গ্যালারি

রেসিপিঃ কচুর শাক ভাঁজি (খেলে ভুলতে পারবেন না!)


কচুর শাক আমাদের দেশের একটা জনপ্রিয় শাক, লোক মুখে শুনা যায় এই শাকের উপকারিতা অনেক বেশি। আমাদের অনেকেই এই শাক ছোট বেলা থেকেই খেয়ে আসছি। কচুর শাক অনেক প্রকারে রান্না করা যায়, বিশেষ করে ইলিশ মাছের মাথা ভেঙ্গে সিমের বিচি দিয়ে বা শক্ত কোন ডাল দিয়ে এই শাকের রান্না সব সময়েই সুস্বাদু খাবার হয়ে থাকে, পূর্বে এমন ধরনের রান্না আপনাদের দেখিয়েছি। গতকাল বাজারে গিয়ে কচুর শাক দেখে না কিনে পারি নাই। চলুন আজ এই কচুর শাকের ভাঁজি দেখিয়ে দেই। খুব সহজ এবং সাধারণ, আশা করি এই সহজ রান্না আপনারা করে দেখবেন এবং খেয়ে স্বাদ ভুলতে পারবেন না।

গ্রামে যে কোন জায়গায় এই শাক দেখা যায়, শুধু তুলে নিলেই হল। তবে কচুর নানা প্রকার ভেদ আছে, শাক হিসাবে রান্নার জন্য একটু ভাল জাতের নিতে হবে।

অনেকে বলেন কচুর শাক খেলে গলা ধরে, আমি মনে করি আপনি যদি রান্নার সময় একটু খেয়াল করেন এবং প্রথমেই সামান্য সিদ্ধ বা ভাপিয়ে নিয়ে নেন তা হলে এই সমস্যা কিছুতেই থাকবে না। এ ছাড়া রান্নায় কিছু লেবুর রস দিলে এই সমস্যা আর থাকবেই না।

হাতে সময় নেই, কচুর শাক নিয়ে অনেক গল্প করা যেতে পারে, তবে আজ আর নয়। আগামীতে আবারও কচুর শাকের কোন নুতন রান্না নিয়ে আসলে গল্প করা যাবে। চলুন দেখে ফেলি।

উপকরনঃ (অনুমান আপনি নিজেও করতে পারবেন)
– কচুর শাক, কম বেশি ৪০০/৪৫০ গ্রাম (ভাপিয়ে নেয়ার পর)
– মাঝারি তিনটে পেঁয়াজ কুঁচি (পেঁয়াজ একটু বেশী হলে স্বাদ বাড়বে)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ (ঝাল বুঝে)
– এক টেবিল চামচ দেশী রসুন বাটা বা কুঁচি বা কয়েকটা কোষ থেতানো
– হাফ চা চামচের কম হলুদ গুড়া,
– হাফ চা চামচ চিনি,
– হাফ চা চামচ লেবুর রস,
– হাফ চা চামচ জিরা গুড়া (জিরা কড়াইতে ভেঁজে বেটে গুড়া করে নেয়া হয়েছে এবং রান্নার শেষে এটা দেয়া হয়েছে, এটা না দিলেও চলে তবে যারা আরো ভাল ঘ্রান পেতে চান দিতে পারেন)
– তেল (পরিমান মত, কম তেলেই রান্না উত্তম)
– পানি (ভাপানোর জন্য পরিমান মত)
– লবন (পরিমান মত, প্রথমে কম, পরে যাছাই করে দিতে হবে)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

কচুর শাক কেটে গা গা পানি দিয়ে ভাপিয়ে নিয়ে পরে পানি ঝরিয়ে নিন। এভাবে পানি ঝরিয়ে ফ্রীজে রেখেও বের করে সময়ে সময়ে রান্না করা যেতে পারে।


এবার কচুর শাক গুলোকে আধা মিহি করে বেঁটে নিন এবং তুলে রাখুন।


কড়াইতে তেল গরম করে হাফ চা চামচ লবন দিয়ে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি এবং কাঁচা মরিচ (ফালি করে হলে ভাল) দিয়ে ভাল করে ভাঁজতে থাকুন। যেহেতু লাল মরিচ গুড়া দেয়া হবে না, তাই কাঁচা মরিচ একটু বেশি দেয়া হয়েছে, তবে মরিচের ঝাল বুঝে দেয়াই উত্তম।


পেঁয়াজ কুঁচি সোনালী হয়ে আসলে তাতে হাফ চা চামচের কম হলুদ গুড়া দিন এবং ভাল করে ভেঁজে নিন।


এবার বেঁটে রাখা কচু দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে ভাঁজুন।


আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে, নাড়াতে থাকুন। কড়াইয়ের তলায় যেন না লেগে যায় সে দিকে লক্ষ রাখুন। এই ভাঁজাতে তাই চওড়া খুন্তি বযবহার করা দরকার।


এবার চিনি দিয়ে দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন।


আগুন কম থাকবে, এবার লেবুর রস দিন।


ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন। মাখা মাখা হয়ে গেলে পরিবেশন করতে পারেন। তবে যারা আরো একটু বেশি স্বাদ চান তারা নিন্মে আসুন।


হাফ চা চামচ জিরা গুড়া (জিরা তাওয়ায় ভেঁজে বেঁটে গুড়া করে নিতে হবে) দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন। এই জিরা গুড়ার জন্য স্বাদ ও ঘ্রান ভিন্ন হয়ে যাবে এবং খাবারে একটা আলাদা আনন্দ নিয়ে আসবে। যারা ভেজনরসিক তারা আরো আনন্দ পাবেন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম ভাতের সাথে তুলনাহীন!


বিশ্বাস করুন, আমি গত কাল শুধু এই শাক দিয়ে দুই প্লেট ভাত খেয়েছি, টেবিলে রুই মাছ রান্না ধরেও দেখি নাই! খেতে আমার মনে হচ্ছিলো, এই স্বাদ অন্য তরকারী খেয়ে যদি হারিয়ে যায়! হা হা হা।

খুব সহজ রান্না, আশা করি শুধু শাক কিনে ঘরে থাকা সাধারণ মশলা দিয়েই আপনারাও এই রান্না করে দেখবেন। সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন
রেসিপিঃ কচুর শাক রান্না (বরিশালের প্লেন ডাল দিয়ে)

রেসিপিঃ কচুর শাক (ছবি ব্লগ, ইলিশের মাথা ভেঙ্গে)

রেসিপিঃ কচুর ডগা ভুনা

Advertisements

8 responses to “রেসিপিঃ কচুর শাক ভাঁজি (খেলে ভুলতে পারবেন না!)

  1. Chingri sea ekdin Kore dekun ki shad..contrite zira diben na

    Like

  2. কচু শাকের রেসিপিটা দারুণ। কচু শাক আমার খুবই পছন্দের।
    শুভেচ্ছা রইলো শাহাদাত ভাই।

    Like

  3. Apnar ai rannar blog ar ritimoto preme poregasi. shor cut chicken fry, chise toast aigolo basai apply koresi amar wife khob posondo korese abong apnake onek dhonnobad dite bolese.

    Many many thanks from us

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s