Gallery

রেসিপিঃ কলার আনাজ ও থানকুনি পাতা (নিরামিষ)


কিছু কিছু খাবার আছে যা জীবনে একবার খেলে আর মন থেকে মুছে ফেলা যায় না। তেমনি একটা খাবার হচ্ছে কলার আনাজ (থোড়) এবং থানকুনি পাতার রান্না। এবার গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখি বড় ভাই কোথা থেকে কলার আনাজ ও মোচা নিয়ে এসেছেন। আনাজ দেখে আমি আমার এক চাচীমাকে বললাম, কোথায় থানকুনি পাতা পাওয়া যাবে, তিনি প্রায় সাথে সাথেই একজনকে পাঠিয়ে কিছু থানকুনি পাতা যোগাড় করে দিলেন। এদিকে বড়ভাবীকে বললাম, এই কম্বিনেশনের রান্না তিনি খেয়েছেন কি না? তিনি জানালেন, তিনি খেয়েছেন এবং তিনি রান্না করবেন। যেই কথা সেই কাজ। তিনি রান্না করলেন।

(ছবিটা পুরানো। ঢাকায় এক বড় গ্রোসারী থেকে ৮ টাকা দরে আমি অনেক দিন আগে এক টুকরা কিনে ছিলাম, কিন্তু রান্না করতে পারি নাই! ছবিটা সেই দিনের তোলা।)

চলুন রান্না দেখি, গল্প চলুক।

উপকরণঃ
– আনাজ, ৪০০ গ্রাম (অনুমান) সিদ্ধ করার পর এই ওজন আমার মনে হয়েছিল
– মুসরী ডাল, ঘন্টা খানেক ভিজিয়ে রাখা ভাল
– থাকুনি পাতা (আদামনি পাতা)
– পেঁয়াজ কুঁচি
– রসুন দেশী
– মরিচ গুড়া
– হলুদ গুড়া
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ (না থাকলে নাই)
– লবন (লবন প্রথম চোটে কম দিবেন, পরে লাগলে দিবেন)
– তেল, তেল কমে রান্না করাই ভাল

প্রনালীঃ

আনাজ কেটে খাবার তৈরী করার জন্য একটু অভিজ্ঞতার দরকার। কেটে ভিতরের আঁশ বের করে আনতে একটা আঙ্গুলের ব্যবহার করতে হয়। এটা আগে কোন অভিজ্ঞ কারো কাছে দেখে নেয়া দরকার। যাই হোক, কেটে সামান্য হলুদ এবং লবন দিয়ে ভাল করে সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে।


মুল রান্না খুব সহজ এবং সাধারণ। কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি ভেঁজে এবং পরে রসুন বাটা দিয়ে ভাল করে ভেঁজে নিতে হবে।


কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিলে ভাল। তার পর সামান্য পানি দিতে হবে। এবার ভিজিয়ে তুলে রাখা ডাল দিয়ে দিতে হবে।


ভাঁজুন।


হলুদ ও মরিচ গুড়া দিয়ে দিন (ছবিটা ভাল তুলতে পারি নাই, কাজ এগিয়ে চলছিলো)


সামান্য পানি দিন। ডাল নরম হতে শুরু করবে।


ডাল নরম না হলে আরো সামান্য পানি দিতে পারেন।


এবার সিদ্ধ করে রাখা আনাজ দিয়ে দিন।


ভাল করে নাড়িয়ে ভাঁজুন। চুলা ছেড়ে যাবেন না।


এবার থানকুনি পাতা দিয়ে দিন।


ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন। ভাল করে নাড়িয়ে ভেঁজে চুলা বন্ধ করে দিন।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


স্বাদ অসাধারণ। বিশেষ করে থানকুনি পাতা আমি অনেক দিন পরে খেয়েছি, বলতে গেলে থানকুনি পাতার স্বাদ ভুলে গিয়েছিলাম। এবার অনেকদিন পর সেই স্বাদ আবার ফিরে পেলাম।

কৃতজ্ঞতাঃ বেবী ভাবী (বড় ভাবী, আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী), তিনি জানালেন, তিনি রান্নায় খুব কম মশলা ব্যবহার করেন। আমি উনার রান্নায় তার প্রমান পেয়েছি। এই রান্নায় তিনি হলুদ এবং মরিচ গুড়া এমন কম দিয়েছিলেন যে, আমি সময় মত ছবি তুলতে পারি নাই। তবে স্বাদ ভালই হয়েছিল। রান্না নিয়ে তিনি অনেক কথা বলেছেন, উনার কথা গুলো মনে থাকবে।

3 responses to “রেসিপিঃ কলার আনাজ ও থানকুনি পাতা (নিরামিষ)

  1. Bhaiya thankuni patar eakta vorta acche ta janle janiye din. Pora morich

    Like

  2. এটা কলার থোড়. খুব মজার ভুনা হয়. থানকুনি বা ডাল দিয়ে কখনো খাইনি. যদি কখনো থোড় পাই, এভাবে করে দেখব.

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s