Gallery

রেসিপিঃ মলা মাছের চড়চড়ি


বাংলায় যাকে বলে গুড়া মাছ! বাজার থেকে সাধারণত গুড়া মাছ কিনতে ভয় লাগে, কে মাছ গুলো কেটে কুটে পরিস্কার করে দেবে! এই গুড়া মাছ খেতে ইচ্ছা হয় অনেক কিন্তু কেনা হয় না। গত কয়েক সপ্তাহ আগে এমনি অনেক গুলো মাছের সাথে কিছু মলা মাছ কিনে ছিলাম। ইচ্ছা ছিল একটা রেসিপি দেখিয়ে দেয়ার এবং সাথে নিজেও একটু খেয়ে দেখতাম! হা হা হা… যাই হোক, মাছ গুলো কেটে কুটে পরিস্কার করে হাতে পেতে অনেক সময় লেগে গেল। ব্যাপার না, চলুন দেখে ফেলি। এমনি মাছ রান্না আপনাদের অনেকবার দেখিয়েছি তবুও আবারো দেখাতে ইচ্ছা হয়, কারন আমি মনে করি, দুনিয়ার প্রতিটা রান্নাই ইউনিক মানে আলাদা! মশলা পাতিতে মিল, নাম একই থাকলেও প্রতিটা রান্না আলাদা হতে বাধ্য, আলাদা সময় আলাদা মানুষের রান্নার হাত ইত্যাদি। একই মশলা দিয়ে একই জিনিষ দুইজন রান্না করলে দুই রকম স্বাদ হবে! আমি নিশ্চিত।


মলা মাছ গুলো দেখে মন আনন্দে ভরে উঠে। আমাদের ছোট বেলায় এভাবে কত না গুড়া মাছ খেয়েছি, যা এখন আমাদের ছোট শিশুরা চোখেও দেখছে না। তা ছাড়া আজকাল এই সকল গুড়া মাছ কেনাতেও ভেজালের ভয়! গুড়া মাছ তাজা রাখতে নাকি নানান রাসায়নিক (ফরমালিন) ব্যবহার করা হয়ে থাকে! কি দেশে আমাদের জন্ম, ভাবতে অবাক হই! উপরওয়ালার কাছে সরকারের জন্য দোয়া করি, সরকার বাহাদুরের মাথায় যেন সুবুদ্ধির উদয় হয়। একমাত্র সরকার ছাড়া আর কারো পক্ষেই এই ভেজালকারী মানুষ হত্যাকারীদের প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় বলে আমার মনে হয়!

চলুন দেখে ফেলি।

পরিমান ও উপকরনঃ
– কিছু মলা মাছ (৩০০ গ্রাম বা বেশী)
– পেঁয়াজ কুচি, পেঁয়াজে মজা বাড়ে
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা, ঝাল বুঝে
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– মরিচ গুড়া, দুই চিমটি (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচের কম
– তেল, কয়েক টেবিল চামচ, কম তেলেই রান্না করতে পারেন, ননষ্টিকি কড়াইতে
– লবন, স্বাদ মত
– পানি, পরিমান মত

– টমেটো, মাঝারি দুইটা
– ধনিয়া পাতার কুঁচি, ইচ্ছামতন

প্রনালীঃ
মশলা ভেজষাদিঃ

রান্নায় আগে সব কিছু হাতের কাছে যোগাড় করে নিতে পারলে ভাল হয়।

মুল রান্নাঃ

তেল (তেলটা আরো কম দিলে ভাল হত, অনুমান সঠিক হয় নাই, দিয়েই বুঝতে পারছিলাম) গরম করে সামান্য লবন যোগে প্রথমে পেঁয়াজ কুঁচি দিন। এবং পরে কয়েকটা কাঁচা মরিচ ফালি করে দিন।


পেঁয়াজ কুঁচি হলদে হয়ে এলে রসুন বাটা দিন, ভাঁজুন। ভাঁজা হয়ে গেলে হাফ কাপ পানি দিন।


এবার মরিচ ও হলুদ গুড়া দিন। আরো কিছু পানি দিতে পারেন। টমেটোটা পরে দিলে চলত, আমি টমেটো মিহিন করে নিব বলে এই পর্যায়েই দিয়ে দিলাম, আপনি টমেটো রেখে পরেও দিতে পারেন, ব্যাপার না।


ভাল করে কষিয়ে তেল উঠিয়ে নিন।


টমেটো মিশে এমনি তেল উঠে যাবে।


এবার মাছ গুলো দিয়ে দিন।


আহ দেখেই মন ভরে যায়।


ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ঢাকনা দিয়ে সামান্য আঁচে মিনিট ১৫ রাখুন।


এক দুইবার নাড়িয়ে দিন, ঠিক এমনি অবস্থায় এসে যাবে। ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে আগে বাড়ুন।


এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিটিয়ে দিন।


আগুন নিবে যাবে।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


দারুন স্বাদ, এমনি এক বাটি একাই সাফাই করা কোন ব্যাপার না, সাথে যদি সাদা ভাত থাকে তবে কোন কথাই নেই।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি আরো আরো নুতন নুতন রান্না নিয়ে, আমাদের রান্না একদম পিউর দেশী।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s