গ্যালারি

রেসিপিঃ লইট্যা মাছ (মাছ রান্না জানতেই হবে!)


চট্রগ্রাম অঞ্চলের কোন পাত্র বিবাহ করতে পাত্রী বাড়ি গেল, আর পাত্রী বাড়িতে রাত বা দুপুরের খাবার দাবারের সাথে পরিবেশন করা হল লইট্যা মাছের ঝোল! আমি হলফ করে বলতে পারি সেই বাড়িতে পাত্রের বিবাহ নিশ্চিত! মাছ মাংস সহ খাবার দাবার এমন একটা বিষয় যে, আপনি ছোট বেলায় পরিবারে যা খাবেন সেটাই আপনার মনে গেঁথে যাবে এবং বড় হয়েও সেটা ভুলতে পারবেন না। আমি অনেক দেখেছি এবং এই কারনেই আমাদের মায়ের হাতের খাবার আমাদের কাছে এত প্রিয়! অথচ এই মায়ের হাতের অনেক খাবারই মায়ের স্বামী বা বাবা খেতে পারেন না! হা হা হা।

যাই হোক, কয়েকদিন আগে এই লইট্যা মাছ নিয়ে ফেবুতে অনেক কথা হয়েছিল। এক বোনের স্বামী বাজার থেকে লইট্যা মাছ কিনে এনেছেন এবং সেই বোনটি এই মাছ রান্না করতে পারছিলেন না! তিনি আমার হেল্প চাইলেন এবং আমি আমার আগের রান্না করা একটা পোষ্ট দেখাতেই তিনি বুঝতে পারছিলেন এবং রান্না করেছিলেন। লইট্যা মাছ আসলে একটা নরম মাছ, এটা রান্না করতে হয় সাবধানে, মাছ দেয়ার পর আর বেশী নাড়ানো যায় না, নাড়ালে ভেঙ্গে ঘেঁটে যায়! তবে অনেকে আবার ঘেঁটে রান্না করাটাও বেশ পছন্দ করেন।

আমরা ছোট বেলায় আমাদের পরিবারে অনেক লইট্যা মাছ রান্না হতে দেখেছি এবং খেয়েছি। আমার আম্মা অনেকভাবে এই লইট্যা মাছ রান্না করতেন। যতদুর মনে পড়ে আমার বাবা এই লইট্যা মাছ খুব পছন্দ করতেন এবং সেই থেকে আমরাও খেতে পছন্দ করি। আমি আমার জীবনে অনেক বার এই লইট্যা মাছ কিনেছি। বাজারে পেলে না কিনলেও দাম প্রায়ই জিজ্ঞেস করি! বাজারের বেশ কয়েকজন মাছ বিক্রেতা লইট্যা মাছ নিয়ে বসলে এবং আমাকে দেখলেই ডাক দিবেই!

চলুন রান্না দেখি। খুব সাধারণ রান্না, আপনারা যারা এই মাছ রান্না করবেন ভাবছেন, তাদের জন্যই একান্তে এই রান্না দেখানো হয়েছে, মশলাপাতি আশা করি আপনার রান্নাঘরেই পাবেন।

উপকরনঃ
– লইট্যা মাছ, ৩৫০/৪০০ গ্রাম হতে পারে  (তিন জনের জন্য এক বেলা মন্দ কি!)
– মাঝারি তিনটে পেঁয়াজ কুঁচি (পেঁয়াজ একটু বেশী হলে স্বাদ বাড়বে)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ (ঝাল বুঝে)
– এক চা চামচ দেশী রসুন বাটা,
– হাফ চামচ লাল মরিচ গুড়া (ঝাল বুঝে)
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া,
– হাফ চা চামচ জিরা গুড়া (জিরা কড়াইতে ভেঁজে বেটে গুড়া করে নেয়া হয়েছে এবং রান্নার শেষে এটা দেয়া হয়েছে)
– তেল (পরিমান মত, কম তেলেই রান্না উত্তম, এই রান্নায় আমাদের আর একটু কম তেল দিলেও চলত, পড়ে গেছে)
– পানি (পরিমান মত)
– লবন (পরিমান মত, প্রথমে কম, পরে যাছাই করে দিতে হবে)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি, কয়েকটা কাঁচা মরিচ এবং রসুন বাটা দিয়ে ভাল করে ভেঁজে নিতে হবে।


পেঁয়াজ কুঁচি সোনালী রঙ হয়ে যাবে।


এবার মরিচ গুড়া এবং হলুদ গুড়া দিয়ে দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন এবং ভাঁজুন। (আমাদের আগের রান্না গুলোতে আগে পানি দেয়া হত এবং পরে হলুদ, মরিচ গুড়া দেয়া হত, এতে করে মরিচের ঝাঁজ বাতাসে যেত না, যাই হোক, ব্যাপার না।)


এবার হাফ কাপ পানি দিন এবং মাধ্যম আঁচে নাড়িয়ে তেল উঠিয়ে নিন। এই সময় কিছুতেই রান্নাঘর ছেড়ে যাবেন না।


এবার কেটে ধুয়ে রাখা মাছ গুলো দিয়ে দিন। (মনে রাখবেন, তেল উঠে ঘ্রান বের হলে রান্না স্বাদের হয়, যদিও একটু সময় নেয়, তাতে কি!)


মাছ দেয়ার পর একবারেই ভাল করে নাড়িয়ে দেবেন।


এমন দেখাবে।


পানি দেয়ার দরকার নেই, এবার আগুন মাধ্যম আঁচে ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০ রাখুন। মাঝে শুধু কড়াইয়ের হাতল ধরে নাড়িয়ে দেবেন। এই মাছ থেকে ভাল পানি বের হয়। (***)


ঠিক এমন অবস্থায় এসে গেলে জিরা গুড়া (আগেই ভেঁজে বেটে গুড়া করে নিতে ভুলবেন না বা বাজারে প্যাকেটে পাওয়া যায়) ছিটিয়ে দিন।


আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে, এবার ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলে আগে বাড়ুন।


চুলা নিবিয়ে কয়েক মিনিট ঢাকনা দিয়ে মাছ সেট হতে দিন! হা হা হা… রান্নার পর চুলা বন্ধ করে কিছু সময় ঢেকে রাখলে যে কোন তরকারী দেখতে ভাল দেখায় এবং তেল উঠে আসে।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম ভাতের সাথে চ্রম মজাদার!


এদিকে বলে নেই যারা মাছের পিস গুলো ভেঙ্গে এবং ঝোল কমিয়ে রান্না করবেন তারা (***) এই ছবির সময়ে খুন্তি দিয়ে মাছ গুলো একটু বেশী করে নাড়িয়ে দেবেন, এতে মাছ গুলো ভেঙ্গে মিশে যাবে। এবং আগুনের আঁচ বাড়িয়ে ঢাকনা সরিয়ে দিলেই ঝোল কমে যাবে। আর বাকী সব একই থাকবে।

আপনাদের ভালবাসায় আমরা এগিয়ে চলছি। বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে আমাদের এই রেসিপি সাইট সারা দুনিয়াতে আরো বেশি সমাদর পাক, এটা আমরা মনে প্রানে কামনা করি। কাজেই আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

(লইট্যা মাছের শুটকিও বেশ মজাদার, আমাদের পূর্বের রেসিপি গুলো দেখে নিতে পারেন)

Advertisements

5 responses to “রেসিপিঃ লইট্যা মাছ (মাছ রান্না জানতেই হবে!)

  1. দেখতে এতো ভালো লাগছে, ইনশাআল্লাহ ট্রাই করবো …

    Like

  2. মাছ আগে একটু ভেজে নিলে কী অসুবিধা

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s