Gallery

রেসিপিঃ লাউ শাক ভাঁজি (সিম্পল)


আমার কাজ বলে যাওয়া, আমি বলে যাচ্ছি। শিশুদের শাক সবজি খাওয়ান, শিশুর জন্যই মঙ্গল হবে। আদর করে শিশুদের খালি মোরগ পোলাউ, ফাষ্টফুড খাওয়াচ্ছেন, এই শিশুই বড় হয়ে আপনাকে কথা শুনাবে। শাক সবজি খেলে শরীর ভাল থাকে এবং অনেক রকমের রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকে। শাক সবজি খাবার অভ্যাস গড়ে তুলে বড় হয়ে ভাল থাকবে না অনেক রোগ থেকেও মুক্ত থাকবে। আমি আবারো বলি শিশুরা শাক সব্জি পছন্দ করে না বটেই, শাকের স্বাদ একটু ভিন্ন বলেই হয়ত, প্রয়োজনে শাক যেদিন রান্না হবে সেদিন নিজেই হাতে করে ওকে খাইয়ে দিন।

শাক সবজি রান্না তেমন কঠিন নয়, কঠিন হচ্ছে শাক সবজি বেছে কেটে কুটে রান্নার জন্য প্রস্তুত করা, সময় লাগে একটু বেশী তাতে কি আছে, তবুও প্রতিদিন কিছু না কিছু শাক সবজি রান্না করুন এবং শিশুদের মুখে তুলে দিন।  আপনার এই ত্যাগ আপনার ভবিষ্যৎ সুন্দর করে তুলবে।

চলুন আজ এমনই একটা লাউ শাকের ভাঁজি দেখিয়ে দেই, দেখুন কত সহজে কত মজাদার খাবার তৈরি করা যায় এবং দেখুন কত সহজ ও সোজা।

পরিমান ও উপকরনঃ
– লাউ শাক, লাউয়ের কচি ডগা
– পেঁয়াজ কুচি
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা, ঝাল বুঝে
– তেল, আট/দশ টেবিল চামচ, কম তেলেই রান্না করতে পারেন, ননষ্টিকি কড়াইতে
–  লবন, স্বাদ মত

প্রনালীঃ

শাক কেটে পরিস্কার করে ধুয়ে নিন এবং গা গা পানিতে এক চিমটি লবন দিয়ে হাফ সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রাখুন।


কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ, মরিচ এবং কাঁচা মরিচ দিন, লবন (শাকে আগে লবন আছে বলে কম দিয়েই শুরু করুন, পরে দেয়া যাবে) দিতে ভুলবেন না।


ভাল করে ভাঁজুন।


পেঁয়াজ গুলো হলদে হয়ে এলে সিদ্ধ করে রাখা শাক দিয়ে দিন।


রঙ দেখেই মন ভরে।


আগুন কম আঁচে রাখুন, ভাল করে মিশিয়ে নিন।


লবন দেখুন, পানি থেকে গেলে চুলা বাড়িয়ে দিন, নাড়াতে থাকুন।


শাকের পানি শুঁকাতে আগুন বাড়িয়ে কড়াইয়ের হাতল ধরে উলট পালট করে দিন। সাবধানে!


ব্যস প্রস্তুত।


লবন সঠিক হলে এটাও একটা বেহেস্তি খাবার হয়ে যাবে! লাউ শাক এমনিতেই মজাদার, সাথে এমন সুন্দর রান্না হলে তো কথাই নেই। ধোঁয়া উঠা গরম ভাতের সাথে খেয়েই দেখুন মশাই।

রান্নাকে আমি সব সময়েই ভালবাসার বাস্তব প্রমান বলি কারন না খেলে/খাওয়ালে আপনার প্রিয় মানুষ বাঁচবে কি করে, আপনাকে ভালবাসবে কি করে!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

2 responses to “রেসিপিঃ লাউ শাক ভাঁজি (সিম্পল)

  1. আমরা নিজেরাই অনেকে শাক সব্জী বেশী খাইনা, আমাদের বাচ্চাদের তো এই দশা হবেই। বিশেষ করে শহরগুলোয় ফাস্টফুড সহজেই কিনতে পাওয়া যায়, বাচ্চারাও পছন্দ করে। এখানে দায়িত্ব বাবা-মায়েরই। আমেরিকার মত ফাস্টফুড-প্রিয় দেশেও দেখতে পাচ্ছি, স্বাস্থ্য-সম্মত খাবারের দিকে মানুষজন ঝুঁকে পড়ছে। কাস্টোমারদের চাপে পড়ে ম্যাকডোনাল্ডসএর মত বিশাল কোম্পানীও অনেক পরিবরর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে, (ডুবো তেলে ভাজার বদলে গ্রীল করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, প্রত্যেকটা খাবারের মেনুতে ক্যালোরীর পরিমাণ লিখে দিতে দিচ্ছে, বাচ্চাদের জন্য আপেল/কমলা, দুধ রাখা হচ্ছে)

    এগুলো এমনি এমনই হয়নি, আমেরিকাতেও আপনার মত মানুষেরাই বারে বারে অনেকদিন ধরে গলা ফাটিয়েছেন দেখেই হয়েছে। আমাদের দেশেও আশা করি ফাস্ট ফুডে পরিবর্তন আসবে। তাই এই কথাগুলো বলে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ রনি ভাই।
      আমাদের অভিজ্ঞতা বলে আমরা বলেই যেতে হবে, উপায় কিছু দেখছি না। বর্তমান বাংলাদেশে খাদ্য ভেজালের জন্য কত মানুষ যে বিপদে আছে বা মারা পড়ছে তা বলে শেষ করা যাবে না। আমি তিন বছর একটা ডায়াগনসষ্টিকে কাজ করেছি, আমি দেখেছি, খাদ্যের জন্য অনেক প্রতিভা বা প্রিয় ব্যক্তি কি করে হারিয়ে যাচ্ছে। খুব কম বয়সে ডায়াবেটিস এখন কোন ব্যাপারই নয় যেন! হার্ট, কিডনি, পাইলস সহ নানান রোগ এতই কমন যে, প্রতি ঘরেই দেখা যাচ্ছে। ক্যান্সারের কথাতো বলছিই না!

      শুভেচ্ছা আপনাকেও, আপনারা আমাকে পছন্দ করেন বলেই আমিও আছি।

      ধন্যবাদ আবারো।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s