Gallery

রেসিপিঃ কোরবানীর গোস্তের রান্না (ঝটপট, প্রথম)


কোরবানীর গোস্ত রান্না তেমন কোন ব্যাপার নয়। আমি মনে করি এবং আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয় কোরবানীর গোস্ত শুধু পানি দিয়ে সিদ্ধ করেও খাওয়া যেতে পারে। হা হা হা, কথা কিন্তু খারাপ বলি নাই, কোরবানীর গোস্তে একটা আলাদা ব্যাপার আছে, উপরওয়ালার রহমতেই স্বাদ হয়ে যায়। কোরবানীর গোস্ত প্রথম পেলে তা দিয়ে কোন এক্সপেরিমেন্ট চলে না কারন সবাই কোরবানীর পর পরই ক্ষুধার্থ থাকে এবং সবাই খেতে চান। চলুন কথা না বাড়িয়ে তেমনি একটা রান্না দেখে ফেলি, আশা করি আপনারাও এমন রান্না খেয়েছেন বা করে থাকেন। তবে প্রথমেই বলি, কোরবানীর গোস্তের প্রথম রান্নায় মশ্লাপাতি কম দেয়াই ভাল এবং মাখানো পদ্ধতিতেই রান্না করা উত্তম।

চলুন দেখে ফেলি, হাতে তেমন সময় নেই।

উপকরনঃ
– গরুর গোসতঃ ৩.৫ বা ৪ কেজি (যেভাবে কাটা পাওয়া যায়, বড় ছোট পিস যাই হউক, হাড্ডি গুড্ডি কম নেয়াই ভাল)
– রসুন বাটাঃ ২ টেবিল চামচ (দেশি)
– আদা বাটাঃ ৩ টেবিল চামচ (দেশি)
– দারুচিনিঃ ২ সেমি, ৫/৬ টুকরা
– এলাচিঃ ৭/৮ টা
– লংঃ ৫/৬ টা (ইচ্ছা)
– লাল মরিচ গুড়াঃ ২ টেবিল চামচ (ঝাল বুঝে, কম দেয়াই ভাল)
– হলুদ গুড়াঃ দেড় টেবিল চামচ
– জিরা গুড়াঃ দেড় টেবিল চামচ
– লবন পরিমান মত
– তেলঃ এক কাপের কম (কোরবানীর গোস্তে এম্নিতেই চর্বি থাকে)
– পানি (পরিমান মত, শুরুতে কম দিয়েই যাত্রা করা উচিত, শেষে স্বাদ দেখে দেয়া যেতে পারে)

– পেঁয়াজ কুঁচিঃ এক কাপের কম (কিছু পরে দিতে হবে)

প্রনালীঃ

একটা বড় হাড়িতে গোস্ত ভাল করে ধুয়ে পেঁয়াজ কুচি ছাড়া বাকী সব মশ্লাপাতি দিয়ে (উপরে উল্লেখিত) ভাল করে মাখিয়ে আগুনে বসিয়ে দিন।


কিছু সময় পর নাড়িয়ে দিতে হবে।


মিনিট ১০/১৫ পর গোস্ত ভিন্ন রুপে এসে যাবে।


এবার পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নাড়িয়ে দিন।


কাজ মোটামুটি শেষ, এবার আগুন বাড়িয়ে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন।


গোস্ত থেকে পানি বের হয়ে সিদ্ধ হতে থাকবে, মাঝে মাঝে ভাল করে নাড়িয়ে দিতে হবে।


গোস্ত নরম হল কিনা দেখে নিতে হবে।


নরম না হলে আরো কিছু পানি (গরম বা নরমাল) দিতে হবে, এবার আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে। আরো মিনিট ১৫/২৯ চুলায় থাকবে। ঝোল গা গায়ে নিতে আসতে হবে।


ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন। না লাগলে আগে বাড়ুন।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


সাদা ভাত, পোলাউ, রুটি, পরোটা, ছিটা পিঠা, চিতই পিঠা, চালের রুটির সাথে এই গোস্ত খেতে অসাধারন, যার যা ইচ্ছা। মুড়ি বা পুরি দিয়েও খেতে পারেন, কিছু যায় আসে না! হা হা হা…।


গোস্তের পিস গুলো দেখেই প্রান জুড়িয়ে যায়, আনাড়ি হাতের গোস্ত কাট, এক কথায় মন ভুলানো ব্যাপার।

সবাইকে শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন সবাই। সবার জন্য ভাল খাবার চাই, পুষ্টিকর এবং ভেজাল মুক্ত। শুধু ঈদ পূজা কিংবা কোন উৎসবে নয়, প্রতিদিন, প্রতিবেলায়।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ কোরবানীর গোস্তের রান্না (ঝটপট, প্রথম)

  1. “গোস্তের পিস গুলো দেখেই প্রান জুড়িয়ে যায়, আনাড়ি হাতের গোস্ত কাট, এক কথায় মন ভুলানো ব্যাপার।” —অতি সত্য কথা।

    ঈদের শুভেচ্ছা আপনাকে আর আপনার পুরো পরিবারকে, ভালো থাকুন।

    Liked by 1 person

  2. দুনিয়ায় এর চেয়ে স্বাদের খাবার হয়না।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s