Gallery

আড্ডাঃ সকালের নাস্তা এবং আল কাদেরীয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট


ছুটির দিনে কে না আনন্দে সময় কাটাতে চায়? আমি রাত জাগি বলে সকালে কাজ না থাকলে একটু বেশী ঘুমাতে চাই। ছুটির দিনে তাই আগেই বলে দেই, যত পার সবাই ঘুমাও। আমরা ঘুম কাতুরে পরিবার বটেই! যাই হোক, আজ সকালে দেরীতে উঠেই তিনি (আপনাদের ব্যাটারী ভাবী) ঘোষণা করে বসলেন, আজ ঘরে নাস্তা হবে না, আল কাদেরীয়ায় হবে! আল কাদেরীয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট আমাদের এলাকায় একটা ঐতিহ্য তৈরী করে ফেলেছে। মোটামুটি নিম্ম মাঝারি মানের হোটেল, তবে খাবার স্বাদ এবং মান ভাল বলে সবাই আল কাদেরীয়া পছন্দ করেন, হোটেলের আকার তেমন বড় নয় তবে চলে, মহল্লার পাবলিক মেনেজ করার ক্ষমতা আছে।


ছোট খাট মহল্লার হোটেলে এখন মহিলা শিশু নিয়ে প্রবেশ করা যায়, যা কিছু বছর আগেও কল্পনা করা যেত না!


প্লেন নান রুটি।


সবজি।


আল কাদেরীয়ার খোলা পানি বিশুদ্ধ বলে তারা জানান, নিজস্ব মেশিনে পরিশোধন করা হয় এবং খাবারের সাথে পানি ফ্রি দেয়া হয়ে থাকে। এখন প্রায় হোটেলেই পানি ফ্রি দেয়া হয় না এবং বোতলজাত পানি কিনতে বাধ্য হতে হয়!


গরু ভুনা।


শসা ও লেবু।


খাবারের পর্ব। ছবিটা ফেসবুকে হোটেলে বসেই ফেবুতে প্রকাশিত হয়েছে


আল কাদেরীয়ার বিশেষ ব্যবস্থা। এত ছোট হোটেলে wifi free দিয়ে এর মালিক নিজকে উদার হিসাবে প্রমান করেছেন। আমি আল কাদেরীয়ার wifi দিয়ে একটা ছবি/ উপরের ছবিটা ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছি।


বিশেষ কিছু পোষ্টার মনে দাগ কাটবেই।


এই হচ্ছে আল কাদেরীয়ার চা! এই গাঢ় চা অনেকেই পান করতে পছন্দ করেন।


নাস্তা শেষের ছবি।


আল কাদেরীয়ার খাবার পরিবেশনকারীরা বেশ ভাল ব্যবহার করে থাকেন, মালিকের নিদেশে এটা করা হয়ে থাকে। আমাদের খাবার সার্ভ করছিলেন, মাহাবুব। আমি তার ছবি তুলতে চাইলে আনন্দের সঙ্গে বলেন, স্যার তুলুন। আমি তার ছবি নেটে প্রকাশের অনুমতি চাইলে, হেসে বলেন, দিয়েন। মাহাবুবের ব্যবহারে আমি সত্যই আনন্দিত। অনেক দিন পর মনে হল, একজন সত্যিকারের খাবার পরিবেশনকারীর দেখা পেলাম। আমার অনেক হোটেলে খাবার অভিজ্ঞতা আছে বা হয়, আমি এখন আর ভাল খাবার পরিবেশনকারীর দেখা পাই না। সার্ভিস কাকে বলে এরা মনে হয় জানেই না! দৌড় ঝাপ দিয়ে খাবার টেবিলে নিয়ে আসাই সার্ভিস নয়, এটা কে কাকে বুঝাবে। কম দামী কিছু ওয়ার্ডার দিলে অনেকে মন খারাপ করে ফেলে, আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি। হোটেলে খেতে গেলেই ভাল খাবার ওয়ার্ডার দিতে হবে, এটা কেমন কথা!  যাই হোক, মাহাবুবের ব্যবহার অনেক দিন মনে থাকবে, মাহাবুব তার পেশার প্রতি সৎ থাকুক, এটাই কামনা করি, সাফল্য তার জীবনে আসবেই এবং আমি নিশ্চিত মাহাবুব আগামীতে এমন হোটেলের মালিক হতেই পারে।

সবাইকে শুভেচ্ছা। পরিবার বা প্রিয় মানুষদের নিয়ে এমনি বের হয়ে পড়ুন। ভালবাসা বাড়বেই! খাবার দাবারেই ভালবাসা বেঁচে থাকে!

Advertisements

4 responses to “আড্ডাঃ সকালের নাস্তা এবং আল কাদেরীয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট

  1. ফ্যামিলি নিয়ে নাস্তা খাওয়া সত্যি ভিন্ন এক আনন্দ।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s