গ্যালারি

রেসিপিঃ সাজনে পাতা ডাল


গ্রামের বাড়িতে গেলে যে কয়েক পদের রান্না আমার প্রায়ই ইচ্ছা হয় তার মধ্যে কচুরশাক এবং সাজনেপাতার রান্না প্রথম দিকে আছে! এবার সুযোগ পেয়ে সাজনে পাতা দিয়ে ডাল রান্না করে খেলাম। আর বড় ভাবী রান্না করেছিলেন কচুর শাক। কচুর শাকের রান্নাটা যখন হয়েছিল তখন কি কারনে আমি বাড়ীতে ছিলাম না তাই তুলতে পারি নাই, খেতে বসে আফসোস হচ্ছিলো! আর এই রান্নাটা আমি নিজেই করেছিলাম, যারা খেয়েছেন সবাই ভাল বলেছেন। যাই হোক, সাজনে গাছ আমাদের বাড়ির একটা ঐতিহ্য বটে।

ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি, আমাদের বাড়িতে সাজনে গাছ আছে এবং আমার দাদুকে আমি প্রথম দেখেছিলাম, এই রকম একটা রান্না করতে, স্বাদ এখনো আঁচ করতে পারি! দাদু এই সাজনে পাতা দিয়ে আর একটা ভর্তা করতেন শুকনা মরিচ টেলে, সেটার কথাও মনে আছে, কখনো টাকি মাছ পুড়িয়েও সেই ভর্তায় দিতেন বলে এখনো মনে করি/হয়।

এখন আমাদের বাড়িতে বড় যে সাজনে গাছটা আছে সেটা আমাদের এক চাচার জায়গায়। চাচীমা থেকে অনুমতি নিতে গিয়ে দেখি তিনিও আমার পিছনে ছাদে উঠে আসছেন, পরে তিনি আমাকে সাজনে পাতা তুলে নিতে সাহায্য করলেন। চাচীমা জানেন যে, আমি রেসিপি লিখি! হা হা হা।

দেখেই প্রান ভরে যায়! এই দুনিয়াতে মানুষের খাবারের জন্য কত কিছু আছে!

উপকরনঃ
–  ৪০০/৫০০ গ্রাম (অনুমানিক) রান্নার পর অনেক কমে যায়
–  এক/দুই মুষ্টি মুশরী ডাল
–  হাফ কাপ চিংড়ি মাছ (খোসা ছড়ানো)
– পেঁয়াজ কুঁচি মাঝারি ৩ টা/৪টা হবে
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া
– পরিমান মত লাল মরিচ গুড়া (ঝাল বুঝে)
– দেড় চা চামচ রসুন বাটা
– পরিমান মত লবন
– পরিমান মত তেল (কয়েক চামচ)
– পানি (পরিমান মত)

* খুব সাধারণ রান্নাই এটা। এই রকম অনেক রান্না আপনাদের পূর্বেও দেখিয়েছি।

প্রনালীঃ

পাতা গুলো এভাবে ডাটা থেকে আলাদা করে নিতে হয়।


কয়েক মিনিটের জন্য সিদ্ধ করে নিতে হয়। (বেশি নয়) এই সিদ্ধটা না করলেও চলে, শুধু একটু বেশি ঘ্রান পাওয়া যাবে মাত্র।


ঠিক এই অবস্থায় নামিয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।

মুল রান্নাঃ

ছবি ১, তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেয়াক কুঁচি, রসুন বাটা এবং কয়েকটা কাঁচা মরিচ ভেঁজে রান্না শুরু করুন।


ছবি ২


ছবি ৩, চিংড়ি দিয়ে দিন।


ছবি ৪, চিংড়িতে একটা হলদে ভাব এসে যাবে।


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮, এবার ধুয়ে ও পানিতে ভিজিয়ে রাখা মুশরী ডাল দিয়ে দিন।


ছবি ৯, ডাল না গলে বা নরম হলে আবার হাফ কা পানি দিতে পারেন।


ছবি ১০, ঠিক এমনি অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ১১, এবার সামান্য সিদ্ধ করে রাখা সাজনে পাতা দিয়ে দিন।


ছবি ১২, ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন।


ছবি ১৩, কেমন ঝোল রাখবেন এটা আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমি বরাবরের মতই ঝোল একটু বেশী রাখলাম। এই অবস্থায় ফাইন্যাল লবন চেক করে দেখুন, লাগলে দিন না লাগলে ওকে বলে এগিয়ে চলুন।

* এই পর্যায়ে সামান্য রসুন বাগাড় দিলে আরো স্বাদ হত। আমার খাদ্যরসিকদের কারনে (সময়ের অভাবে) সেটা আর করতে পারি নাই।


ছবি ১৪, যাই হোক আমার খাদ্যরসিকরা বেশ মজা পেয়েছে এবং আমার পরিবারের যারা এত দিন শুধু আমার রান্না দেখে আসছিলো তারা স্বীকার করলো, আমি ভাল রান্না করি! হা হা হা…। আরো বলি এই রান্না খেয়েছেন আমার এক চাচা (তিনি আমার সমবয়সী, এবং রান্নাঘরে আমার সাথেও ছিলেন), তিনি বেশ সুনাম করলেন আমার! হা হা হা…।।

এমন খাবার আপনারা কে কে খেয়েছেন জানি না! তবে আমি বাংলাদেশী হিসাবে এই খাবার নিয়ে গর্ব করি। এত সাধারণ রান্না কিন্তু এত মজাদার রান্না দুনিয়ার আর কোথায়ও রান্না হয় কি না কে জানে?

সবাইকে শুভেচ্ছা।

Advertisements

5 responses to “রেসিপিঃ সাজনে পাতা ডাল

  1. খালেদা এদিব খান

    ধন্যবাদ ভাইয়া, এই রান্না আমি খেয়েছি অনেক বার। আমার সাজনে শাকের ঘ্রান ভাল লাগে। মনে করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আশা করি আবার কোনদিন ভাগ্যে জুটে যাবে। সাজনে খুঁজতে এসে আপনার ব্লগ পেয়ে গেলাম, ভাল লিখেছেন। ভক্ত হয়ে গেলাম।

    Liked by 1 person

  2. দারুন হইছে!! 😀
    সাজনেপাতা বা এই ধরনের কোনো কাষ্ঠল গাছের পাতা যে এত সুন্দর করে রান্না করে খাওয়া যায় সেটা আমি জানতাম না,তবে আমার যতদূর মনে পড়ে আমার গ্রামের বাড়িতে একবার আমড়ার পাতা (আমার গ্রামের বাড়ি বরিশাল,আর জানেনই তো বরিশালের আমড়া বিখ্যাত ) দিয়ে এইরকম ডাল রান্না করা হয়েছিল,দারুণ মজা ছিলো খেতে,পরে শুনলাম তেতুল পাতা দিয়েও এই রান্না করা যায়।

    আপনার ব্লগের মাধ্যমে আমার অজানা অনেক রান্নার মেথড আমি জানতে পারছি,এই জন্য একটা ধন্যবাদ অবশ্যই আপনার প্রাপ্য!!

    শুভেচ্ছা ও ভালোলাগা

    Liked by 1 person

  3. আমি কখনো খাইনি। একদিন ট্রাই করতে হবে।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s