Gallery

রেসিপিঃ গোসত, আলু ও মটর শুঁটি (অসাধারন স্বাদ ও নুতন বছরের গল্প)


অনেকদিন গল্প করা হয় না, আগে রেসিপি লিখতে গেলে কিছু গল্প করে নিতাম এখন আর সেটা অনেক সময়েই পারছি না। মুল ব্যাপার হচ্ছে সময়। কিছু লিখতে গেলে যে সময় এবং পরিবেশ দরকার সেটা এখন আর পাই না, ফলে যত জলদি পারি রেসিপি পোষ্ট করে সরে পড়তে চাই। ঘরে বা অফিসে এখন আর সেই সুযোগ নেই। অফিসে কম্পুটারে এই ধরনের কাজ করা উচিত না, তবুও করে যাই। বাকী থাকে বাসা, বাসায় এখন আর সেই সময় পাই না! রেসিপির মত একটা পোষ্ট সাজিয়ে লিখতেও কমের পক্ষে ঘন্টা/দেড়ক সময় লাগে (নেট লাইন স্লো থাকলে এই সময় বেড়ে যায়), আর সেই পোষ্ট আরো ভাল সাজিয়ে গল্প করে লিখতে গেলে কত সময় লাগবে তা অনুমান করতে পারেন। তবুও আমি আমার কাজকে ভালবাসি, আমি লিখে যেতে চাই, বেঁচে আছি যতদিন! আপনাদের ভালবাসা আমার দরকার আছে!

যাই হোক, যা বলছিলাম। চলুন একটা গল্প হয়ে যাক। আমি আগেই হেসে নিচ্ছি! হা হা হা। আমাদের মহল্লার বাড়িওয়ালা জাভেদ ভাই এবার বছরের শেষ দিনের রাতে একটু মজা লুটতে গিয়েছিলেন শহরের ধনী এলাকার একটা নামী দামী ক্লাবে! রাত সাড়ে এগারটার দিকে তিনি ওই ক্লাবে প্রবেশ করেন এবং সামান্য গিলে হাল্কা নেশায় তিনি সেই ক্লাবের ডান্স ফ্লোরে উঠে পড়েন। সেদিন ডান্স ফ্লোরের আলো কিছুটা ভিন্ন, আরো ঝলমলে লাগছিল! জাভেদ ভাই হিন্দি বিটের সাথে কয়েকটা স্টেপ দিচ্ছিলেন এবং নজর পড়লো ফ্লোরের এক কোনায়, একটা লোক একটা বেসম্ভব সুন্দর মেয়ের সাথে নাচের বিট মিলাচ্ছে! জাভেদ ভাই কয়েকটা এলোমেলো স্টেপ দিয়ে মেয়েটার কাছে গেলেন। জাভেদ ভাইয়ের চোখ পড়লো তার সাথে নৃত্যরত লোকটার দিকে! আরে এ যে আমাদের মহল্লার ফল বিক্রেতা ‘ওলি’! ভুল দেখছেন না তো! আরো কয়েকবার আড় চোখে দেখলেন, না এটা আমাদের ওলিই! জাভেদ ভাইয়ের রক্ত প্রায় হিম শীতল হয়ে আসলো! মহল্লার গলির মুখের ফল বিক্রেতা অলি প্যান্ট সার্ট পরে যেভাবে থার্টি ফাষ্ট নাইট উযাপন করছে তাতে জাভেদ ভাইয়ের নেশা ভেঙ্গে গেল, তিনি ভাবতে লাগলেন, অলি যদি তাকে দেখে ফেলে তবে কি হবে! তিনি কি আর তার দোকান থেকে ফল কিনতে পারবেন! ভাবতে ভাবতে জাভেদ ভাই সেই ক্লাব থেকে বের হয়ে সোজা মহল্লায় চলে আসেন!

জাভেদ ভাইয়ের সাথে আমার দেখা সেই রাতে বারটা বাজার কিছু আগে, তিনি আমাকে দেখে গাড়ী থামিয়ে নামলেন, নুতন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর আমরা গলাগলি করলাম, কিছুটা বিমর্ষ দেখাচ্ছিল জাভেদ ভাইকে। আমি বছরের শেষ চা পানে মাসুম চা ষ্টোরে সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পুরা ঘটনা শুনে আমি হাসিতে লুটাপুটি আর জাভেদ ভাই খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললেন, উদু হেসো না, “বিষয়টা ভেবে দেখো! সারাদিন ফল বিক্রি করে আর রাতে প্যান্ট সার্ট পরে ক্লাবে যায়!” আমি বলি এটা মন্দ কি! ফল বিক্রি করে বলে কি স্বাদ আহলাদ থাকবে না! আমার হাসি কিছুতেই থামছিল না, এদিকে দেখি জাভেদ ভাই কান ধরে বসে আছে, ‘এই জীবনে বেঁচে থাকলে আর কখনো নাইট ক্লাবে যাব না’!

এই তো আমাদের দেশের বর্তমান। যে যেভাবে পারছে এগুচ্ছেই। রাষ্ট্র থেমে দাঁড়ালেও মানুষ মানুষের মত করেই এগুচ্ছে! খালি চোখে আমরা অনেকে অনেক কিছু না দেখলেও সব কিছুই হচ্ছে, চলছে। যাক, তাতে আমাদের কি! আমাদের মত নিম্মবিত্তদের কি আর সেভাবে ভাবলে চলে! আমাদের রুজি করতে হবে, রান্না করতে হবে, বেঁচে থাকতে হবেই! চলুন একটা মজাদার রান্না দেখি! গোসত, আলু ও মটর শুঁটি! এটা আমাদের দেশের একটা মজাদার খাবার। মটর শুঁটির প্রচলন হয়ে পড়ার পর যে কয়েকটা খাবার বেশ মজা করে আমাদের মত পরিবার গুলোতে রান্না হয় এই রান্নাটা সেই রকমেরই। চলুন দেখে ফেলি।


রান্না শুরু করার আগে উপকরন গুলো এভাবে সাজিয়ে নেয়াই উত্তম, এতে সময় বাঁচে এবং রান্নায় হাতের কাছেও সব থাকে! চলুন।

উপকরন ও পরিমানঃ
– গরুর গোসতঃ কেজি খানেক (হাড্ডি বেশি না হলেই ভাল)
– দেড় কাপ আলু (ছোট করে কিউব সাইজ করে কাটা)
– এক কাপ মটর শুঁটি
– পেঁয়াজ কুচিঃ হাফ কাপ
– রসুন বাটাঃ ১ টেবিল চামচ (দেশি)
– আদা বাটাঃ দেড় টেবিল চামচ (দেশি)
– দারুচিনিঃ ২ সেমি, ৪/৫ টুকরা
– এলাচিঃ ৪/৫ টা
– লংঃ ৩/৪ টা (ইচ্ছা)
– লাল মরিচ গুড়াঃ ১ টেবিল চামচ (ঝাল বুঝে, কম দেয়াই ভাল)
– হলুদ গুড়াঃ দেড় চা চামচ
– জিরা গুড়াঃ দেড় চা চামচ
– ধনিয়া গুড়াঃ এক চা চামচ
– তেজপাতাঃ কয়েকটা (আমরা দিতে ভুলে গেছি, আপনারা দিতে পারেন)
– কাঁচা মরিচঃ ৬/৭ টা
– লবন পরিমান মত, প্রথমে কম দেয়াই ভাল, পরে দেখে দেয়া যেতে পারে
– তেলঃ হাফ কাপের কিছু বেশি (কম তেলেই রান্না ভাল)
– পানি (পরিমান মত, গোসত শক্ত থেকে গেলে আবারো দেয়া যায়)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০


ছবি ১১


ছবি ১২


ছবি ১৩


ছবি ১৪


ছবি ১৫


ছবি ১৬


ছবি ১৭

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

5 responses to “রেসিপিঃ গোসত, আলু ও মটর শুঁটি (অসাধারন স্বাদ ও নুতন বছরের গল্প)

  1. আমার অতি পছন্দের খাবার। উম্মম্মম্ম… দেখেই জিভে জল চলে আসছে।

    Liked by 2 people

  2. আলু মটরের মাংস আমারো প্রিয় খেতে। আর আমি পারলে মটরশুটি রান্না শেষ করার ৫/৭ মিনিট আগে দেই, কারণ এটা সিদ্ধ করতে সময় লাগে কম , আর দেরীতে দিলে এর সবুজ রং অনেকটা অক্ষুন্ন থাকে।

    নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ রনি ভাই।
      হ্যাঁ, এটাকেই বলে অভিজ্ঞতা। আমি আজকেও মটর শুঁটি রান্না করলাম। রান্নার পর মনে হল (তখনো আপনার কমেন্ট দেখি নাই) মটর শুঁটি রান্না শেষের ৬/৮ মিনিট আগে দিলেই হত। ধন্যবাদ আপনাকে এই কথাটা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য, আগামীতে মটর শুঁটি রান্নার সময় খেয়াল রাখবো।

      আমাদের রান্না দেখে যারা রান্না করছেন বা করেন তাদের জন্যও এই কথাটা মনে রাখতে বলি।

      শুভেচ্ছা।

      Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s