Gallery

আড্ডাঃ হোটেল হীরাঝিল, মতিঝিল


আজকাল আমাদের দেশের মোটামুটি মাঝারি মানের বাংলা হোটেল গুলো বেশ জমজমাট। যারা ভাল মানের ও স্বাদের রান্না করেন তাদের হোটেলে ভীড় লেগেই আছে। তবে এটা হোটেলের লোকেশনের উপর নির্ভর করে। রাজধানীর মতিঝিল এলাকার অনেক হোটেলই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর নানান কারন থাকলেও আমার কাছে মনে হয়, মানুষ বা খাবার মানুষ অনেক অনেক বেড়ে গেছে এবং এই সমস্ত হোটেল মোটামুটি কম টাকায় ভাল স্বাদের খাবার তৈরী করে থাকে। একশত বা একশত বিশ টাকার মধ্যে মোটামুটি এক প্লেট কাচ্ছি বিরিয়ানী বা এই জাতীয় খাবার খাওয়া যায়। অন্য দিলে কাবাব রুটি বা পরোটা, ভাঁজি দিয়েও এই সব হোটেলে খাওয়া যায়।

মতিঝিল এলাকায় আমি বলতে গেলে বেড়ে উঠেছি, এই এলাকার প্রায় সব হোটেলে খাবার অভিজ্ঞতা আমার আছে (ঘরোয়ার খিচুড়ি নিয়ে অনেক লিখেছি, হা হা হা)। নিত্য আসা যাওয়ার মধ্যে এখানে সেখানে, চিপা চাপায় আমি খেয়েছি। মতিঝিলের দামী হোটেল রেষ্টুরেন্ট থেকে ফুটপাতের সামান্য খাবার দাবারেও আমার অরুচি নেই! চান্স পেলেই হল। মতিঝিলের কোন জায়গাতে কি খাবারের আইটেম বিক্রি হয় তা আমি চোখ বন্ধ করেই বলে দিতে পারবো। ধনী, মধ্যবিত্ত বা গরীব সব মানুষ এই এলাকাতে নানা কাজে আসা যাওয়া করেন বলে এই এলাকাতে এমনিতে নানান ধরনের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

যাই হোক, আজ একটা বিষয় নিয়েই লিখবো। আমাদের ছোট বেলায় শুধু মাত্র বড় বড় হোটেল গুলোতে এই ধরনের খাবারের কথা শুনতাম এবং খেয়েছি বড় হয়েই! হ্যাঁ, বুফে খাবার দাবারের কথাই আমি বলছি। মতিঝিলে এই বুফে খাবারের ব্যবস্থা ছিল একমাত্র হোটেল পূর্বানীতে এবং এই বুফেতে খাবার খেয়ে এসে আমাদের সিনিয়র ভাই বেরাদরদের কাছে শুনে খুব ইচ্ছা হত! হা হা হা, উপরোয়ালা মানুষের কোন ইচ্ছাই অপূর্ন রাখেন না, আমার যতদুর মনে পড়ে নবম বা দশম শ্রেনীতেই পড়ার সময় হোটেল পূর্বানীর বুফেতে খেয়েছি! তবে বুফে খাবারের পূরো ব্যবস্থাটা বুঝে উঠতে কিছু সময় লেগেছিল! হোটেল ইন্টারকন্টিনেট্যাল (তখন মনে হয় এই নাম ছিল, পরে সেরাটন হয়েছে) এ একবার হল রুমে বুফে খাবার খেয়ে এই ধরনের খাবারের আসল মজেজা বুঝতে পেরেছিলাম। নিজের পছন্দের স্বাধীনতায় খাবার খেতে পারার একটা আলাদা মজা আছে বটেই!

যাই হোক, ধান বান্তে শিবের গীত গাইয়ে কি হবে! এই বুফে সিস্টেমের খাবার দাবার এখন আমাদের হাতের নাগালেই, পান্তা ভাতের পানি, দামী হোটেলে যাবার প্রয়োজন এখন আর পড়ে না। দামী হোটেলের পরিবেশ এবং খাবারের মান উন্নত হলেও বুফেতে এখন আমাদের মাঝারি মানের হোটেলে এই ব্যবস্থা গড়ে উঠছে বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই! বিশেষ করে আমাদের দেশে এক শ্রেনীর মানুষ এই ধরনের বুফেতে খাবার বেশ পছন্দ করছেন, ইচ্ছা মত খেতে (বেশী তো নয়) পারেন!

চলুন, মতিঝিলের এমনি একটা সাধারন মানের হোটেলের বুফে ব্যবস্থা দেখে নেই, যেখানে আমরা আড্ডা দিয়েছিলাম কয়েকজন বন্ধু, যার যা ইচ্ছা, সে তা খেয়েছিল। পার পারসন ৪৬০ টাকা! ছবি দেখেই আশা করি বুঝে যাবেন, তবে আমার নিজের প্লেটের ছবি তুলতে পারি নাই!


ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০


ছবি ১১


ছবি ১২

মিষ্টিমুখ!

ছবি ১৩


ছবি ১৪

সবাইকে শুভেচ্ছা। যারা ভাল খেতে পারেন, তারা অবশ্যই খেয়ে দেখতে পারেন।

(সময়াভাবে কিছু কথা লিখতে পারলাম না, কমেন্টে সুযোগ পেলে লিখে দিব)

Advertisements

7 responses to “আড্ডাঃ হোটেল হীরাঝিল, মতিঝিল

  1. Vai ei matro vat khelam….. kintu cobi dekhe jive pani ase gelo………ha ha

    Liked by 1 person

  2. ভাইয়া, এটা কোন হোটেল?

    Liked by 1 person

  3. হীরাঝীল এ বুফে খেয়েছিলাম গত বছর,কলেজ ছুটির পর কোনো প্ল্যান ছাড়াই চলে গিয়েছিলাম,আমাদের সময় ও এমনই ৪৬০ টাকা ছিল,বেশ কমই বলা যায়,কিন্তু খাবার ভালো লাগেনাই(এখন কেমন কে জানে)
    তবে হীরাঝীল এর একটা জিনিস রেগুলার খাই,সেটা হল নেহারি,সকালে প্র‍্যাক্টিকাল থাকলেই চলে যেতাম আর ৬-৭জন মানুষ মাত্র দুই বাটি দিয়ে চালিয়ে নিতাম তাও বেশি হয়ে যেত!!! এখন কলেজ শেষ,ওই দিনগুলো আর আসবে না।
    শুভেচ্ছা ও ভালোলাগা

    Liked by 1 person

  4. ওহ,ঘরোয়া নিয়েও বলা যায়,ঘরোয়া তে বেশ কয়েকবার খেয়েছি,কিন্তু ঐ খিচুড়ি আমার কাছে আপ টু মার্ক মনে হল না,বরং সারা রাত পড়ার পর ভোর ৬টায় কাওরানবাজার সুপার স্টার (আমার বাসা ফার্মগেট থেকে হাঁটাপথ) এর ৬০ টাকার খাসির খিচুড়ি এর যে টেস্ট,সেটা পৃথিবীর আর কোনো খাবার থেকে পাবো নাকি জানি না। আপনার বাসার আশেপাশে কোনো স্টার রেস্টুরেন্ট থাকলে ট্রাই করার জন্য সাজেস্ট করছি,অথবা চলে আসুন,আমার বাসায়,আমি খাওয়াবো 😀

    শুভেচ্ছা

    Liked by 1 person

  5. হোটেল হীরাঝিল নিয়ে আরো একটা লিখায় আমন্ত্রন জানাচ্ছি।
    http://wp.me/p1KRVz-1in

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s