Gallery

আড্ডাঃ ষ্টার হোটেল এন্ড কাবাব (রাজিন সৌজন্য)


আমি প্রায় তিন বছর ধানমন্ডি এলাকায় কাজ করেছি, বছর দুয়েক আগে। পুরান ঢাকা্র ষ্টার হোটেল এন্ড কাবাব রেষ্টূরেন্টটা যখন ধানমন্ডি ২ নং রোডে তাদের শাখা চালু করল তখন থেকেই দেখেছি, অফিসে চাকুরী কালীন দুপুরের ও বিকালের নাস্তায় এই হোটেল থেকে অনেক খাবার আনিয়ে খেয়েছি বা যেয়ে খেয়েছি। চাকুরী ছাড়ার পর আর ধানমন্ডি এলাকায় তেমন একটা যাওয়া হয় নাই, তবে এই হোটেলের উপর নজর ছিল এবং আছে (বছর খানেক আগে আর এক  ছোট ভাইয়ের সাথে এই হোটেলে খেয়েছিলাম)! কি করে একটা হোটেল এই এলাকায় এত জমে গেল সেটা তো চোখের সামনে দেখলাম। চাকুরীকালীন সময়ে মাঝে মাঝে দুপুরের খাবার খেতে কখনো কখনো একাই চলে যেতাম, তখন তেমন একটা ভীড় লক্ষ হত না, আর এখন পুরা ৫ তলা জুড়েই ভীড় লেগে আছে! খাবারের মান ভাল, দেশী বাহারী খাবার এবং বসে আড্ডা দিয়ে খাওয়া যায় বলে এই হোটেল অনেকের প্রিয় হয়ে উঠছে, বিশেষ করে উঠতি যুবক/যুবতিরা বেশ ভীড় জমান এই হোটেলে। হা হা হা। যাই হোক, কয়েকদিন আগে এমনি এই হোটেলে বিকালের খাবার  একটা চান্স মিলে যায় এবং সেটা ঘন্টাখানেকের ফেবু গ্রুপ চ্যাট থেকেই। আমাকে ট্যাগ করে কিছু প্রিয় অনলাইন বন্ধু জানালেন যে, বিকেলেই সবাই এই হোটেলে একত্রিত হবেন। আমিও রাজী হয়ে গেলাম ১) পুরানো অনলাইন বন্ধুদের সাথে দেখা হবে ২) ষ্টার হোটেল এন্ড কাবাব দেখে আসা যাবে!

আড্ডা শুরুঃ

ব্লগার্স ফোরামের সাথে একবার আমি আমার পরিজন নিয়ে পিকনিকে গিয়েছিলাম, আমার ছেলে ও স্ত্রী যে কয়েকজন ছেলের কাজের প্রশংসা করেছিল, তাদের মধ্যে রাজিন অন্যতম ছিল। আমার স্ত্রীর ছোট ভাইয়ের নাম রাজন (ইতালী প্রবাসী), এই রাজিনের বয়সই! তাই তার প্রতি আমাদের পরিবারের একটা বিশেষ মায়া জন্মে ছিল, ফেবু এবং অন্যান্ন মাধ্যমেও আমি রাজিনকে সব সময়ে ট্যাগে রাখতাম। সাথে ওর মাঝে মানবতাবোধ দেখে আমরা অভিভুত হয়েছিলাম (ঘটনাটা এখনো আমরা বলে থাকি, সুযোগ পেলে অন্য কোথায় এই ঘটনা বলব)।


রাজিন আমাদের সবার জন্য আমেরিকা থেকে চকলেট নিয়ে এসেছিল। আড্ডার শুরুতে চকলেট, মিষ্টি মুখ বেশ আনন্দদায়ক ছিল।


একে একে সবাই আসতে শুরু হয়েছিল, অবে সবার আগে আমি ও এরশাদ ভাই সবার আগে পৌছেছিলাম। এখানে নাম উল্লেখ করতে চাই না, পরে জেনেছি আমাদের এক মুরুব্বী ভাই, এই আড্ডায় অংশ নিতে বগুড়া থেকে মটর সাইকেল চালিয়ে এসেছেন(!)। হা হা হা।


সামান্য সময়ের আয়োজনে এই আড্ডা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছিল।


হোটেলে আড্ডা দিতে গেলে, এই রকম মেনু হাজির হয়েই যাবে!


ছবিটা নিয়ে একটা কুইজ করা যেতে পারে!


জিয়া ভাইয়ের এই রকম ছবি আমি আগেও তুলেছি! ছবি মাষ্টার, হা হা হা! তবে আজ উনার সাথে ক্যামেরা না দেখে বুঝতে পারছি, শুধু আড্ডা দিতেই এসেছেন!

খাবার পর্বঃ

খাবার সিলেকশনের ভার আমার উপর ছিল, রান্না করি বলেই হয়ত! যেহেতু বিকালের খাবার তাই খুব সহজে সবাইকে মানিয়ে নেয়া গেল। স্পেশাল নান, চিকেন টিক্কা এবং কোমল পানীয়। খাবারের অর্ডারে সবাই খুব সহজেই রাজী হয়ে গেল। তবে আরো কয়েক বাটি চিকেন ঝাল ফ্রাই এবং এক জনের জন্য বটি কাবাব বলা হয়েছিল মাত্র।


চিকেন কারি।


সালাদ।


চিকেন টিক্কা।


এই সাজানো প্লেটটা ছিল আমাদের শিবলী ভাইয়ের! হা হা হা।


বাকী সবাই মোটামুটি এমনি!

খাওয়া পর্বঃ

কারো নাম নিবো না! হা হা হা, চলুক।


ছোট ভাই গুলো খাচ্ছে।


সিনিয়র ভাইরা বলা চলে একটু চুপচাপ ছিলেন!

পানীয় ও মিষ্টান্নাঃ

আহ। (একটা পানীয় মিস করেছি, সেটা হল, কেহ কেহ বোরহানী পান করেছেন, ক্যামেরায় সেটা ধরতে পারি নাই!)


ওহ! ফিরনী!


এই মিষ্টি দেখে আমি নিজেও কিছুটা ভড়কে গিয়েছিলাম! পরে জানলাম, কয়েকদিন আগে আমাদের ছোট ভাই রাফেল পিতা হয়েছেন, সেই জন্যই এই মিষ্টির ব্যবস্থা করেছেন। আমরা আমাদের ভাতিজির জন্য দোয়া করি, সারা জীবন আনন্দে কাটুক।


রাফেলকে মিষ্টি খাইয়ে পিতা হবার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছেন ভালবাসার দেয়াল ভাই।


চা না হলে কি চলে?

শেষের আড্ডাঃ

সর্বশেষ তো বুঝতেই পারছেন, আমেরিকান টান না হলে কি চলে? হা হা হা। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আড্ডা না দিলে কি আর বাঙ্গালীর ইজ্জত থাকে?


দেশে এমনি আরো সুন্দর সুন্দর ভাল পরিবেশের এবং দামে কম খাবারের হোটেল গড়ে উঠুক, এই কামনা করি। দেশের মানুষ তাদের ভালবাসার মানুষকে নিয়ে আনন্দ করে খেয়ে দেয়ে সময় কাটাক এটাই আমার চাওয়া।

বি দ্রঃ এটা আসলে রাজিন হোষ্টেড একটা মিনি আড্ডা বলা চলে। বাংলাদেশের এই মুহুর্তের মোষ্ট এলিজিবেল ব্যচেলর রাজিনকে আমাদের শুভেচ্ছা থাকলো। বিদেশে একদিন আমাদের রাজিন অনেক অনেক  নাম কামাবে এবং অনেক অনেক বড় হবে এই দোয়া করি।  সেই সাথে আশা করি একদিন রাজিনের বিবাহের দাওয়াত পাবো এবং পরিবার পরিজন নিয়ে সেই বিয়েতে খেয়ে দেয়ে আনন্দ করবো!

(লেখাটা শব্দনীড় ব্লগের জন্য)
http://www.shobdoneer.com/udraji/75678
ফেবু স্ট্যাটাসঃ https://www.facebook.com/udraji/posts/10202323659727804?pnref=story

3 responses to “আড্ডাঃ ষ্টার হোটেল এন্ড কাবাব (রাজিন সৌজন্য)

  1. Vaijan, Star-e Kacci na kaile kemne hobe…. My favorite menu in Star is …. Kacci+leg rost…

    Good wishes , sobaike…..

    Like

  2. আপনাদের এই সাইট টা আমার খুবই ভাল লাগে। অনেক রান্না ও শিখে গেছি।

    Like

  3. Jonab apna k dhonnobad. Star Restataurent smomporke ekti kotha na bole parchina, seta holo er lassi, Oshadharon 30 takai ei maner lassi bodhoy Bangladesh er kothao paoa jaina. Chomotkar lekhar jonno abaro dhonnobad janacchi.

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s