Gallery

আড্ডাঃ বার্গার পেলেস (খিলগাঁও)


বাংলাদেশ একটা হুজুগে দেশ, এই দেশে যখন কিছু শুরু হয় তা এক যোগে শুরু হয় আবার যা হয় না তা কখনোই হয় না! পাশাপাশি বলা চলে এই হুজুগে সবাই শুরু করে বিষয়টাকে এমন করে তুলে যে, শেষে এই বিষয়টা পচে গলে যায়। আরো বলা চলে যে, কিছু একটা শুরু করার কোন নিয়ম কানুন না করে চালু করে এক বাজে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, ফলে শেষে গিয়ে ভেজালেই পড়ে! হ্যাঁ, আমি এখন এই এক নুতন ট্রেইডের কথা বলছি, এখন একটা বিরাট হুজুগ পড়ে গেছে যে, কে কোন মহল্লায় ফাষ্টফুডের দোকান দিবে। মোটামুটি ৪/৫ লক্ষ টাকায় নানা চালচুলা কিনে এটা শুরু করা এখন অনেকের জন্য তেমন কিছু নয়! এবং ঢাকাতে এটা এখন হাল ফ্যাশন হয়ে উঠছে! আগে কিছু সিলেক্টিভ জায়গাতে এমন ফাষ্টফুড খাবারের দোকান দেখা যেত, এখন যে কোন বড় রাস্তার মোড় থেকে চিপা গলি সব জায়গাতেই গড়ে উঠছে! আমাদের জন্য আড্ডা এবং খাবারের ব্যবস্থা করতে সবাই বেশ উঠে লেগে পড়েছেন। অন্যদিকে নিজেরাও বেশ কামাই করে নিচ্ছেন।

খিলগাঁও আমার জীবনের একটা পরিচিত এলাকা, এই এলাকাতে আমি নানান জায়গাতে প্রচুর আড্ডা দিয়েছি। এই এলাকাতে আমার বন্ধু অনেক আছে। বিশেষ করে খিলগাঁয়ের বড় রাস্তার ধারে কিংবা তলতলা মার্কেট, চৌরাস্তায় আমি অনেক অনেক সময় কাটিয়েছি। আমাদের শাহজাহান পুরের বাসা থেকে এই এলাকাতে সহজে চলে যাওয়া যেত বলে আমি এই এলাকাকে বেশ পছন্দ করতাম। তালতলা মার্কেটে আমার এক বন্ধুর (বর্তমানে সে আর এই দুনিয়াতে নেই) দোকান ছিল বলে আমাদের আড্ডা জমতো বেশ। এখনো ফেসবুকে আমার অনেক এই খিলগাঁও এলাকার বন্ধু আছে, যাদের সাথে ফেবুতে কথা হয় এবং বাস্তবেও দেখা হয়।

যাই হোক ধান বান্তে শীবের গীত! আপনি কখনো খিলগাঁও এলাকাতে গেলে দেখতে পাবেন, কয়েক শ এমন ছোট ছোট ফাষ্টফুডের দোকান গড়ে উঠেছে এবং এই দোকান গুলোর টার্গেট হচ্ছে, উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের কাছে পাওয়া, অনেক প্রেমিক প্রেমিকা এখন এই এলাকাতে আসছে, যাচ্ছে! এই ফাষ্ট গুলোতো বসে নিরিবিলি আড্ডা দেয়া যায়, শ তিনেক টাকার খাবারে কয়েক ঘন্টা চুটিয়ে আড্ডা ও কথা বলে সময় পার করা যায়। লাভার্সদের জন্য এমন ভাল আয়োজন আর কি হতে পারে। আর একটা ব্যাপার এই খিলগাঁয়ের বড় রাস্তার ধারে অনেক স্কুল কলেজ গড়ে উঠেছে গত কয়েক বছরে, ফলে এমন ফাষ্টফুড খাবার ছেলেমেয়ের অভাব নেই! গার্ডিয়ানরাও ছেলেমেয়েদের আবদারের কাছে নত হয়ে যাচ্ছে! হা হা হা!

এবার কাজের কথায় আসি, আমার বড় ছেলে বুলেট এবার ৫ম শ্রেনী ফাইন্যাল দিচ্ছে! এই খিলগাঁও এলাকার স্কুলের একটা স্কুলের ছাত্র সে। সাথে এই খিলগাঁও এলাকায় একটা স্কুলে সিট পড়েছে, কাজে কাজেই ওকে পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে এবং আসতে হচ্ছে (যদিও আগেও সে এই এলাকার সাথে পরিচিত এবং প্রায় সব খাবারের দোকানই চিনে আছে), পরীক্ষা দিয়েই তার একটা না একটা খাবার বাহানা থাকছেই! প্রশ্ন ফাঁসের এই বাজে সময়ে সে যখন পরীক্ষা দিয়ে বলে ভাল পরীক্ষা দিয়েছে তখন তার এই খাবারের আবদার না রেখে কি পারা যায়!

চলুন এমন একটা দোকান দেখে ফেলি এবং সাথে এই দোকান গুলোতে কি করে বার্গার তৈরি করা হয় তাও দেখে ফেলি! চলুন!


পরীক্ষা ফলেই পরিচয় হবে, এখন সুখিভাব থাক!


এই দোকান গুলোর পরিবেশ ভিতরটা এমনি। আগে টাকা দিন এবং খাবার নিয়ে বসে আড্ডা দিন।


এই সব দোকানে প্রায় সব কিছু রেডি থাকে, আদেশ পেলেই রেডি করে দেয়। বার্গারের পেটি আগে থেকেই তৈরী থাকে ফলে সেটা নিয়েই গ্রিলারে ছড়িয়ে দেয় এবং তা তৈরী হতে থাকে, ফাঁকে ব্রেড প্রিপারেশন চলে, ছবি দেখুন।


পেটি হয়ে এলে তা এভাবে বার্গারে বসিয়ে দেয়া হয়।


ফয়েল পেপার দিয়ে এভাবে প্যাকিং করে ফেলা হয় এবং ফয়েল পেপার সহ আবার গ্রীলে গরম করে নেয়া হয়, এতে পুরা বার্গারটাই গরম এবং ভিতরের স্টাফ গুলোর একটা নমনীয় ভাব আসে, চিজ দিলে তা গলে খেতে স্বাদ হয়!


গ্রিলাটা দূরে থাকায় ছবি নিতে পারি নাই! তবে যারা এই সব দোকানে খেয়ে থাকেন তারা ছবি দেখেই বুঝে ফেলতে পারছেন বলে মনে হয়।


নিজেকেই খাবার নিজের টেবিলে নিয়ে আসতে হয়! এতে আমাদের আলস্য কিছুটা হলেও কমবে!


খাবার শুরু করা যেতে পারে!


দোকানটা নুতন বলে এখনো ভীড় তেমন একটা নেই, তবে দোকানী জানালো দুপুর থেকে বেচাকেনা ভাল শুরু হয়, ফাঁকা থাকায় ফটো সেশন ভাল জমেছে!


আমার একটু সস বেশী পড়ে গিয়েছিল! যাই হোক, এই বার্গার বা এই সব দোকানের খাবারের দাম আকাশচুম্বী বলেই আমি মনে করি। মধ্যবিত্তদের পক্ষেও এই সব দোকানে মাঝে মাঝে যাওয়া  কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এমন একটা ছোট বার্গারের দাম ১২০টাকা! দোকানীরা যেন পুরা টাকাই লাভ করতে চায়! এমন একটা ১২০ টাকার বার্গারে আরো কিছু লেটুস, আরো কিছু টমেটো, আরো কিছু পেঁয়াজ রিং(!) এবং ভিনেগারে চুবানো শসা, পটেটো চিপস যোগ করলে দোকানীর কত টাকাই বা যেত! ১২০ টাকাতে মনে হল অর্ধেক টাকাই লাভ করে নিতে চায়! একটু বেশী খাইয়ে, একটু বেশী দিয়ে বা মানুষের মন ভরিয়ে টাকা রুজি করতে এই দেশে কেহই চায় বলে প্রমান পাই না! বেশী বিক্রী করে লাভ করার চিন্তা আমাদের মাথা থেকে সরেই গিয়েছে! আমাদের এখন কত কম সময়ে কত বেশী ফাকি দিয়ে লাভ করা যায়, এই চিন্তা! নামদাম কিনে ব্যবসা করার চিন্তা আমাদের আর মোটেও অবশিষ্ট নেই!


খাবার শেষে এমন আনন্দ পিতা হিসাবে কোথায় পাই!


এই সেই দোকান, মজার ব্যাপার হল, আমরা থাকাবস্থায় এই দোকানে ইনকাম ট্যাক্স থেকে অফিসারগন (ইন্সপেক্টর) এসেছিল (ম্যানেজার প্রথমে ভড়কে গিয়েছিল, পরে সামাল দিয়ে নিয়েছে)! কোন কাগজপত্র ছাড়াই দোকান শুরু হয়েছে, এমনকি একটা ট্রেড লাইসেন্সও করা হয় নাই! এই তো প্রিয় দেশ, যেখানে টাকা থাকলেই সব কিছু করা যায়, ঘরে বসে বাঘের দুধ পান করা যায়!


এই আমাদের প্রিয় খিলগাঁওয়ের প্রধান রাস্তা! রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠছে কয়েক শত খাবারের দোকান ও ফ্যাশন হাউজ! আমি এই এলাকা পছন্দ করি!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

Advertisements

2 responses to “আড্ডাঃ বার্গার পেলেস (খিলগাঁও)

  1. লোগোটা কপি করা Burger King থেকে। চেক করে দেখেন, http://en.wikipedia.org/wiki/Burger_King

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s