Gallery

রেসিপিঃ গুড়া বা পোনা মাছ রান্না (নিজদের ধরা মাছ!)


গ্রামের বাড়িতে যেয়ে আমাদের ছোট একটা খাঁদা (এটা ভিটার জন্য মাটি কেটে করা হয়েছিল এবং এটা একটা বড় পুকুরের ধারেই) থেকে পানি উঠিয়ে আমরা কিছু মাছ ধরার ব্যবস্থা করি একদিন সকালে। প্রথমে আমাদের মনে হয়েছিল অনেক বড় বড় মাছ পাওয়া যাবে কিন্তু পরে দেখা গেল সব মাছই ছোট এবং যাদের বলা হয়ে থাকে গুড়া মাছ বা পোনা মাছ (মাছের পোনাই)। আমরা সব ভাইরা এবং কয়েকজন চাচা মিলে মাছ ধরেছিলাম। বহুদিন পর এমন করে মাছ ধরলাম। তবে মনে হয়েছিল, আর মাস খানেক পরে এটা করলে অনেক ভাল মাছ পেতাম। ছোট এই মাছ গুলোর মধ্যে ছিল অনেক প্রকারের মাছ – টেংরা, কৈ, টাকি, খৌলিশা, বাইম, মাগুর, শিং ইত্যাদি।

এইভাবে মাছ ধরার মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ আছে। আর বেশি বেশী মাছ পেলে কার না আনন্দ হবে। মাছ ধরে বাড়িতে নিয়ে গেলে আমাদের এক চাচীমা আমাদের কিছু মাছ কেটে দেন (এই কাজটা খুব কষ্টের) এবং দুপুরের দিকে এই মাছ রান্না হয়, আমি ও আমার ব্যাটারী এই মাছ রান্না করেছিলাম, খুব কম মশলাপাতি দিয়ে, খেতে বসে সবাই বললেন দারুন। আমি নিজেও খেয়ে অবাক হচ্ছিলাম, এই স্বাদ আবারো অনেক দিন পর পেলাম। চলুন দেখে ফেলি, মাছ রান্না কত সহজ কাজ, না রান্না করলে বুঝানো যাবে না! হা হা হা…

উপকরনঃ
– হাফ কেজির চেয়ে কিছু বেশি পোনা মাছ (অনুমানিক)
– পেঁয়াজ কুঁচি মাঝারি ৩ টা/৪টা হবে
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া
– পরিমান মত লাল মরিচ গুড়া (ঝাল বুঝে)
– দেড় চা চামচ রসুন বাটা
– পরিমান মত লবন
– পরিমান মত তেল (কয়েক চামচ)
– পানি

প্রনালীঃ

তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি ভাজে তাতে রসুন বাটা, লাল মরিচ, হলুদ, কাঁচা মরিচ ও সামান্য পানি দিয়ে ভাল করে কষিয়ে ঝোল বানিয়ে নিতে হবে।


এবার গুড়া মাছ গুলো দিয়ে দিতে হবে।  সামান্য পানি দিতে পারেন, মাছ থেকেও পানি বের হবে।


মাছ গুলো নাড়াতে হবে সাবধানে, যেন ভেঙ্গে না যায়।


ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে মিনিট ১৫ রাখুন। মিনিট ৫ পর পর নাড়িয়ে দিন।


ঠিক এই অবস্থায় এসে যাবে, মাছ সিদ্ধ হল কি না দেখে নিন।


ফাইন্যাল লবন দেখে নিন, লাগলে দিন। আরো কয়েকটা গোটা মরিচ দিতে পারেন।


বাটিয়ে পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


আমাদের গ্রামের বাড়ীতে রান্নাঘর এবং খাবার কাম ড্রইং রুমের মাঝে হোটেলের মত এই রকম একটা জানালা আছে, যা দেখে সবাই হাসাহাসি করে, এটা আমিই রেখেছিলাম, যাতে করে সহজে রান্নাঘর থেকে খাবারের টেবিলে খাবার পৌঁছানো যায়! এ দিকটা রান্নাঘরে দিক!


ডাইনিং টেবিলের ঠিক পিছনেই।


এভাবেই টেবিলে খাবার আসে।


খেতে বসে সবাই এই মাছই বেশী খেতে চেয়েছিল কিন্তু এক চামচের বেশী কারো ভাগে পড়ে নাই!

গ্রামের মানুষ শহরের মানুষের তুলনার বেশী দিন বাঁচে। এর নানান কারন আছে বটেই। গবেষকরা হয়ত ভাল বলতে পারবেন তবে আমার কাছে এই বেশি দিন বাঁচার একটা কারন মনে হয় তাদের খাদ্যাভ্যাস। গ্রামের মানুষেরা শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রতিদিন তাজা খাবার দাবার খেয়ে থাকেন এবং এর মধ্যে থাকে প্রায় প্রতিদিন শাকসবজি এবং তাজা মাছ আছেই।

গ্রামীন শাক নিয়ে একটা পোষ্ট লিখেছি সামহোয়ার ইন ব্লগে। এই শাক সবজি গ্রামের মাঠে প্রান্তরেই পাওয়া যায়। চলুন আজকে কয়েক প্রকারের শাক সব্জির ছবি দেখি এবং দেখি আপনারা এই শাক গুলোর নাম বলতে পারেন কি না!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি আরো আরো মজাদার খাবার নিয়ে।

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ গুড়া বা পোনা মাছ রান্না (নিজদের ধরা মাছ!)

  1. খালেদা এদিব খান

    vaiya, aj saradin aponr blog-e somoy katabo.

    Like

  2. ছোট পোণা এভাবে খেতেই মজা!

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s