে ফেলি, মনে হচ্ছে এই ভর্তা আপনারা অনেকে এখনো খেয়ে দেখেন নাই (কারন এটা কমন হয়ে উঠে নাই), এই ভর্তার রেসিপি পেলে আশা করি আপনারা বানিয়ে খাবেন এবং ভর্তার মজা উপভোগ করবেন।

উপকরনঃ
–  কিছু খোসা ছাড়ানো বাদাম (রাস্তার ধারের বাদাম ভাঁজা কিনে নেয়াই উত্তম)
– কিছু পেঁয়াজ কুঁচি
– কিছু রসুন কুঁচি
– কাঁচা মরিচ, ঝাল বুঝে
– লবন, পরিমান মত

প্রনালীঃ

বাদাম বালু দিয়েই ভাঁজা উচিত তবে ঠেকার কাম এভাবে চালিয়ে দিতে পারেন।


বাদাম কেমন ভাজলেন তার উপর নির্ভর করবে এই ভর্তার স্বাদ। তবে আমি মনে করি আপনি রাস্তার ধারের বাদাম ভাঁজা কিনে নিলেই ভাল হবে, নতুবা বাদাম একটু বেশী ভাঁজা হয়ে গেলে বাদামের স্বাদ ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। আপনি নিশ্চয় জানেন যে, বাদাম একটু বেশী ভাঁজা হয়ে গেলে একটু তিতা স্বাদ এসে পড়ে। তাই আপনি রাস্তার ধারের সুনিপুন বাদাম ভাঁজা কিনে নিতে পারেন।


খোলায় পেঁয়াজ কুঁচি, মরিচ এবং রসুন টেলে নিন। মরিচের মাথা ফালি করে দেবেন নতুবা ফুটে উঠবে। সাবধানে।


নাড়িয়ে মাধ্যম আঁচে ভাল করে পুড়িয়ে নিন।


এবার বেটে নিন।


মিহীন করে বাটা অবশ্যক।


এবার সামান্য লবন যোগে (পরিমান কম দিন, পরে স্বাদ দেখে দেয়া যাবে) বাদাম বাটুন।


এক বাটা দিয়ে মশিয়ে নিন। (যদি বেশী শক্ত হয় তবে কয়েক ফোটা বা এক চামচ পানি দিয়ে নিতে পারেন, বেশী নয়, বেশী দিলে স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে)


আবার মিহিন করে বাটুন, ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লবন লাগলে দিন। স্বাদ দেখুন।


ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


আসুন, গরম ভাত নিয়ে বসুন। আমি নিশ্চিত খেয়ে আপনাকে বলতেই হবে ওয়াও!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন, মিতা আপা

(এই ভর্তা আমি ও প্রথম খেলাম গতকাল রাতে তবে এই রেসিপি নিয়ে কিছু মজার কথা আছে, এই রেসিপি সংগ্রহ করেছেন আমার ব্যাটারী এবং তিনি তার বড় বোনের বাসায় প্রথম এই ভর্তা খেয়েছিলেন আর উনার বড় বোন এই ভর্তা প্রথম খেয়েছেন উনাদের বিল্ডিং এর দোতালার এক বাসায়, সেই আপা থেকে তিনি এই রেসিপি শিখে নিয়েছিলেন। মোটামুটি বলা চলে এই রেসিপি মীরপুর থেকে রামপুরা এসেছে এবং এখন তা সারা বিশ্ব ছড়িয়ে গেল! হা হা হা)

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ বাদাম ভর্তা

  1. খেয়াছিলাম কোন এক কালে!!! অসাধারণ স্বাদ!!! (Y)

    Liked by 2 people

  2. দারুন রেসিপি. করে দেথতেই হবে!

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s