গ্যালারি

রেসিপিঃ নিরামিষ তরকারি (ফুলকপি, আলু, বেগুন, টমেটো ও মুগডাল)


দুনিয়াতে হাজারো মানুষ, হাজারো কিসিমের খানা দানা, এই মানুষ এটা খায় তো ওই মানুষ ঐটা খায় না, কত কি! এই গোষ্ঠী এটা ব্যান করছে তো অন্যরা সেটা ব্যান করছে! খাবার দাবার নিয়েও প্রকার ভেদ এই দুনিয়াতে কম নয়। তবে আমি খাবার দাবার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, খাবার দাবার একটা গোষ্ঠী নির্বাচিত করে থাকে সাধারণত খাবার পাবার উপর (মানে কোথায় কি পাওয়া যায়) এবং পরিবেশ ভেদে (গরম দেশে ঠান্ডা দেশের খাবার চলে না)! একবার টিভিতে দেখলাম, অ্যামাজন এলাকার একটা গোষ্ঠী এক ধরনের গাছের মুল (অনেকটা আমাদের মুলার মত, তবে মুলা নয়) গুড়া করে আটার মত করে রুটি বানিয়ে খায়, পরে দেখলাম এই গাছটা ঐ এলাকার এমন এক ফলনশীল জাত যে, সেই এলাকাতেই এটা বেশি ফলে, যেখানে সেখানে পাওয়া যায়। কাজেই ওরা সেটা খাবে না তো কি খাবে!

খাবার দাবার নির্বাচনে আমাদের পূর্ব পুরুষের অবদান অনেক, পরিবেশ বা এলাকা ভেদে উনারা এই সব খাবার আমাদের জন্য রেখে গেছেন! আমরা বন জঙ্গলে পাপ্ত অনেক খাবার মানে বন জঙ্গলের অনেক গাছের ফল খাই না, লোক মুখে চলে আসছে এটা খাওয়া যাবে না, খেলে মারা যাবে বা বিষাক্ত! এই সব কি করে বুঝা সম্ভব হয়েছে, আমার তো মনে হয় কেহ না কেহ এই সব খেয়ে প্রান দিয়ে প্রামান করে গেছেন যে, সেই ফল বিষাক্ত! অনেকটা সাপের কামড়ের মত! সাপে কামড় দিলে বিষের ক্রিয়ায় মানুষ বা প্রানী মারা যায় এটা বুঝতে প্রায় যুগে যুগে মানুষ প্রান দিয়েছে! তার অনেক পরে বিজ্ঞান তার মেশিন পত্র দিয়ে হয়ত প্রমান করেছে, কোন খাবারে কি আছে বা কোন খাবার শরীরের কি কি কাজে লাগে! হা হা হা, যাই হোক খাবার দাবার নিয়ে আমাদের কিছু চিন্তা ভাবনা মাথায় রাখতে হবে! নাইলে উলটা পালটা খেয়ে আমাদেরও মরে প্রমান করতে হবে যে, আমরা বিষাক্ত খাবার খেয়েছি!

শরীর সুস্থ্য বা বেশি দিন বাঁচতে হলে খাবার সুষম হতেই হবে বা খেতে হবে। কোন বয়সে কি খাওয়া যাবে সেটা নিজকেই বুঝতে হবে। একই হাড়ির খাবার খেয়ে কেহ যৌবন পায় আর কেহ মরে যায়! একই ঘরের খাবার খেয়ে কারো শরীর গড়ে আর কারো ভেঙ্গে পড়ে! দুনিয়ার কত কি বিধি! দুনিয়ার এই নিয়তি বুঝা বড় দায়!

যাই হোক, চলুন আজ একটা সহজ এবং মজাদার রান্নার রেসিপি আপনাদের দেখাই। তবে এই রান্নাটা আমি দুনিয়ার বেশির ভাগ মানুষের কথা চিন্তা করেই রান্না করেছি। আশা করি, এই রান্নাটা প্রায় সকল দেশের মানুষই খেতে পারবে। প্রায় সকল ধর্মের মানুষের জন্যই এটা বাঁধা হতে পারে না বলেই মনে হচ্ছে! হা হা হা। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, খাবার না পেলে একজন মানুষকে যে খাবার দেবেন সেই খাবারি সে খেতে বাধ্য!


আজকের এই নিরামিষ রান্নায় মুগের ডাল ব্যবহার করা হয়েছে। মুগের ডাল সমগ্র ডাল জগতে একটা আলাদা মর্যদা নিয়ে বসে আছে, ঘ্রানে সেরা। তবে এই মুগ ডালের ঘ্রান বের করে আনতে, রান্নার আগে সামান্য ভেঁজে নিতে হয়। ভাঁজলেই ঘ্রান বের হয় এবং ভেঁজেই পানিতে দিয়ে ধুয়ে নিয়ে রান্না করতে হয়। (উপরের ছবিটা আগের কোন একটা রেসিপি থেকে নেয়া হয়েছে)

চলুন দেখে ফেলি, রান্না শুরু করার বা চুলায় চড়াবার আগে হাতের কাছে সব কিছু যোগাড় করে নিন, এতে রান্না ভাল হবে এবং আপনিও রান্না করতে স্বস্তি পাবেন।

পরিমান ও উপকরনঃ (পরিমান আপনিও অনুমান করতে পারেন)
– কয়েক পদের সব্জি, ৭৫০ গ্রাম হতে পারে (মুল হচ্ছে ফুলকপি, আমরা সেই সাথে নিয়েছি একটা বেগুন, গোটা দুই আলু, দুইটা টমেটো), আপনি আপনার ইচ্ছামত এই জাতীয় সব্জি নিতে পারেন, ব্যাপার না!
– হাফ কাপ মুগের ডাল

– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপের কম
– রসুন বাটা, এক টেবিল চামচ দেশী
– মরিচ গুড়া,  এক চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়া, এক চা চামচ
– কয়েকটা এলাচি, ২/৩টা
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ, আস্ত ৫/৬টা

– লবন (বুঝে শুনে, পরিমান মত, দুই ধাপে)
– তেল (হাফ কাপ সব মিলিয়ে বা কম)

– ধনিয়া পাতার কুঁচি, একটু বেশী হলেই ভাল যদি আপনি পছন্দ করেন

প্রস্তুত প্রনালীঃ

সব্জি গুলো কেটে ধুয়ে এভাবে রাখুন এবং মুগের ডাল সামান্য ভেঁজে পানিতে ধুয়ে এই সকল সব্জির সাথে রেখে দিতে পারেন। আলাদা রাখলেও দোষ নেই, আমরা ছবি কমাবার স্বার্থে এই ভাবে রেখেছি। এবার মুল রান্নায় চলুন।


কড়াইতে তেল গরম করে তাতে এলাচি, পেঁয়াজ কুঁচি ও সামান্য লবন দিয়ে ভাঁজুন, এর পর একে একে আদা, রসুন বাটা দিয়ে ভাল করে ভেঁজে নিয়ে এক কাপ পানি দিন এবং এর পর মরিচ ও হলুদ দিন এবং তেল উঠা না পর্যন্ত নাড়িয়ে ভাঁজুন। এর মধ্যে কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিতে পারেন। আগুন মধ্যম আঁচে থাকবে। কিছুক্ষনের মধ্যেই তেল উঠে যাবে এবং উপরের ছবির মত দেখাবে। (এই রকম ঝোল আমরা আরো অনেক পোষ্টে আরো ডিটেইলস দেখিয়েছি)


এবার সব্জি গুলো ও মুগের ডাল দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে কয়েক মিনিট রাখুন। আগুন মাধ্যম আঁচে।


এবার এক কাপ পানি দিয়ে দিন, পানি কিছুটা কম দেয়াই ভাল, ঝোল তেমন না চাইলে।


ভাল করে মিশিয়ে এবার ঢাকনা দিয়ে আগুনের আঁচ কমিয়ে মিনিট ১০/১৫ রাখুন। মাঝে উলটে একবার নাড়িয়ে দিতে পারেন তবে সাবধানে, ফুলকপি যেন ভেঙ্গে না যায়।


ঠিক এই অবস্থায় এসে যাবে। শুধু আলু মজলো কিনা দেখুন, আলু নরম হওয়া মানে সব হয়ে গেল।


ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন। ঝোল তেমন না রাখতে চাইলে আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন।


এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিটিয়ে দিন।


মিশিয়ে নিন, ব্যস! আমি এই সব্জি পরোটার সাথে পছন্দ করি বলে কিছুটা ঝোল রেখেছি, আপনারা চাইলে ঝোল আরো কমিয়ে নিতে পারেন। তবে ফুলকপি যে বেশি না গলে যায় সে দিকেও লক্ষ রাখতে হবে!


এই নিন আপনার প্লেট!


রাতে বা সকালের নাস্তায় এটা একটা স্বাদ এবং পুষ্টিকর খাবার বলে আমি মনে করছি। তবে এটা খেতে মজা পরোটার সাথে, রুটি বা সাদাভাতের সাথে যে চলবে না, তা বলছি না, দৌড়াবেও!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আপনাদের জন্য নিয়ে আসছি আরো আরো মজাদার রেসিপি, আমাদের সাথেই থাকুন, আশা করি আনন্দ পাবেন।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ নিরামিষ তরকারি (ফুলকপি, আলু, বেগুন, টমেটো ও মুগডাল)

  1. Thank u for sharing this super easy & extremely good recipe which we cooked usually at home but without “Mugh Dal”. Next time must be trying to follow you & let you know.

    Vaiya, please share lots of simple but nutritious ” Niramish Torkari” for those people who doesn’t take any red meat and also some fishes too, because of some physical disorder.

    Thanks again.

    Liked by 2 people

    • ধন্যবাদ বোন,
      মুগ ডালের ঘ্রান বেশ আনন্দদায়ক, আশা করি একদিন রান্না করে দেখবেন। হ্যাঁ, বেশ কিছু নিরামিষ রান্না আছে, সে গুলো একটা ক্যাটাগরীতে নিয়ে আসতে হবে এবং সামনে আরো আরো নিরামিশ তরকারি রান্না করবো।

      আপনাকেও শুভেচ্ছা জানাই।

      Liked by 1 person

  2. It was really good in taste and healthy also. Please give more healthy recipe.

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s