Gallery

রেসিপিঃ ফুলকপি ও মুরগীর মাংস (সকালের নাস্তায়)


ফেসবুকে ইচ্ছা করেই একটু বেশী একটিভ থাকি, কারন ফেসবুকে সরাসরি বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করা যায়, প্রায় ফেস টু ফেস! এবং ফেবুতে  ইচ্ছা করেই খাবারের ছবি একটু বেশী পোষ্ট করে থাকি, যদিও পাশাপাশি নানান বিষয়ে পিট বাঁচিয়ে লিখতে চেষ্টা করি! হা হা হা। তবে মাঝে মাঝে এমন বন্ধু পেয়ে যাই যারা খাবার দাবারের ছবি পছন্দ করেন না, মোটামুটি গাইগুই করলেই বুঝতে পারি। ফেসবুক যে একটা চ্যানেল তা উনারা বুঝতে চান না, চ্যানেলে যে সব সময়ে এক ধরনের কথাই থাকবে তা কি করে হয়! যাই হোক, গতকাল ফেবুতে একটা স্ট্যাটাস লিখেছিলাম, আসলে বাহারাইন প্রবাসী শফিক ভাইয়ের ফোনের কথাটা সবাইকে জানাতে ইচ্ছা হয়েছিল। (শফিক ভাই, আপনি যদি এই লেখা পড়ে থাকেন তবে আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)

খাবার দাবারের ছবি বেশি দেই বলে মাইন্ড খাইয়েন না! খাবার দাবারের ছবি দিয়ে আসলে আমার টার্গেট থাকে ভিন্ন, আমার ইচ্ছা থাকে বাংলা ভাষাভাষী যারা রান্না জানেন না তাদের গল্প ও রান্না‘র মুল সাইটে নিয়ে যাওয়া এবং প্রবাসী, সলিড ব্যচেলর, বিবাহিত ব্যচেলরদের বাংলাদেশের সাধারন ও সহজ রান্নায় হেল্প করা। প্রতিদিন, প্রতিক্ষনে আমি আমার সেই চেষ্টায় কিছুটা হলেও সাফল্য লাভ করি। আজ বাহারাইন থেকে প্রবাসী শফিক ভাই ফোন করেছিলেন, তিনি জানালেন তিনি বিবেকের তাড়নায় আমাকে শুভেচ্ছা ও দোয়া করতে এই ফোন করেছেন। তিনি যখন বাহারাইন যান তখন তিনি রান্না জানতেন না, অনেক কষ্ট করেছেন, পরে একদিন আমাদের সাইট পেয়ে সাহস করে রান্নায় লেগে যান এবং আজকাল রোষ্ট রান্না করেও খাচ্ছেন! ইত্যিমধ্যে শফিক ভাইয়ের রান্নায় ঘ্রান বন্ধুদের মধ্যেও লেগেছে, রুমমেট সহ বন্ধুরা শফিক ভাইয়ের হাতের রান্না খেয়ে তারিফ করছেন। আপনারাই বলুন এই কথা শোনার পর আমি খাবারের ছবি ও লিঙ্ক না দিয়ে কি পারি!” http://wp.me/p1KRVz-1lt 

যাই হোক, কথা তো চলতেই থাকবে, বেঁচে আছি যতদিন! চলুন, আজ আর একটা সহজ এবং সুন্দর রান্না দেখি। সাধারণত যে সব পুরুষেরা সকালে নাস্তা খেয়ে কাজে বের হয়ে থাকেন এবং দুপুরের বাসায় খাবার সুযোগ পান না তাদের জন্যই এই রান্না, নিজে কাজে লেগে যেতে পারেন কিংবা আপনার সঙ্গিনীকে বলেও রান্নাটা করিয়ে নিতে পারেন, কম মসলায় রান্না। রুটি বা পরোটার সাথে খেয়ে এক্কাপ গরম চা খেয়ে বাসা থেকে বের হলে আশা করি সারাদিন মন ভাল হয়ে কাটবে। চলুন দেখে ফেলি। তবে আগেই একটা কথা বলি, কম তেলেই রান্না করা ভাল, যদিও আমরা একটু বেশী তেল দিয়েছিলাম, সরি! তেল দিলে স্বাদ বাড়ে কিন্তু এত স্বাদের কি দরকার, সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকাই কাম্য।

পরিমান ও উপকরনঃ (পরিমান আপনিও অনুমান করতে পারেন)
– ফুল কপি,
– কিছু মুরগীর গোসত,
– দুই/একটা আলু, ইচ্ছা হলে

– পেঁয়াজ কুঁচি
– আদা বাটা
– রসুন বাটা
– হলুদ গুড়া
– জিরা গুড়া
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ, লাল মরিচ গুড়া দেয়া হচ্ছে না বলে সামান্য বেশী দিতে হবে
– কয়েকটা এলাচি

– লবন (বুঝে শুনে, পরিমান মত, দুই ধাপে)
– তেল (হাফ কাপ সব মিলিয়ে বা কম)

– ধনিয়া পাতার কুঁচি, একটু বেশী হলেই ভাল

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ফুলকপি ও আলু সামান্য ভেঁজে তুলে নিন। এবং সেই তেলেই মুল রান্না শুরু করুন।


সামান্য লবন যোগে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি ভাঁজুন, কয়েকটা কাঁচা মরিচ কেটে দিতে পারেন। এলাচিও দিয়ে দিন।


ভাঁজা হয়ে গেলে মুরগীর গোসত দিন, সাথে আদা বাটা ও রসুন বাটা দিন।


আগুন পুরো আঁচে রাখতে পারেন। হলুদ গুড়াও দিয়ে দিন। ভাল করে খুন্তি দিয়ে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন।


জিরা গুড়া দিতে ভুলবেন না।


কিছুক্ষনের মধ্যেই এই অবস্থায় এসে যাবে। এবার আগুন মাধ্যম আঁচে করে নিন।


গোসত সিদ্ধ হতে হবে, তাই হাফ বা এক কাপ পানি দিতে পারেন।


এই অবস্থায় এসে যাবে, চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না।


এবার ভেঁজে তুলে রাখা ফুলকপি ও আলু দিয়ে দিন।


আগুন বেশী থাকাই ভাল। বেশী নাড়ানো যাবে না, এতে ফুলকপি ভেঙ্গে যাবে।


ঝোল শুকিয়ে যাক।


ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন। আরো কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে পারেন।


এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন এবং মিশিয়ে নিন। ঝোল শুকিয়ে নিন।


ব্যস, হয়ে গেল।


গরম পরোটা বা রুটির সাথে জম্বে বেশ! আশা করি চেষ্টা করে দেখবেন। এটা অবশ্য আমরা যে সকালে ভাঁজি খেয়ে থাকি অনেকটা সেই রকমেই!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

4 responses to “রেসিপিঃ ফুলকপি ও মুরগীর মাংস (সকালের নাস্তায়)

  1. যদিও রান্নাবান্না কখনো করা হয় নাই। তবুও রেসিপটা পরে দারুন লাগলো। ভবিষ্যতে যদি কখনো রাধতে হয় তাহলে আপনার সাইটটাই এক নম্বরে রাখবো 🙂

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s