Gallery

আড্ডাঃ আঞ্চলিক গণ খাবার দাবার ও ভ্রমন


ঢাকা শহরের বাইরে থেকে কোথায়ও নিমন্ত্রন পেলে মনটা আনচান করে উঠে, যেতেই ইচ্ছা হয়, হউক না কয়েক ঘন্টার জন্য। ঢাকা শহরে কেহ দাওয়াত দিলে মোটেই খুশি হই না, বরঞ্চ কষ্টে পড়ে যাই। ঢাকার বাইরের দাওয়াত গুলো মোটামুটি রক্ষা করে চলি (!), যদিও এই দাওয়াত খুব সামান্য বছরে কয়েকবার হয়ে থাকে। ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে যে সময় লাগে তার চেয়ে যে কোন জেলা নিকটবর্তি জেলা শহর ঘুরে আসা যায় অনায়েসে।

প্রবাসী বন্ধুর নিমন্ত্রনে তেমনি গত পরশু বের হয়েছিলাম, ফেনীতে। ওদের একটা জেয়াফত* বা গন খাবার দাবারের অয়োজন ছিল। অন্যদিকে আপনারা জানেন যে, যেখানে খাবার দাবার আমি সেখানেই আছি বা থাকতে চাই!


আমাদের বন্ধুত্বের প্রায় ২৫ বছর চলছে, এখনো দেখা হলে মনে হয়, এই তো! তেমন কারে আচার আচরণে পরিবর্তন নেই। কি কেমন আছিস বা কেমন আছেন? হয়ে যায় একটা বিরাট কোলাকুলি!


ঢাকা শহরের মত আমাদের ছোট শহর গুলো গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত ভাবেই! যারা যেভাবে খুশি বিল্ডিং বানাছেন, জোর যার তালুক তার! আজকাল উপজেলা, জেলা শহর গুলোতে আট/দশ তলা বিল্ডিং কোন ব্যাপার নয়! তবে এটা সামগ্রীক সমাজের উন্নতি নয়, মুষ্টিমেয় মানুষের হাতেই টাকাকড়ি, বেশীরভাগ প্রবাসীই, বাকীরা রাস্তার ধারেই!


ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম কমিউনিটি সেন্টারে এই গন ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল এগারটা থেকে বিকাল প্রায় চারটা পর্যন্ত এই ভোজ চলছিল।


দাওয়াতিরা বাস ভাড়া করে এসেছিল অনেকেই, গ্রাম থেকে।


রান্না এবং সাথে সাথে পরিবেশনা চলে এই ধরনের খাবারের আয়োজনে। তবে খাবার রান্নার পরিবেশ খুব দূর্বল এবং নোংরা ছিল। চাইলে এটা অনেক সুন্দর করা যেত। কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পক্ষ চাইলেই আরো অনেক পরিস্কার করে রাখতে পারেন বলে মনে হয়েছিল। লোক মুখে শুনেছি, প্রায় প্রতিদিন এই সেন্টারে কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকে, তা হলে এই সেন্টারের ইনকাম দিয়েই তো তা করা যেতে পারে। আসলে ব্যবস্থাপনা কৃর্তপক্ষকে চাইতে হয়! ছবিটা ফেবুতে শেয়ার করেছিলাম, সবার নজরে এই ব্যাপারটা এসেছিল। আল্লাহ মেহেরবান! কি আছে এই দুনিয়ায়!


গন খাবারে ভাত পরিবেশনা একটা বিরাট ব্যাপার! ভাত রান্না এবং মাড় ফেলে তৈরী করে রাখা একটা পরীক্ষা বটে! তরু তরকারীতে টান পড়লেও ভাতে টান পড়া চলে না!


আমি খাবার অনুষ্ঠান চলার মাঝামাঝি সময়ে গিয়েছিলাম বলে খাবারের পুরা আমেজ পাই নাই।


আমি প্রায় খাবারের ছবি তুলতে চেয়েও ফেল করেছি! তবে কয়েকটা পেরেছি।


লাউ রান্না ছিল অসাধারন।


এভাবে এক ব্যাচের পর এক ব্যাচ খাবার খেয়েই চলছিল। আমি যখন বসেছিলাম, তখন অনেক খাবারের যথাযত বাটি আর নজরে আসে নাই। তবে বুঝেছি কি কি রান্না হয়েছিল!
– সাদা ভাত
– সালাদ
– লাউ তরকারী
– মুরগী রান্না (এটা যা খেয়ে দেখেছি তাকে কি বলবো নিজেও বুঝতে পারছি না, তবে স্বাদ হয়েছিল)
– গরুর গোসত রান্না (এটা সামান্য এক চামচ ভাগে পেয়েছি, দারুন স্বাদের হয়েছিল, মনে রাখার মত)
– মাশ কলাই ডাল (ঘন)
– ফিন্নি বা পায়েস


খেয়ে দেয়ে এসে পুকুর পাড়ে দাঁড়ালাম। পড়ন্ত বিকেল, শান্ত পরিবেশ।


বন্ধুর বাসায় বিকালের নাস্তায় এভাবেই আমাদের পরিবেশন করা হয়েছিল। আমার বন্ধু ভাষায়, এটা কিছু না! আমি বলি বটেই! তবে আমরা যারা সেদিন একসাথে ছিলাম, কেহই এমন প্লেট খাবার খেয়ে শেষ করতে পারি নাই!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

* জেয়াফত (বানান টা সঠিক কিনা বলতে পারছি না) নিয়ে অনেক কথা লিখার ইচ্ছা ছিল, সময় এবং লেখার পরিবেশ না পেয়ে সেদিকে যেতে পারলাম না। আগামীতে কখনো সুযোগ পেলে জেয়াফত নিয়ে লেখার ইচ্ছা থাকলো। আমার অনেক স্মৃতি আছে।

** জেয়াফতকে চট্রগ্রামে মেজবান বলা হয়ে থাকে। মেজবান শব্দটার সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত আছি।

Advertisements

4 responses to “আড্ডাঃ আঞ্চলিক গণ খাবার দাবার ও ভ্রমন

  1. Khabarer obosta dekhe joto na mon kharap hoye silo , pukur parer cobi dekhe mon toto tai valo hoye gese…..

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s