গ্যালারি

রেসিপিঃ টিকিয়া (বিবাহ খাবারের অত্যবশকীয় আইটেম)


বিবাহ দুনিয়ার একটা জনপ্রিয় শব্দ! বিবাহিত অবিবাহিত সবার কাছেই এই শব্দ দারুন পরিচিত। বয়স হলে বিবাহ করা একটা দায়িত্ব! ছেলে মেয়ে সবাই এই বিবাহের দিনে অনেক অনেক আনন্দ করে থাকে! শিশুরা অনেক অনেক আনন্দ করে, যুবক যুবতীরা সুযোগ খুঁজে এবং বুড়ো বুড়িরা বিবাহের এই যজ্ঞ দেখে শুধু হাসে!

যাই হোক, এই বিবাহে একটা ফাইন্যাল খাবার দাবারের ব্যবস্থা থাকে। ছেলের পক্ষে একটা এবং মেয়েদের পক্ষের একটা! এই খাবার দাবারের মজেজা আমি এখনো বুঝি না! হা হা হা, তবে এই খাবার দাবারে সাধারণত উভয় পক্ষ চেষ্টা করেন সবাইকে মন ভরে খাইয়ে দিতে। (এই বিষয়ে আমার বিবাহের খাবার দাবার বিভাগ দেখতে পারেন) আমি এই জীবনে নিজের বিবাহ সহ অনেক বিবাহের খাবার খেয়েছি! এখানে উল্লেখ্য যে, এই বিবাহের খাবার দাবার মোটামুটি প্রায় একই রকম! আর এই একই রকমে যে একটা খাবার থাকে তা হচ্ছে, টিকিয়া! পার পারশন, ওয়ান টিকিয়া! হা হা হা।।

চলুন আজ এই টিকিয়ার রেসিপি দেখি। আশা করি ছবি দেখেই বুঝে যাবেন তবুও আমাদের ডিটেইলস দেয়া থাকলো। বাসায় আপনারা বানিয়ে বিবাহের মজা না নিলেও, শিশুদের টিফিনে, সকাল বিকালের নাস্তায় মজা নিতে পারেন। আশা করি ভাল লাগবে।

উপকরন ও পরিমানঃ
১ম ধাপঃ
– গোসতঃ কেজি খানেক হাড় ছাড়া
– আদা বাটাঃ ১ চা চামচ (দেশী, বিদেশি হলে কিছু বেশি দিতে হবে)
– রসুন বাটাঃ ১ চা চামচ (দেশী, বিদেশি হলে কিছু বেশি দিতে হবে)
– জিরাঃ হাফ চা চামচ
– আস্ত শুকনা মরিচঃ ঝাল বুঝে ৬/৭টা (বেশি মনে হলে পরেও তুলে ফেলতে পারবেন)
– এলাচিঃ ৩/৪টা
– দারুচিনিঃ ৪/৫ পিস এক ইঞ্চি করে
– আস্ত সরিষা দানাঃ এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ
– লবন, হাফ চামচের বেশি (পরে আরো দেয়া যাবে)
– পানি, তিন কাপ বা কম (এটা নির্ভর করবে গোস্ত কেমন তার উপর, লাগলে দেয়া যাবে)

– ছোলা বুটঃ এক পোয়া বা এক কাপ, বেশি দিলেও কিছু যায় আসে না তবে বেশি গোস্তের স্বাদ পেতে চাইলে কম দেয়াই ভাল (ছোলাবুট ২ঘটা ভিজিয়ে মাংশ সিদ্ধ হলে দিতে হবে)

২য় ধাপেঃ
– কাঁচা মরিচ কুঁচি, কয়েক চামচ
– পেঁয়াজ কুঁচি, কয়েক চামচ
– ধনে পাতার কুঁচি, কয়েক চামচ
– পুদিনা পাতার কুঁচি (যদি পছন্দ করেন), কয়েক চামচ
– মুরগীর ডিম, দুইটা

৩য় ধাপেঃ
– ভাঁজার জন্য তেল, কেমন করে ভাঁজবেন!

প্রনালীঃ 
প্রিপারেশনঃ কিছু কাজ রান্না শুরুর আগেই করে নেয়া ভাল।

ছবি ১, হাড় ছাড়া মাংস ভাল করে ধুয়ে নিন।


ছবি ২, ছোলা ভিজিয়ে পরে এভাবে পানি ঝরিয়ে নিন।


ছবি ৩, কাঁচা মরিচ কুঁচি, পেঁয়াজ কুঁচি, ও ধনিয়া পাতার কুঁচি এভাবে আগেই কেটে রাখুন।

মুল রান্নাঃ

ছবি ১, একটা পেশার কুকারে (যদি না থাকে তবে সাধারন পাতিলেও রান্না হতে পারে, এতে সময় বেশি লাগবে) একে একে গোস্ত নিয়ে সব কিছু দিতে শুরু করুন। সরিষা আস্ত!


ছবি ২, আদা ও রসুন বাটা


ছবি ৩, শুকনা মরিচ


ছবি ৪, এবং উপরে উল্লেখিত অন্যান্ন সব কিছু। সাথে পানি, লবন।


ছবি ৫, এবার আগুন জ্বালিয়ে চুলায় তুলে দিন, মুখ বন্ধ করে। কয়েক শিটি (!) দেয়ার পর বুঝতে পারবেন গোস্ত নরম হয়েছে, মুখ খুলে ছোলা ডাল দিয়ে দিন।


ছবি ৬, চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না, পানি শুকিয়ে কিছুক্ষন পরে এমনি একটা অবস্থায় আসবে।


ছবি ৭, এবার পাটা পুতায় বেটে বা গ্রাইন্ড করে নিতে পারেন।


ছবি ৮, যদি মরিচ বেশি মনে হয় তবে উঠিয়ে নিতে পারেন, মরিচ গুলো আলাদা করে বেটে নিতে পারেন। হয়ে গেল টিকিয়া কাই!  লবন স্বাদ দেখে নিন।


ছবি ৯, এবার কাঁচা মরিচ কুঁচি, পেঁয়াজ কুঁচি ও ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন, মিশিয়ে মাখুন।


ছবি ১০, এবার ডিম গুলো ফাটিয়ে দিন।


ছবি ১১, ভাল করে মিশিয়ে মলে মাখুন। ব্যস, টিকিয়ার ফাইন্যাল কাই হয়ে গেলো।

টিকিয়া সাইজকরনঃ

ছবি ১২, সাইজ আপনার ইচ্ছা – গোল, চ্যাপ্টা, বড়, ছোট, মাঝারি!


ছবি ১৩, এভাবে বানিয়ে খোলা জায়গায় রাখুন। কিছু সময়ের জন্য ড্রীপ ফ্রীজেও রাখতে পারেন, শক্ত হয়ে গেলে কোন বাটিতে ভরে সাধারন চেম্বারে রেখে দিতে পারেন, ৬/৭ দিন ভাল থাকবে, ইচ্ছা মত বের করে কিছু সময় রেখে তেলে ভেজে যে কোন সময়ে পরিবেশন করতে পারেন।

পরিবেশনাঃ

ছবি ১৪, কম বা বেশি তেলে ডুবিয়ে ভাজতে পারেন। (এই ছবিটা পরের কোন এক সময়ে তোলা)

আশা করি বাসায় বানিয়ে দেখবেন। শিশুরা খুব পছন্দ করবে কিংবা বাসায় মেহমান আসলেও পরিবেশন করা যেতে পারে।

সবাইকে শুভেচ্ছা। সাথে থাকুন, আমরা আসছি আরো আরো রেসিপি নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ টিকিয়া (বিবাহ খাবারের অত্যবশকীয় আইটেম)

  1. আঙ্কেল,এই রেসিপীর জন্য আপনাকে বিশাল মাপের একটা ধন্যবাদ!!
    আমি একদম ডেসপারেট হয়ে এই টিকিয়ার রেসিপি খুজতেছিলাম (বিয়ে তে গেলে এই টিকিয়ার জন্যই সবথেকে বেশি আগ্রহ থাকে,কারণ আমার বাসায় বিয়ের খাবার যেমন পোলাও,রোস্ট একদম পারফেক্ট বিয়েবাড়ির মত করেই রান্না করা হয় ) কিন্তু সব জায়গায়ই শামি কাবাবের রেসিপি দেওয়া। আজকে পেলাম!!!

    আবারো ধন্যবাদ 😀

    Liked by 1 person

  2. udraji bhai, thanks for the recipe. kindly koita siti dile valo hoi, jodi mangsho 2kg thake? siti beshi hoile to mangsho pure jete pare. apni exactly kototuku mangsho niyechen ebong koita siti dile namaichen?

    regards,
    notun radhuni

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s