Gallery

রাতের ঢাকা এবং খাওয়া দাওয়া


রাত জাগা আমার পূরানো অভ্যাস ছিল, বিবাহের আগে! বিবাহের বাসর রাতে আমি অনেক কিছু বুঝে গিয়েছিলাম, সাথে এটাও বুঝতে পারি আর রাতে বাইরে থাকা যাবে না! হা হা হা! মলিবাগ মোড়ে তখন আমাদের বাসা, আমার সিনিয়র বন্ধু কামাল ভাই (এই বন্ধুটা এই দুনিয়াতে আর নেই!) রাত হলেই আড্ডায় মেতে উঠত। রাতের খাবার খেয়েই আমাদের আড্ডা চলত মালিবাগ মোড়ে বা অন্য কোথায়ও, কামাল ভাই বাসা থেকে আমাকে ডেকে নিয়ে আসত। কামাল ভাইয়ের রাজার বাগের কাছে একটা দোকান ছিল, সেই দোকানেই চলত আড্ডা, মোড়ে ঘুরাঘুরি এবং খাবার দাবার। রাত যত বাড়ত আমাদের আড্ডাও চলত তত। মাঝে দোকানে তালা দিয়ে খাবার খেতে আমরা মোড়ে আসতাম! তখন মালিবাগ মোড়ের রাত জায়গা অনেক দোকানী আমাদের চিনত এবং প্রয়োজনে বাকীও দিত। আমি বন্ধুবাজ, আড্ডাবাজ তবে আমাকে রাতের ঢাকা চিনিয়ে দেয়ার জন্য আমি এখনো কামাল ভাইকে মনে করি, কামাল ভাই এই দুনিয়াতে থাকলে হয়ত এখনো আমাকে রাতে আড্ডায় যোগ দিতে হয়, বিবাহিত ব্যাপারটা হয়ত কি করে মন থেকে মুছে ফেলে আড্ডা দিতে হয় তা শিখে নিতে পারতাম! সব কিছুর শিক্ষক লাগে!

যাই হোক, অনেকদিন পর অফিস থেকেই রাত জাগার একটা সুযোগ এসে পড়ে। অফিসের কাজের কথা বলে বাসা থেকে বিদায় নিতে পারাটাও বেশ আনন্দদায়ক, ম্যাডামের বলার কিছু নাই! আমাদের অফিসের হজ্জযাত্রীদের গত কয়েকদিন আগে ফ্লাইটে তুলে দেয়ার (শেষ সময়ে অফিসের তরফ থেকে উপস্থিত থাকার) দায়িত্ব ছিল আমার। রাতের ঢাকা দেখার একটা সুযোগ এসে পড়ে!

আসলে এই রাতের শহর কি কিছুটা পাল্টেছে! আমার দেখা ১৬/১৭ বছরের আগের ঢাকা শহরের সাথে মিলাতে চেষ্টা করলাম, কই তেমন তো পরিবর্তন নেই! বরঞ্চ আরো ভীতিকর এবং অনুজ্জল মনে হয়েছে। রাতে এমনিতেই একটা মাদকতা থাকে, সেই মাদকতা উপভোগ করতে হলে শুধু মন থাকা চাই। রাতের নির্জনতা উপভোগ একটা আলাদা ব্যাপার।


ঢাকায় যে কয়েকটা স্থান সারা রাত জেগে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এয়ার পোর্ট এলাকা।


যাত্রীদের আনাগোনায় এয়ারপোর্ট জেগে থাকে এক অনাবিল ভালবাসায়।


সাজ সজ্জায় কমতি নেই।

রাতের ঢাকায় আপনি ক্ষুধার্থ হলে কি খাবেন? সেই পুরানো আমল থেকেই দেখে আসছি, সেই একই খাবার দাবার।


আপনি নানা চার রাস্তার মোড়ে পাবেন পরোটা।


বুটের ডাল রান্না কিংবা ভাজি।


ডিমপোস পাবেনই!


এভাবে এই সব খাবার আপনি পাবেনই।


পানি তো থাকছেই।


বাকী থাকে রাতের মগ্নতা কাটিতে তুলতে চা! দুধ চা কিংবা রঙ চা মোটামুটি সব মোড়েই পাবেন।


দোকান গুলোর এমনি চেহারা আপনাকে কাছে ডাকবে। এরা রাতেই দোকান খুলে থাকে, সারাদিন ঘুমিয়ে পার করে দেয় এই সব দোকানের কর্মচারীরা। কম বয়সি দোকানের এই কর্মচারী, মালিকরা রাত জেগেই আনন্দ পায়। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন রাতে দোকান করেন, মোটামুটি উত্তর হচ্ছে, রাতে বেচাবিক্রি ভাল, আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকে, কাজ করে ভাল লাগে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

(আরো অনেক কিছু লিখার ইচ্ছা ছিল, লিখতে বসে আর কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না!)

Advertisements

6 responses to “রাতের ঢাকা এবং খাওয়া দাওয়া

  1. পড়ৈ ভাল লাগলো। রাতের শহরের আলাদা একটা আবেদন আছে। আর খাইদাই এর ব্যাপার হলে তো কথাই নেই। 🙂

    Liked by 1 person

  2. Just now I have taken a decision to have a night safari in our Dhaka City within nearest available time with my family members. I hope it would be really enjoyable.

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s