Gallery

উপহারঃ এলাচি পেয়ে মন ভাল হয়ে গেল!


মোটামুটি আমার আশে পাশে যারা আছেন, তারা সবাই এখন জেনে গেছেন, রান্না এবং রেসিপির প্রতি আমার ভালবাসা কেমন! আমি যখন বাংলা ব্লগে লেখালিখি শুরু করি, সেটা আমি আমার অফিস কলিগদের কাছে কখনো বলি নাই। এমন কি যখন সিরিয়াস হয়ে রান্না শিখতে শুরু করলাম এবং  রেসিপি লিখতে শুরু করলাম, সেটাও আমি আমার অফিস কলিগদের কাছে লুকিয়ে রেখেছিলাম। অফিসে কারো সাথে এই রান্না ও লেখালিখির ব্যাপারে কখনো কোন আলাপ করতাম না (এখনো করি না), বলতামও না। সময় বাঁচিয়ে আড্ডা বা খাবারে সময় নষ্ট না করে লিখতাম, কেহ আসলে বন্ধ করে ফেলতাম, তখন বেশীরভাগ লেখাই বাসায় রাতে লিখে পোষ্ট দিয়ে অফিসে শুধু কমেন্টস দেখতাম! (এই অফিসে ফেসবুক নিষিদ্ধ ছিল এবং এখনো আছে বলে জানি)

যাই হোক, তখন আমি নামকরা একটা ডায়াগনস্টিকে কাজ করি, নেট লাইন ২৪ ঘন্টা ফ্রী, টেবিলে কম্পিউটার, আবার সপ্তাহে ১/২ দিন রাতে কাজ করি, তখনই মুলত নানান বিষয়ে নানান বাংলা ব্লগে বেশী বেশী পোষ্ট দিতে থাকি, সাথে শুরু করি আমার এই রেসিপি সাইটের কাজ। তবে আলাদা করে এই রেসিপি সাইটের কথা মনেই আসত না, যদি বাংলাব্লগ চতুরমার্ত্রিকে (এই ব্লগে আমার এখনো অনেক রেসিপি আছে) রেসিপি এবং আমার লেখা নিয়ে আজেবাজে বলা হত (কিছু বাজে মানসিকতার বন্ধু সব ব্লগেই পেয়েছি এবং আছে)! হা হা হা, এটা অবশ্য ভালই হয়েছে, আলাদা করে নিজের মত করে ভাবতে পেরেছি! আলাদা করে নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে পেরেছি!

যা লিখার জন্য বসেছি তা হারিয়ে ফেলছি! উক্ত ডায়াগনষ্টিকে কাজ করার সময় ডাক্তারদের নিয়ে বিডি২৪ ব্লগে ডাক্তারদের নিয়ে একটা সিরিজ লেখা শুরু করলাম, একদিন মার্কেটিং বিভাগের থেকে আমাকে ডাকা হল। আমি মার্কেটিং বিভাগে পৌছেই দেখি মার্কেটিং প্রধানের সাথে অনেক সিনিয়র/জুনিয়র বসে আছে, তাদের একজন আমাকে বসতে জায়গা করে দিয়েই জানালো, আমি যে ডাক্তার নিয়ে লিখেছি, সেটা সঠিক! আমি না বুঝার ভান করলাম! ভাবতে লাগলাম, কি করে ওরা এই ব্লগের কথা জানতে পেরেছে! মার্কেটিং বিভাগের এক সিনিয়র অফিসার আমার লেখার প্রশংসা করলেন। বুঝলাম, আমি ধরা পড়ে গেছি! মার্কেটিং প্রধান অবশ্য তেমন মাইন্ড করেন নাই!

যাই হোক, সে চাকুরী ছাড়ার পর মুলত আমি রান্না ও রেসিপি বেশী করে শুরু করি, বাসায় সময় বেশী পাই বলেই, স্ত্রীও হেল্প করতে লাগলেন! তার পর চলতেই থাকে। এখন আমি যেখানে কাজ করি, সেখানেও আমার রেসিপি বা লেখালিখির কথা কাউকে বলি না। তবে কিভাবে বা আমার কম্পিউটার দেখার ভাবসাব দেখে সবাই আমার লেখালেখির কথা জেনে গেছে। এদিকে ফেসবুকে আমার লেখার লিঙ্ক দিতে থাকার কারনে এখন অনেকেই জানেন, স্কুল বন্ধু থেকে প্রতিবেশী সবাই মোটামুটি এখন জানেন যে আমি লিখি, রেসিপি লিখি!

আমাদের অফিস থেকে এক ভদ্রলোক (নামটা ইচ্ছা করেই প্রকাশ করলাম না) বিদেশ গিয়েছেন, গতকাল তিনি ছুটিতে ফিরে এসেছেন, তিনি আমার রান্নার কথা জানেন, রেসিপি দেখেন। আজ সকালে অফিসে এসে তিনি আমাকে এলাচি ও কিছু মিক্স ভেজষ (দারুচিনি, জিরা, লবঙ্গ) উপহার দিয়ে গেলেন। এই উপহার পেয়েই মন ভাল হয়ে গেল!


এলাচি!


ভেজষ মিক্স (দারুচিনি, জিরা, এলাচি ও লং)


আহ।


নিশ্চিত কয়েক মাস চালিয়ে দেয়া যাবে!


ইন্ডিয়ান বটেই তবে মান ভাল।


আরবীয়রা এলাচি বেশী মাত্রায় পছন্দ করে!


এলাচি তো নয় যে কাঁচা সোনা!

মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্যে ভেজালের কথা কেহ চিন্তাও করে না (আমি নিজেও দেখেছি)। খাদ্যে ভেজালের শাস্তি কঠিন! আইন আছে, প্রয়োগ আছে! এই আইন এবং জনসচেতনতার জন্য খাদ্যে ভেজাল কেহ করে না, খাদ্যে ভেজালের অপরাধী পাওয়া মুস্কিল! এমন কি যে সব প্রোডাক্ট বা খাদ্য দ্রব্য তাদের দেশের বাইরে থেকে আমদানী হয়, সেই সব উৎপাদক বা ব্যবসাহীরাও খাদ্যে ভেজালের কথা চিন্তা করতে পারে না, সব কিছুই সুনিদিষ্ট করে দেয়া আছে, ভুল করার চান্স নেই! ভেজালে ধরা পড়লে শুধু আম ও ছালা যাবে না, সাথে গর্দানও যাবে!

বিশ্বাস করুন, এই এলাচি গুলো খুলে হাতে নিয়ে আমি ঘ্রান শুঁকে দেখলাম, নাকের কাছে নেয়ার দরকার ছিল না কারন সারা ঘরই ঘ্রাণে ভরে গিয়েছিল!

যাই হোক, আমি এই ধরনের উপহার বেশী পছন্দ করি! হা হা হা! খাবার দাবার বিষয় অনুষংগিক উপহার পেলে মন ভাল হয়ে যায়! সবাইকে শুভেচ্ছা।

মশলা ও ভেজষ ছবি দেখে চিনতে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন, মশলা/ভেজষ চিনুন!

Advertisements

One response to “উপহারঃ এলাচি পেয়ে মন ভাল হয়ে গেল!

  1. Alachi upohar pele mon valo hoye jae…but Alachi mukhe porle mon…….@@@@……hoye jae….

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s