গ্যালারি

আড্ডাঃ জন্মদিন এবং কিছু ভাবনা


জন্মদিন আসলে এখন আর ভাল লাগে না। কারন বয়স বাড়ার সাথে সাথে এখন এটা বুঝতে পারছি যে, আমি সময়ের অবর্তনে হারিয়ে যাবার পথে আরো এক বছর এগিয়ে গেলাম, এই তো? এক সময় জন্মদিনে অনেক মজা করে সাময় পার করতাম আর এখন এই দিন আসলে নিজকে ঘুটিয়ে চলি (প্রবাসের সময় গুলোতে কাউকে তেমন বলতামই না)। চোখের সামনে অনেক বন্ধুকে হারিয়ে যেতে দেখেছি বলে এই ভাবনা আমাকে আরো বেশি পেয়ে বসে। তবে এটা ঠিক যে, আমার মধ্যে মৃত্যু চিন্তা সেই ছোট বেলা থেকে জমে বসে আছে। আমি ছোট বেলায় অনেক বেশি বই, পত্রপত্রিকা পড়তাম এবং এই মৃত্যুর চিন্তা সেই সময়েই আমাকে পেয়ে বসেছে, বই পত্র থেকেই মৃত্যু নিয়ে অনেক জেনেছিলাম। জন্ম নিলেই মরতে হবে এটা আমি ছোট বেলা থেকে বুঝতে পারতাম। তবে আমার জন্য এর ফলাফল ভাল, মৃত্যু বুকের মধ্যে ধারন করার ফলে অনেক পাপের পথে আমি যাই নাই, সুযোগ থাকার ফলেও আমি অনেক পাপের কাজ করি নাই। মৃত্যু চিন্তা আমাকে অনেক ধীর স্থির এবং ভাল পথে চলতে সাহস যুগিয়েছে। মৃত্যু চিন্তার জন্য আমি কখনো কাউকে প্রতারিত করি নাই,  করতেও চাই না।

জন্মদিন এলে প্রথমেই মায়ের কথা মনে পড়ে, মায়ের মুখ ভেসে উঠে, যে মায়ের জন্য আমি এই দুনিয়ার মুখ দেখেছি (তবে মনে কষ্ট লাগে এই মায়ের জন্য আমি তেমন কিছুই করতে পারি নাই, এখনো পারছি না, বরঞ্চ আমি উনাকে নানান ভাবে কষ্ট দিয়েছি, উনার বাধ্যগত হই নাই কখনো, আগামীতে কাছে পেলে পা ধরে মাফ চাইতে হবে এবং চাইবো!) আমার মাকে আমি অন্যদের তুলনায় একটু বেশি ভালবাসি কারন আমি দেখেছি, তিনি আমাকে তার অন্য সন্তানদের থেকে একটু বেশি আদর করতেন। আমার জন্য তিনি সব সময়েই ভাল খাবার বা ভাল পিস তুলে রাখতেন, আমি যা খেতে পছন্দ করতাম বা মাছের মাথা কিংবা মুরগীর বিশেষ টুকরা, সেটা তিনি একটু বড় করে কেটে রান্না করতেন। তার এই বিশেষ আদর আমি খেয়াল করতাম, ফলে এটা সত্য যে, আমি পরিবারে অন্য ভাইদের তুলনায় তেমন কাজ করি নাই বা না করে খাবার বেশি পেয়েছি (অন্য ভাইদের কাছে এইজন্য সরি বলাও অবশ্যক)। আম্মা আমাকে কখনো তেমন করে কঠোর নিয়ন্ত্রন করেন নাই, ফলে আমি স্বাধীনতা পেয়েছি এবং কম বয়স থেকে অনেক কিছু জেনেছি। যাই হোক, আমার আম্মাকে দেখেছি তিনি আমাদের ভাইবোনদের জন্মদিন খেয়াল রাখতেন এবং সেই দিনে (তখন এমন উইস করার বা বাড়াবাড়ি করার সুযোগ, সময় ছিল না) ভাল রান্না করতেন, অন্তত সেদিন মুরগী পোলাউ টমেটো সালাদ পাওয়া যেত। প্রবাসে চলে গেলেও দেখেছি তিনি দিনটা মনে রাখতেন এবং ফোন করলে, আজ যে আমার জন্মদিন তা মনে করিয়ে দিতেন। এখন তিনি নিজেই প্রবাসী,আমি জানি আজকের দিনটাও তিনি মনে রেখেছেন (আমি কিছুক্ষন পরে উনাকে ফোন দিব বলে ভাবছি)।

যাই হোক বিবাহের পর জন্মদিন গুলো একটু ভিন্ন হয়ে এসেছে! নানান অভাব, অভিযোগে দিনটা মনে না রাখতে চাইলেও স্ত্রী মনে রাখেন, উপহার দেন এবং কিছু না হলেও ঘরে ভাল খাবার রান্না করেন (যদিও আগে বাইরে হোটেল রেষ্টুরেন্টে খেতে হত, এখন খরচাপাতি বেড়ে যাওয়াতে বাইরের চেয়ে ঘরে খেতেই ইচ্ছা করি)। এর পর যখন ছেলের বাবা হলাম (এক থেকে দুই) এখন রাত বারটায় কেক কাটতে হয়, হাল্কা পাতলা সারপ্রাইজ পাই, ভাল খাবার রান্না হয় এবং এটা এখন বছরের নিয়ম হয়ে পড়ছে, যেমনি অন্যদের ক্ষেত্রেও!


আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা। আনন্দে কাটুক আপনাদের/আমাদের সবার সারা জীবন। (হাল্কা ব্যাখ্যাঃ বন্ধুরা, কেকের এই অবস্থা করেছে আমাদের ব্যালট! যা জানতে পারলাম, কেক এনে রাখার পর সে সেই কেকের প্যাকেটে আক্রমন চালায় এবং তাতে কেকের হাল এমন হয়ে যায়!) — with Mansura Hossain and Ajmain Udraji.


নিজের আনন্দের চেয়েও এখন এদের আনন্দই চোখে বেশি ধরা দেয়!

যাই হোক, এভাবেই আজকাল জন্মদিন চলছে! জন্মদিনের দিনে সাধারণত বাসায় থাকা হয় না। রাতে বাসায় ফিরে আজ আমি নিজেই ভেবেছিলাম কিছু রান্না করবো। কিন্তু আজ কিছুই করতে হল না। কারন তেমন বেশি আইটেম নেই! হা হা হা… চলুন দেখে ফেলি। কথা আরো আছে, পরে হবে!


সালাদ।


হাড়ি কাবাব।


সাধারন পরোটা।


লুচি, এটা বড় ছেলের জন্য করা হয়েছে।


এই তো!


এর চেয়ে আর ভাল খাবার কি হতে পারে। শোকর আল্লাহামদুল্লাহ।


ফেসবুকে ওয়ালে, ইনবক্সে, মোবাইলে, মেসেজে এই বছর মনে হল সব চেয়ে বেশী শুভেচ্ছা পেয়েছি। সত্য, আপনাদের এই ভালবাসার জবাব আমার কাছে নেই। কাটুনিষ্ট কাওছার মাহামুদ ভাইয়ের এই কাটুন পেয়ে প্রান খুলে হেসেছি! অসাধারন কনসেপ্ট, চমতকার আঁকিয়ে!

প্রিয় রেসিপি পাঠক/পাঠিকা, ভাই/বোন বন্ধু, আপনাদের সবাইকে প্রানঢালা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা আমাদের রেসিপি দেখেন, আমাদের সাথে থাকেন, এর চেয়ে আর আমাদের ভাল লাগা কি হতে পারে।

আশা করি আগামীতে আমাদের আরো আরো কথা হবে, গল্প হবে, চমৎকার রেসিপি হবে, সাথে থাকুন। সবাইকে শুভেচ্ছা।

রান্না কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

12 responses to “আড্ডাঃ জন্মদিন এবং কিছু ভাবনা

  1. acha vabi eto shundor keno??????

    Liked by 1 person

  2. Shuvo janmadin Bhaiya…….
    deri kore shuvechcha jananor jonno sorry………………

    Liked by 1 person

  3. শুভ জন্মদিন প্রিয় সাহাদাত উদরাজী ভাই! জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো!

    //দেরীতে উইশ করার জন্য সরি//

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s