Gallery

রেসিপিঃ শোল মাছ রান্না ঝালে ঝোলে (কাঁচা মরিচের ঝালে)


আমাদের দেশী মিঠা পানির মাছের স্বাদের তুলনা হয় না, এই মাছ গুলো যিনি জীবনে একবার খেয়েছেন তিনি এর স্বাদ ভুলতে পারবেন না অথবা এই মাছের কথা ভুলতে পারবেন না। আমাদের দেশীয় কৈ, শিং, মাগুর, শোল, টাকি, পুটি, ফলি, টেংরা, চাপিলা, ভেদা, খৈইলশা, বাইম সহ ইত্যাদি মাছের স্বাদ অতুলনীয়। দুনিয়াতে আপনি যদি বাংলাদেশী বা বাংগালী হয়ে থাকেন তবে দুনিয়ার অন্য যে কোন পান্থে যান না কেন আপনার এই মাছ গুলোর কথা মনে পড়বেই! নানান দেশের নানান মাছ খাবেন বটেই তবে মন পড়ে থাকবে আমাদের এই দেশী মাছেই! আমি অনেক দেখেছি! হা হা হা।

সব ছেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই মাছ গুলো আমাদের দেশে তাজা পাওয়া যায় এবং তাজা কেটে কুটে রান্না করলে স্বাদের কথা চিন্তাই করতে হয় না, অটোমেটিক স্বাদ হয়ে যায়! আমার কাছে মাছ রান্না খুব সহজ কাজ মনে হয় এবং আমার এও মনে হয় খুব কম মশলা পাতিতেই মাছ রান্না করা যেতে পারে। এমন কি যদি আপনার কাছে সামান্য পেয়াজ, মরিচ, লবন ও তেল থাকে তবেও চলবে (মাছ পুড়িয়েও খেয়ে বেলা চালিয়ে দেয়া যেতে পারে)। যাই হোক মাছ রান্নায় আমি আলাদা আনন্দ পাই। কারন মাছ রান্না করে টেবিলে পরিবেশন করার মধ্যে একটা আলাদা ভাব আছে! অন্যদিকে মাছের রান্নার রঙ দেখেই বুঝে ফেলা যায়, কেমন হল। মাছ রান্নাতে সময় কম লাগে, মোটামুটি ২৫/৩০ মিনিটেই যে কোন মাছের ঝোল রান্না করে ফেলা যায়। আর গরম ভাতের সাথে মাছের ঝোল, আহ! কি আছে এই দুনিয়ায়!

যাই হোক, আমি আপনাদের অনেক মাছ রান্না দেখিয়েছি, এযাবত প্রায় এক শতের কাছাকাছি মাছের রান্না এনেছি এবং সামনে আরো আরো দেখাবো। আমি চাই যারা আপনারা নুতন রান্না করতেছেন তারা মাছ রান্না দিয়ে আপনাদের রান্নার অভিজ্ঞতা নিন। ভাল মাছ রান্না করে আপনারা আপনাদের হাতের যশ করে নিন। মাছ রান্না দিয়ে আপনি আপনার রান্নার এক্সপ্রেরিমেন্ট করে নিতে পারেন। রান্না যেহেতু পুরাই অভিজ্ঞতার ব্যাপার, সুতারাং যত বেশি রান্না করবেন আপনি ততই শিখবেন। এক রান্নায় একটা কিছু ভুল করলে, পরের রান্নাতে আপনি তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। অন্যদিকে ব্যবহারিকভাবে আপনি বার বার রান্না করলে, নিজের মাথায় সব কিছু প্রবেশ করে যাবে এবং এক সময়ে চোখ বন্ধ করেই রান্না করতে পারবেন। বার বার রান্না করলে রান্নার উপকরনের অনুমান আপনার চোখই বলে দিবে এবং ভুল হবার চান্সই থাকবে না! যারা রান্নায় তেল, লবন, মশলাপাতি বেশি কম করেন তারা আসলে রান্নায় মনোযোগী নন অথবা মাঝে মাঝে রান্না করেন এবং এইজন্যই এই ভুল গুলো হয়ে থাকে।

আজকের এই রান্নাও নূতনদের জন্য, যারা পুরানো রান্না করেন তারাও দেখতে পারেন কারন এই রান্নাতে কিছুটা মশলার ভিন্নতা আছে। আদা ও শুকনা মরিচ পরিহার করা হয়েছে এবং কাঁচা মরিচের ঝাল ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে রান্নার রঙ আরো সুন্দর হয়েছে। চলুন দেখে ফেলি, শোল মাচের ঝোল রান্না, তবে এই ঝোল গাঢ় হয়েছে, পরিবেশন করা হয়েছে গরম ভাতের সাথে।

পরিমান ও উপকরনঃ
– কয়েক টুকরা শোল মাছ (আমরা ছোট বড় মিলিয়ে ৮/১০ টুকরা নিয়েছিলাম)
– পেঁয়াজ কুচি, পেঁয়াজে মজা বাড়ে
– কাঁচা মরিচ, ৫/৬টা, বড়, ঝাল বুঝে
– রসুন বাটা, এক চা চামচ (দেশি, ইন্ডিয়ান/বিদেশী হলে সামান্য বেশী নিতে হবে)
– জিরা বাটা, হাফ চা চামচের কম
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– তেল, কয়েক টেবিল চামচ, কম তেলেই রান্না করতে পারেন, ননষ্টিকি কড়াইতে
– লবন, স্বাদ মত

– ধনিয়া পাতার কুঁচি, ইচ্ছামতন

প্রনালীঃ

কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি, কাঁচা মরিচ এবং হাফ চা চামচ লবন দিয়ে রান্না শুরু করুন। কাঁচা মরিচ গুলোর পেট চিরে দিবেন। গোটা মরিচ দিলে তেলে ভাঁজার সময় ফুটে উঠতে পারে, এতে আপনি আহত বা ভয় পেতে পারেন! হা হা হা…


ভাল করে ভাঁজুন।


এবার রসুন ও জিরা বাটা দিন। ভাল করে নাড়িয়ে ভাঁজুন, আগুন মাঝারি থাকবে।


পেঁয়াজের রঙ হলদে হয়ে গেলে এবার এক কাপ পানি দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন।


আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন, এবার হলুদ গুড়া দিন। ভাল করে নাড়িয়ে জ্বাল দিন।


তেল উঠে এই অবস্থায় এসে যাবে।


এবার ধুয়ে রাখা মাছ গুলো দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিনিট কয়েক জ্বাল দিয়ে নিন।


মাছ থেকে পানি বের হয় তবুও যদি মনে করেন একটু বেশী ঝোল রাখবেন তবে এই সময়ে আরো হাফ কাপ পানি দিতে পারেন। ব্যস, এবার ঢাকনা দিয়ে আগুন কমিয়ে মিনিট ১০ রাখুন। মাঝে একবার নাড়িয়ে দিতে পারেন, তবে মাছ নাড়াতে সাবধানে, মাছ নরম বলে ভেঙ্গে যেতে পারে। সাবধানে এবং একবার নাড়িয়ে দিলেই হয়ে যায়।


কিছুক্ষনের মধ্যেই এই অবস্থায় এসে যাবে।


ঝোল কমাতে চাইলে আগুন বাড়াবেন আর না চাইলে আগুন আরো কমিয়ে নিন। এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ‘ওকে’ বলে আগে বাড়ুন!


এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিটিয়ে দিন। আগুন বন্ধ করে কিছুক্ষন ঢাকনা দিয়ে রাখুন, ব্যস হয়ে গেল!


পরিবেশনের জন্য টেবিলে আনুন।


আহ, দারুন।

(এটা আমার কিছুক্ষন আগের রান্না, রান্না করে টেবিলে এনে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। শুধু কাঁচা মরিচের ঝালে এই মাত্র শোল মাছ রান্না করলাম, এখনো রান্না টেষ্ট হয়নি! রান্না টেষ্টার Ajmain Udraji কে তেল দিয়ে চলছি, ‘আয় বাবা, টেবিলে বস’! )

আশা করছি যারা নুতন রান্না শিখতে চাইছেন, এভাবে যে কোন দেশি মাছ রান্না করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবেন। সবাইকে শুভেচ্ছা, ভাল থাকুন।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ শোল মাছ রান্না ঝালে ঝোলে (কাঁচা মরিচের ঝালে)

  1. Awesome hoyese.nejeke control korte parse na.onek khete issa korse. Protidin apner recipe site dakhe are amar diet ar barota beje jay.atto valo ranna ke Kore koren vaia ?

    Liked by 1 person

  2. রসুন না দিলে হবেনা?

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s