Gallery

রেসিপিঃ সাধারন মাছ রান্না ঝালে ঝোলে (ছোট কোরাল)


মাছ রান্নার মত এমন সহজ রান্না মনে হয় এই দুনিয়াতে আর নাই! মাছ রান্নায় মশলাপাতিও অনেক কম লাগে, হাতের কাছে সেই সব মশলা পাওয়া যায়। আমাদের নিত্য রান্নাঘরে এই সব মশলা থাকেই। মাছ ভাঁজা ও রান্না আমি আপনাদের অনেক দেখিয়েছি, সামনে আরো দেখাবো। যারা নুতন মাছ রান্না করতে চান, আমি বলি শুধু একটু সাহস নিয়েই রান্নাঘরে প্রবেশ করুন। ব্যস, আর কিছু লাগবে না!

বাংলাদেশে সাধারণত দুই ধরনের মাছ রান্না হয়ে থাকে, কিছু অঞ্চলে প্রথমে মাছ ভেঁজে তার পর রান্না করেন আবার কিছু অঞ্চলে সরাসরি মাছ রান্না করে ফেলেন, দুটোতে তেমন কোন তফাৎ নেই! সামান্য কাজের হেরফের মাত্র! অন্যদিকে মাছ যদি একটু নরম হয়ে পড়ে তবে তা অবশ্যই ভেঁজে নেয়া ভাল। সাধারণত আমাদের মাঝারি হোটেল গুলোতে মাছ ভেঁজে রান্না করে কারন যাতে মাছ না ভেঙ্গে যায়! ভেঁজে রান্না করা মাছ খেতে খেতে এখন আর অনেকেই না ভেঁজে রান্না মাছ খেতে পারেন না! তবে আমি মনে করি মাছ ভেঁজে রান্না করলে মাছের আদি স্বাদ, ঘ্রান কিছুটা হলেও নষ্ট হয়ে পড়ে, প্রত্যেক মাছের স্বাদ ও ঘ্রান ভিন্ন এবং সেই মজা লুটাতে আমি না ভেঁজে মাছ রান্না করার পক্ষেই থাকি, এ ক্ষেত্রে তাজা মাছ পাওয়াটাই মুখ্য ব্যাপার।

চলুন, আজ ভেঁজে মাছ রান্না করা দেখে নেই। যারা নুতন রান্না করছেন, তাদের জন্যই এই রান্না। ছোট কোরাল মাছ রান্না, এমনিতে কোরাল মাছে কাটা কম, খেতেও সুস্বাদু।

পরিমান ও উপকরনঃ
– কয়েক টুকরা কোরাল মাছ (আমরা ৮ টুকরা নিয়েছিলাম)
– পেঁয়াজ কুচি, পেঁয়াজে মজা বাড়ে
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা, ঝাল বুঝে
– আদা বাটা, এক চা চামচ
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচের কম
– তেল, কয়েক টেবিল চামচ, কম তেলেই রান্না করতে পারেন, ননষ্টিকি কড়াইতে
– লবন, স্বাদ মত

– ধনিয়া পাতার কুঁচি, ইচ্ছামতন

প্রনালীঃ
মাছ ভেঁজে নেয়াঃ

মাছ পরিস্কার করে কেটে ধুয়ে সামান্য হলুদ ও সামান্য লবন দিয়ে মেখে কিছুক্ষন রাখুন। এই সময়ে অন্য মশলাপাতি হাতের কাছে নিয়ে নিন।


কড়াইতে তেল গরম করে মাছ ভেঁজে নিন।


মাছ ভাঁজা হয়ে গেলে তুলে রাখুন। মাছ ভাঁজাতে সাবধান থাকতে হবে, কম তেলে ভাঁজতে গেলে মাছ লেগে যেতে পারে, যদি কড়াইতে লেগে যায় তবে চুলা নিবিয়ে ঠান্ডা হতে দিন, ঠান্ডা হলে আপনা আপনি খুলে যাবে। গরম অবস্থায় লেগে যাওয়া মাছ উল্টাতে চেষ্টা করলে মাছের চামড়া উঠে যাবে বা মাছ ভেঙ্গে যাবে, সুতারাং ধীরে এবং ধৈর্য নিয়ে কাজটা করুন।

মুল রান্নাঃ

মাছ তুলে রেখে সেই কড়াইতেই রান্না শুরু করতে পারেন। তেল দরকার হলে আর একটু দিতে পারেন। প্রথমে পেঁয়াজ কুঁচি দিন। সামান্য এক চিমটি লবন দিন, লবনের স্বাদ সঠিক হওয়া দরকার সব সময়ে!


পেঁয়াজ কুঁচি হলদে হয়ে এলে আদা ও রসুন বাটা দিন, ভাঁজুন। ভাঁজা হয়ে গেলে হাফ কাপ পানি দিন।


এবার মরিচ ও হলুদ গুড়া দিন। আরো কিছু পানি দিতে পারেন।


কয়েকটা কাঁচা মরিচ চিরে দিন, ভাল করে কষিয়ে তেল উঠিয়ে নিন।


এবার ভেঁজে রাখা মাছ গুলো দিয়ে দিন।


আগুন কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে রাখুন মিনিট ১০/১৫।


ব্যস, হয়ে গেল। তবে নামাবার আগে লবন দেখুন, ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন। কড়াইয়ের হেন্ডেল ধরে নাডিয়ে দিন। খুন্তি দিয়ে মাছ নাড়াতে সাবধানে থাকুন।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


দারুন, দেখুন কত কম সময়ে এবং কত কম মশলায় আপনার মাছ রান্না হয়ে গেল! যে কোন মাছ মোটামুটি এভাবে রান্না করতে পারেন, ব্যাপার না!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

বি দ্রঃ নুতন অবস্থায় মাছ বাজার থেকে কেটে টুকরা করে নিয়ে আসাই ভাল, নুতন যারা রান্না করবেন তারা মাছ কাটতে চেষ্টা করতে পারেন, দুনিয়ার কোন কাজ ফেলনা নয়, মানুষ অভ্যাসের দাস! হা হা হা!

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ সাধারন মাছ রান্না ঝালে ঝোলে (ছোট কোরাল)

  1. পিংব্যাকঃ simpleNewz - রান্নাঘর (গল্প ও রান্না) / Udraji's Kitchen (Story and Recipe) RSS Feed for 2014-12-06

  2. Veje ranna kora mach sob ekoirokom lage alada test buja jaina. Amader basai kaca rannai cole.

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s