Gallery

রেসিপিঃ মাছ শুঁটকী ফিউশন


আমার জানা মতে, মাছ এবং শুঁটকী রান্না আমাদের দেশে চট্রগ্রাম বিভাগে বেশি রান্না হয়। ছোটবেলায় আমি আমার আম্মাকে মাছ শুঁটকী একাত্রে রান্না করতে দেখেছি অনেকবার, তবে বেশী নয়, বছরে কয়েকবার আমাদের বাসায় এই রান্না হত। বড় শুঁটকী মাছের সাথে বড় মাছের এই রান্নার কথা এখনো আমার চোখের সামনে ভাসে। আমি এমনিতেই শুঁটকী মাছ খুব পছন্দ করি তবে শুঁটকী তেমন একটা রান্না হয় না। দাম বেশী ও শুঁটকী মাছের ভেজালের কথা চিন্তা করে আমি শুঁটকী মাছ ঢাকা থেকে তেমন কিনি না। কয়েকদিন আগে বড় ভাই চট্রগ্রাম থেকে বেশ কয়েক পদের শুঁটকী মাছ পাঠিয়েছেন এবং মাছ শুটকীর এই রান্নাটা করবো বলে স্থির করি।

মেজাজ ভাল থাকলে বুলেট শুঁটকী মাছ নিয়াও পোজ দেয়! রূপচাঁদা মাছের এই শুঁটকীটা বেশ সুন্দর ছিল। 

এদিকে বাজারে আজকাল ঘটা করে তাজা মাছ পাওয়া যায়, বিশেষ করে রুইমাছ এইভাবে বিক্রি আমার কাছে বেশ আনন্দদায়ক মনে হয়। তাজা মাছ দেখেই মন জুড়ায়। যদিও দামে একটু বেশী কিন্তু তাজা মাছের উপরে আর কোন কথা চলে না।

তাজা মাছ কিনতে পারলে মন ভাল হয়ে যায়! কিন্তু সব সময় সাধ্য থাকে না!

চলুন রান্না দেখে ফেলি। সাধারন রান্নাই, তবে শুঁটকী মাছ আগে ভাল করে কষিয়ে তবেই মাছ দিতে হয়। তাজা এবং শুঁটকী মাছের এই কম্বিনেশনের রান্নার স্বাদ বেশ মুখরোচক, কাজে কাজেই এটা একটা ফিউশন বা মিশ্রন।

উপকরণঃ
– রূপচাঁদা শুঁটকী (ছোট পিস করে কাটা, সামান্য কুসুম গরম পানিতে ভাল করে ধুয়ে নিন)
– রুই মাছের কয়েক টুকরা (ছোট করে কাটা, চাইলে আপনি অন্য কোন মাছও দিতে পারেন)
– পেঁয়াজ কুঁচি
– রসুন দেশী (রসুনটা একটু বেশী দিতে হয়)
– আদা দেশি (সামান্য)
– মরিচ গুড়া
– হলুদ গুড়া
– তেল (১/৪ কাপ বা বুঝে), আমি তেল কমে রান্না করেছিলাম
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– লবন (লবন প্রথম চোটে কম দিবেন, পরে লাগলে দিবেন)
– পানি (পরিমান মত)

– ধনিয়া পাতার কুচি (পরিমান মত)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫, শুঁটকী কেটে ভাল করে হালকা গরম পানিতে আগেই ধুয়ে রাখতে হবে এবং এই ভাবে দিয়ে দিতে হবে।


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮, আগুনের আঁচ কম থাকবে। শুঁটকী ভাল করে নরম হয়ে পড়বে, যদি এই পানিতে তা না হয় তবে আরো একটু পানি দিতে হবে।


ছবি ৯, শুঁটকী নরম হয়ে গেলে মাছ দিয়ে দিতে হবে।


ছবি ১০, আবারো ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে রাখতে হবে। চুলার ধার ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত হবে না।


ছবি ১১


ছবি ১২, ঝোল ইচ্ছা হলে আরো কমিয়ে নিতে পারেন। এই ধাপে ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন।


ছবি ১৩, এবার ধনিয়া পাতার কুচি দিন।


ছবি ১৪, পরিবেশোনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৫, অপূর্ব, অসাধারন। গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

স্বাদ বলে বুঝানো যাবে না! হা হা হা, এটাও অভিজ্ঞতার মত, না খেলে বুঝবেন কি করে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

Advertisements

3 responses to “রেসিপিঃ মাছ শুঁটকী ফিউশন

  1. Undoubtedly fusion recipe, I must have to try this, subject to availability of time. By the way, just one point, does coriander leaf commensurate with dry fish! It supplants the flavor of dry fish, I think in that way.

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আপনার কমেন্ট পড়ে ভাল লাগলো। ফিউশন বলেছি মজা করেই। হা হা হা… শুটকির সাথে ধনিয়া পাতা আমি অনেকের রান্নাতেই দেখেছি। যাই হোক, কিছুটা শুঁটকীর ঘ্রান তো কেড়ে নিবেই। যাই হোক, আপনি রান্না করবেন এটা জেনেই ভাল লাগছে।

      শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা করছি। আশা করি মাঝে মাঝে দেখে যাবেন।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s