Gallery

রেসিপিঃ কাইক্যা মাছ রান্না (নূতনদের জন্য, সহজ ও সাধারণ)


বাজারে নুতন মাছ দেখলে আমি না কিনে থাকতে পারি না! গতকাল বড় ছেলেকে নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম, সামুদ্রিক মাঝারি কাইক্যা মাছ দেখে কিনে ফেললাম, দাম বেশি নয়। মাছ দোকানী আমাকে চিনে বলে জানালেন, মাছ গুলো ভাল এবং খেতে স্বাদ। পূর্বেও আমি আরো বড় সামুদ্রিক কাইক্যা মাছ খেয়েছি এবং আপনাদের সেই রান্নাও দেখিয়েছি। এমনিতে সামুদ্রিক মাছের স্বাদ আমার ভাল লাগে তার উপরে কাঁটা কম বলে আরো ভাল লাগে, তেমন একটা ভাবনা চিন্তা করে মুখে পুরতে হয় না!


মাছ কেনার সময়েই মডেল হতে রাজী আছে কি না, তা জিজ্ঞেস করে নিয়েছিলাম! ছেলে বড় হলে, এই ছবি গুলো একদিন ওকে হাসাবে, বাবার পাগলামিটা ওর কাছে নিশ্চয় ভাল লাগবে।

যাই হোক, হাতের কাছে থাকা মশলায় খুব সাধারন রান্না। নূতনদের জন্য এটা চরম একটা রান্না শেখা হতে পারে! প্রায় সব মাছই এভাবে রান্না করতে পারেন। তবে এই রান্নার বিশেষ দিক হচ্ছে, গুড়া লাল মরিচ দেয়া হয় নাই, শুধু কাঁচা মরিচের ঝালেই রান্না করা হয়েছে। আর বলে নেই, রান্নার আগে সামান্য ভেঁজে নেয়া হয়েছিল। চলুন দেখে ফেলি!

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
– একটা কাইক্যা মাছ, ২০০ গ্রাম/২৫০ গ্রাম হতে পারে, তিন জনের জন্য এক বেলা, আরো তরকারীর সাথে চলে যাবে
– মাঝারি তিনটে পেঁয়াজ কুঁচি (পেঁয়াজ একটু বেশী হলে স্বাদ বাড়বে)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ (ঝাল বুঝে কারন এই রান্নায় লাল মরিচ গুড়া দেয়া হয় নাই)
– এক চা চামচ দেশী রসুন বাটা,
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া, আর দুই চিমটি মাছ ভাঁজার সময়ে দেয়া হয়েছিল
– হাফ চা চামচ জিরা গুড়া
– তেল (পরিমান মত, কম তেলেই রান্না উত্তম)
– পানি (পরিমান মত)
– লবন, পরিমান মত

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)
মাছ সামান্য ভেঁজে নেয়াঃ

মাছ কেটে পরিস্কার করে নিতে হবে। তার পর এক চিমটি লবন এবং দুই চিমটি হলুদ গুড়া দিয়ে মাখিয়ে নিতে হবে।


তেল গরম করে মাছ গুলো সামান্য ভেঁজে নিতে হবে।


লক্ষ রাখতে হবে বা মাছ গুলো উল্টাতে হবে খুব ধীরে, যাতে মাছ ভেঙ্গে না যায়। যে কোন মাছ ভাঁজাতে সাবধানে করতে হবে, মাছ ফুটতে পারে বা তেলের চিটা গায়ে পড়তে পারে।


এবার কড়াই থেকে মাছ গুলো একটা প্লেটে তুলে রাখতে হবে।

মুল রান্নাঃ

যে কড়াইতে মাছ ভাঁজা হয়েছিল সেই তেলেই পেঁয়াজ কুঁচি, কাঁচা মরিচ এবং এক চিমটি লবন দিয়ে রান্না শুরু করুন।


রসুন দিয়ে দিন এবং ভাঁজুন।


পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে, হাফ কাপ পানি দিয়ে দিন।


হাফ চা চামচের কম হলুদ দিয়ে দিন এবং নাড়িয়ে নিন। আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে।


এই সময়ে জিরা গুড়া দিয়ে দিন এবং নাড়িয়ে তেল উপরে উঠিয়ে নিন। কষানো ঝোল হয়ে যাবে।


কষানো ঝোলে ভেঁজে রাখা মাছ দিয়ে দিন। হালকা নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন। মিনিট চার/পাচ।


এবার পানি দিন (হাতের কাছে গরম পানি থাকলে ভাল, না হলে সাধারণ পানি চলবে)।


ঝোল একটু রাখতে চাইলে আরো সামান্য পানি দিতে পারেন। আগুনের আঁচ খুব কমিয়ে মিনিট ১৫ চুলায় রাখুন। মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দেবেন মাত্র।


শেষের দিকে ঢাকনা তুলে নিয়ে আগুন বাড়িয়ে দিতে পারেন, ঝোল বেশি থাকলে তা কমে যাবে।


এবার ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলে আগে বাড়ুন। ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিটিয়ে দিন।


ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


অসাধারণ স্বাদ, মাছ রান্নার মজাই আলাদা। আপনারা যারা নুতন রান্না শিখতে চান, শুধু একদিন এভাবে মাছ রান্না করে দেখুন। আশা করি, যেমন আনন্দ পাবেন, তেমনি রান্নায় উৎসাহ অনেক অনেক বেড়ে যাবে। ওহ, হ্যাঁ, বলে নেই, মাছ কাঁটা বা পরিস্কার করা এখন কোন ব্যাপার নয়, মাছ বাজার থেকেই মাছ কেটে নিয়ে আসতে পারেন, এখন মাছ কাটার জন্য মাছ বিক্রেতারা এক্সটা টাকাও নেয় না।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আমাদের রান্না চলবে!

ফেবু লিঙ্কঃ এখানে ক্লিক করুন।

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ কাইক্যা মাছ রান্না (নূতনদের জন্য, সহজ ও সাধারণ)

  1. Apner mach section e onek macher ranna ache. Nice idea.

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s