গ্যালারি

রেসিপিঃ রোল বা সমুচা ফিলিং (পুর)


গত কয়েকদিন আগে আমি আমার গুগল মেইল খুলে একটা মেসেজ দেখে আনন্দে চোখে জল এসেছিল, এই জল আনন্দের! রেসিপি সাইট ‘গল্প ও রান্না’ নিয়ে এমন অনেক কমেন্ট/মেইল পেলেও কিছু কিছু মেসেজ/কমেন্ট সত্যি বেশ আনন্দ দেয়। মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বোন এই মেইলটা পাঠিয়েছেন, তিনি লিখেছেন,  “আসসালামু আলাইকুম। আমি নাজমুন, মেডিকেল সেকেন্ড ইয়ারে আছি। পড়ালেখার চাপে রান্না খুব একটা করা হয়না তবে হঠাৎ করেই একদিন রান্নার ভূত মাথায় চাপলো। আম্মুকে বিরক্ত করতে ইচ্ছে হলো না তাই গুগলে রেসিপির জন্য সার্চ দিলাম। রেসিপি দেয় এমন ওয়েব সাইট গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে গল্প ও রান্না সাইটটি। এতে ছবি সহ পুরো প্রসিডিউরটা দেয়া থাকায় আমার মতো আনাড়ির রান্না খেয়েও কেউ বুঝতে পারেনি যে প্রথম বার রেধেঁছি । এখন রেগুলার গল্প ও রান্নাকেই ফলো এবং সময় পেলেই একটা না একটা আইটেম করে ফেলি। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে এতো সুন্দর করে রেসিপি গুলো উপস্থাপন করায়।” আপনারাই বলুন, কেন আমার চোখে জল আসবে না।

আমি এই উদ্দেশ্য নিয়ে এই সাইট শুরু করেছিলাম, তা হচ্ছে, ব্যচেলর প্রবাসী এবং রান্নায় আগ্রহী যারা, তারা যেন রেসিপি দেখেই রান্না করে ফেলতে পারেন। সাধারণত টিভিতে যে ভাবে রেসিপি দেয় কিংবা  পত্রপত্রিকা গুলোতে যেভাবে শুধু একটা ছবি দিয়ে রেসিপি দেয় তা দিয়ে বা দেখে সাধারণত নুতন রান্নাকারী বা যারা রান্না শিখতে চান তাদের জন্য খুব একটা কাজের কাজ কিছু হয় না। যারা রান্নায় পারদর্শী তারাই শুধু একটা ছবি দেখে বা মোশান দেখে রান্না করতে পারেন, তার পরেও এটা যে খুব একটা ভাল হয় তা নয়, খাতা কলম নিয়ে নোটে টুকে রাখতে হয় বা এদিক সেদিক হয়ে যায়। যাই হোক, এই কনসেপ্টের বাইরে এসেই আমার রেসিপি লেখা শুরু হয়েছিল।

এখন প্রযুক্তির যুগ, মোবাইল হচ্ছে অন্যতম! আর ট্যাব বের হয়ে তো কম্পিউটারের বারটা বাজিয়ে দিয়েছে। WiFi/SIM দিয়ে নেট ব্রাউজ করা এখন শুধু ফ্যাশন নয়, অত্যাবশ্যক বটেই। দুনিয়ার নানা দেশ সহ অনেকের রান্নাঘরেও এখন দেয়ালে ট্যাব ফিট করা থাকে, কাজেই মানুষের এই হাতের কাছে থাকা মোবাইল ও ট্যাবের মাঝে আছে আমাদের ‘গল্প ও রান্না’ও।

যে বিষয়টা আমাকে আরো সাহসী করে তুলেছে তা হচ্ছে, আমি যখন নেটে/অনলাইনে আমাদের সাধারণ ঘরের খাবার গুলো তুলে দিচ্ছিলাম তখন এক শ্রেণীর ছেলে মেয়েরা (এরা আঁতেল) আমাকে নানাভাবে বিব্রত করেছে। তাদের ধারনা ছিল এমন ঘরের খাবারের ছবি নেটে/অনলাইনে দেয়ার কোন মানে হয় না! আমি অনেক প্রগতিশীলের চেহারা দেখেছি, তবে এরা না থাকলে আমি হয়ত আলাদা করে ব্লগ খুলতে যেতাম না! হয়ত বাংলা ব্লগ গুলোতে এখনো লিখতাম আর ঝাগড়াঝাটি নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম! আলাদা ফ্রি ব্লগে লিখে ভাল কাজই হয়েছে! (কয়েকজন সিনিয়র আপা আমাকে এই ব্যাপারে সব সময়েই উৎসাহ দিয়েছেন, পোষ্টে তাদের কমেন্ট থাকত বলে অন্যরা খারাপ কিছু লিখতে সাহস পেত না!)

যাই হোক আমি ও আমরা এগিয়েই চলছি! কোন বাঁধাকে বাঁধা মনে করি নাই! হা হা হা…। আমাদের প্রচেষ্টা যাদের নিয়ে তারা উপকার পেলেই আমাদের চেষ্টা সার্থক হবে। চলুন আজ আরো একটা সহজ রান্না দেখে ফেলি, এটা অবশ্য পূর্নাংগ রান্না নয়! আমরা যে রোল বা সমুচা খাই তার ভিতরে যে পুর বা ফিলিং থাকে সেটাই আজ আপনাদের দেখিয়ে দেব। ঘরে বলে একটু অতিরিক্ত আইটেম দেয়া হয়েছে, আপনি চাইলে আইটেম কমিয়েও এই পুর বানিয়ে রাখতে পারেন।

চলুন দেখে ফেলি! তবে আগেই বলি, অনেকটা নুড্যুলস রান্নার মতই ব্যাপারটা! হা হা হা…

উপকরণঃ (পরিমাণটা আপনি নিজেই নির্ধারন করতে পারেন)
– প্রসেসড গরুর গোশত (আপনি চাইলে মুরগীর গোসতও ব্যবহার করতে পারেন)।
– নানা প্রকারের সবজি (আমরা ক্যাপ্সিকাম, গাঁজর, বাঁধাকপি নিয়েছিলাম, তবে সবজি গুলো আগে সামান্য লবনে সিদ্ধ করে নিতে হবে)
– নুড্যুলস (সামান্য সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে)
– পেঁয়াজ কুঁচি
– ধনিয়া পাতা কুঁচি
– কাঁচা মরিচ কুঁচি
– সামান্য আদা কুচি/চেছা
– গোল মরিচ গুড়া
– টেমেটো সস
– চালের গুড়া (এক চা চামচ)
– লবন
– পানি
– তেল

যোগার যাট্টিঃ

রান্নায় আগে থেকে সব কিছু যোগাড় করে নিলে রান্না দ্রুত হয় এবং কষ্টও কম লাগে! পেঁয়াজ কুঁচি, ধনিয়া পাতা কুঁচি, কাঁচা মরিচ কুঁচি, সামান্য আদা কুচি/চেছা ও প্রসেস গরুর গোশত (আপনি চাইলে মুরগীর গোসতও ব্যবহার করতে পারেন)।

গরুর গোশত হাড্ডি ছাড়া নিয়ে পিস করে কেটে ভাল করে ধুয়ে সামান্য পানিতে একটু লবন, সামান্য ভিনেগার ও আদা বাটা দিয়ে ভাল করে সিদ্ধ করে নিতে হবে। গোশত নরম হয়ে গেলে উপরে রাখার মত করে কেটে বা ছিড়ে এমন করে নিতে হবে।


নানা প্রকারের সবজি পুরের বিশেষ দিক! শক্ত শব্জি হলে আগেই সিদ্ধ করে নিতে হবে। আমরা গাঁজর, ক্যাপ্সিক্যাম ও বাঁধাকপি ব্যবহার করেছিলাম। সব গুলো সামান্য সময়ের জন্য সিদ্ধ করে নিয়েছি। আর সাথে ছিল নুড্যুলস (এটা দিলেও চলে না দিলেও চলবে), এটাও সামান্য সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রাখা হয়েছিল।

প্রনালীঃ মুল রান্নাঃ

ফ্রাই প্যানে সামান্য তেলে আদা কুঁচি ভাঁজুন।


আদার রঙ তামাটে হয়ে গেলে এবার পেঁয়াজ কুঁচি, মরিচ কুঁচি ও সামান্য লবন দিয়ে আবারও ভাঁজুন।


এবার প্রসেসড গোশত দিয়ে দিন।


এবার সবজি গুলো দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন। আগুন মাধ্যম আঁচে চলবে এবং নাড়িয়ে ভাল করে জ্বাল দিন।


এবার নুড্যুলস গুলো দিয়ে দিন এবং মিশিয়ে নিন।


গোল মরিচের গুড়া দিন এবং মিশিয়ে নিন।


কয়েক চামচ টমেটো সস দিন এবং মিশিয়ে নিন।


এবার এক চা চামচ চালের গুড়া ১/৪ কাপ পানিতে গুলিয়ে সেটা ঢেলে দিন। এটা দেয়া হয় যাতে একটা আঢালো ভাব আসে।


এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে ফাইন্যাল লবন দেখুন, লবন লাগলে দিন।


আগুন বন্ধ করে চুলা থেকে সরিয়ে নিন। ব্যস হয়ে গেল, রোল বা সমুচা পুর। এবার শুধু রুটি বেলে তাতে ভরে তেলে ভেঁজে নিলেই আপনি পেয়ে যাবেন সুস্বাদু রোল অথবা সমুচা। যা আপনার বাসায় নিশ্চয় সবাই পছন্দ করবে।

ব্যবহার উদাহরনঃ

দেখুন বিফ ভেজিটেবল রোল কি করে বানাতে হয়!

রেসিপিঃ ডো/খামির/ময়ান (নানা প্রকারের পুরি, রোল, সমুচা ও সিঙ্গারা বানাতে পারেন খুব সহজেই)

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

5 responses to “রেসিপিঃ রোল বা সমুচা ফিলিং (পুর)

  1. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ বিফ ভেজিটেবল রোল (সোনামনি ফেবারেট) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  2. দারুণ হইছে!!! 😀
    আমিও স্প্রিং রোল এর জন্য এইরকম স্টাফিং ব্যবহার করি, তবে নুডুলস দেই না, আসলে স্টাফিং এর জন্য রাইস নুডুলস ব্যবহার করতে হয়, ইভেন ভাত ও ব্যবহার করা যায়, আপনার রেসিপি দেখে ম্যাগি নুডুলস ব্যবহার করব শীঘ্রই!!

    শুভেচ্ছা ও ভালোলাগা

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      খাবারের ব্যাপারটা আসলে আপেক্ষিক। এক একজন এক একটা খাবার খেয়ে থাকে। আমি নিজেও আগে কম্বিনেশন নিয়ে সমস্যা পড়তাম। এখন দেখি কার সাথে কি মিশানো হল সেটা ব্যাপার নয়, ব্যাপার হল স্বাদ হচ্ছে কি না!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. Bhaiya, Khudha lagaiya dilen. Jibe jol elo.

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s