গ্যালারি

উপহারঃ একটি আনন্দদায়ক ঘটনা


লেখালেখি করে উপহার বা পুরস্কার পাওয়া নিঃসন্দেহে একটা আনন্দদায়ক ঘটনা। এযাবৎ লেখালেখি করে অনেক ভাল কমেন্ট পেয়েছি এবং অনেকেই আমাকে এপ্রিসিয়েট করেছেন। আমি আসলে রেসিপি লিখি আমার মনের আনন্দেই এবং এটা সারা দুনিয়ার বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপকার করবে এটাই আমার মুল কথা। আমি এক সময়ে প্রবাসী ছিলাম, রান্না না করতে পারার জন্য কত কি আজে বাজে খেয়েছি এবং কত বেলা না খেয়েও থেকেছি, সেই দুঃখবোধ এখনো মন থেকে যায় নাই। বিবাহ করেও রান্না না জানার জন্য অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলাম ফলে রান্না শেখার আগ্রহটা বেড়েই চলছিল। বাংলা ভাষায় আমার মত এমন ধারাবাহিক কোন রেসিপি তখনো নেটে ছিল না, এমনকি আমাদের সাধারণ রান্না গুলোর ছবি দিতেও অনেকে লজ্জা পেতেন। আমি সেই লজ্জার বেড়াজাল ভেঙ্গেছি কচুর লতি থেকে চিচিঙ্গা ভাঁজিও আমি নেটে নিয়ে এসেছি। ফেবুতে এক সময়ে যখন শুধু দামী খাবারের ছবি দেয়া হত তখন আমি আমাদের ঘরে রান্নার সাধারণ ছবি প্রকাশ করেছি। অনেকে আমাকে নানান ক্টু কথা শুনিয়েছেন। বাংলা ব্লগ গুলোতে অনেক আমাকে সহ্য করতে পারেন নাই, যাকে প্রগতিশিল ভেবেছি সেও আমাকে নানান বাজে কথা শুনিয়েছে। যাই হোক আমি আমার মত করেই এগিয়েছি।

তবে  কখনো লেখালেখি বা রেসিপি লিখার জন্য কেহ আমাকে পুরস্কার বা কিছু গিফট পাঠাবে এটা আমার কল্পনার বাইরে ছিল।  একদিন ফেবু চ্যাটে এক বোন আমাকে জানালেন তিনি আমার জন্য কিছু গিফট পাঠাবেন, আমি গ্রহন করবো কি না! বিশ্বাস করুন আমার চোখে জল এসেছিল! এত ভালবাসা আমি কোথায় রাখি। আমি উনার প্রোফাইল দেখলাম, তিনি আমেরিকায় থাকেন এবং সেখান থেকে আমার এবং আমার পরিবারের জন্য উপহার পাঠাবেন। হ্যাঁ বলতে আমার কষ্ট হলেও আমি গ্রহন করবো বলে সিদান্ত নিলাম। এটা আমি এই ভেবে হ্যাঁ বলছিলাম যে, আমার পরিবার যেন বুঝতে পারে, আমাকে অনেক চিনে এবং আমার রেসিপি গুলো অনেকেই পড়ে, আমার একটা প্রমান দরকার হয়ে পড়ছিলও।

উপহারের কথা বাসায় এসে বললে আমার বড় ছেলে জানালো, তোমার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পরছে! হা হা হা। এভাবে গত মাসের শেষ দিক এসে গেল, আমি উপহারের কথা প্রায় ভুলতেও বসেছিলাম। একদিন আবার মোবাইলে ফোন এল, একজন ভদ্রলোক আমার পরিচয় জেনে জানালেন, উনার মেয়ে আমেরিকা থেকে আমার জন্য কিছু উপহার পাঠিয়েছেন। আমি এবার বুঝতে পারছিলাম এবং উপহারের সেই ব্যাগটা আমার অফিসে তিনি পৌঁছে দিলেন। অফিসে আমি ব্যাগটা খুলে না দেখে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে সবাইকে নিয়ে বসে খুলে দেখলাম। দারুন সব উপহার, ব্যাগ ভর্ত্তি।

এই সেই চমৎকার থার্মাল ব্যাগ।


ব্যাগ খুলে বিস্ময়ের পালা।


ব্যাগের ভিতরে অনেক কিছু ছিল তবে এমনি আর একটা ব্যাগ দেখে ভাবলাম, এটা মনে হয় ভুলে আমার কাছে চলে এসেছে। এই ব্যাগ না খুলে আমি পরদিন আবার সকালে অফিসে নিয়ে গেলাম এবং সেই বোনকে চ্যাটে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কিভাবে আবার ফিরত দেয়া যেতে পারে, সেই বোন জানালেন, এটাও আমার উপহার। তিনি এটা আলাদা করেছেন ভিন্ন কারনে, যদি আমার উপহারের একটা মিস হয় তাহলে যেন আর একটা পাই। হা হা হা। আমি এবার হাসতে বাধ্য হলাম। পুনরায় ব্যাগটা নিয়ে রাতে বাসায় ফিরলাম। চলুন ব্যাগের ভিতরের সব উপহার গুলো দেখে নেই।


এই ক্রেস্টের লেখা গুলো পড়ে মনটা আনন্দে ভরে গেল।


বোনটা নিজেও একজন লেখিকা, আমেরিকায় সরকারী চাকুরী করেন, ফাঁকে কয়েকটা বই লিখেছেন এবং সে গুলো দেশে প্রকাশিত হয়েছে। কম্পুটারের ছাত্রী হয়েও লেখালেখির প্রতি এই বোনের ভালবাসা একটা উল্লেখযোগ্য দিক।


আমার ছোট ছেলের জন্য এই উপহার গুলো আলাদা আনন্দ দিয়েছে।


আমার স্ত্রীর (যাকে আমি ব্যাটারী বলি) জন্য এই ম্যানিব্যাগ সত্যি অসাধারণ।


এই উপহারের একজ্যাক্ট নাম আমি বলতে পারছি না, তবে এটার ব্যবয়ার বিধি জানি। খাবারের টেবিলে প্রতিজনের প্লেটের নীচে এটা ব্যবহার করা হয়, দারুন সুন্দর, প্লেট ম্যাট হতে পারে।


এটিও খাবার টেবিলের খাবার রাখার ম্যাট, সাধারনত কাঁচের ডাইনিং টেবিলে এই ম্যাট গুলো ব্যবহার হয়ে থাকে। দারুন সুন্দর। ভাবছি, এ গুলো আমার ডাইনিং টেবিলে বিশেষ উৎসবের দিনে ব্যবহার করবো।


আমার জন্য মোজা! ইদানীং আমি সু না পরে কেডস পরছি, এই মোজা গুলো দারুন কাজ দিবে।


এই প্রয়োজনীয় চামচ খুন্তি দেখে আমি অবাক না হয়ে পারি নাই। আমার রান্নাঘরে এ গুলো সব সময়েই ব্যবহার হবে।


এই ক্রেষ্ট কোথায় রাখবো ভেবে পাছিলাম না!


ভাবলাম, আমার ডাইনিং টেবিলের রানারেই রেখে ছবি তুলি কারন আমার প্রায় সব রান্নাই এই রানারে রেখে শেষ ছবি তুলি।


সব উপহার গুলো চমৎকার এবং দামী। বিশেষ করে থার্মাল ব্যাগটা আমার এতই ভাল লেগেছে যে বলে বুঝানো যাবে না। খাবার নিয়ে এই ব্যাগে করে কোথায়ও চলে গেলে খাবারের মান অক্ষুণ্ণ থাকবে কারন ব্যাগের ভিতরে যে তাপমাত্রায় খাবার রাখা হবে, সেই তাপমাত্রা নষ্ট হবে না। সেজা কথায় দারুন কাজের ব্যাগ।


উপহার পেতে কার না ভাল লাগে, আর সেটা যদি রেসিপি ব্লগ লিখে পেয়ে থাকি, তা হলে বুঝুন! উপহার হার নিয়ে আর একটা স্ট্যাটাস এখানে দেখুন!

সব চেয়ে বিশেষ দিক আপনাদের না বলে পারছি না, আমি যখন সিদ্ধান্ত নিলাম, এই উপহার গুলো নিয়ে আমি একটা পোষ্ট দিব, তখন এই বোনের অনুমতির জন্য উনাকে লিখলাম, তিনি অনুমতি দিলেন তবে জানিয়ে দিলেন, নাম যেন প্রকাশ না করা হয়। একেই হয়ত বলে আমাদের চলচিত্র নায়ক অনন্ত জলিলের ‘নিশ্বার্থ ভালবাসা’! হা হা হা… (হ্যাভ ফান সিষ্টার)

বোন, আপনি যেখানেই থাকুন, ভাল থাকুন, আপনার জন্য আপনার পরিবারের জন্য আমাদের দোয়া ও শুভেচ্ছা থাকলো। আপনি আমাদের পরিবারে যে আনন্দের মাত্রা যোগ দিলেন, তা কোন দিন ভুলে যাবার নয়।

আমার প্রিয় রেসিপি পাঠক/পাঠিকা ভাই বোন বন্ধু, আসুন সবাই এই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোনকে শুভেচ্ছা জানাই। আশা করি আমাদের সাথে আপনি আগামীতেও থাকবেন।

(আমার রেসিপি লিখার সার্থকতা প্রমান হল, হা হা হা!)

Advertisements

9 responses to “উপহারঃ একটি আনন্দদায়ক ঘটনা

  1. অনেক উপহপার পেয়েছেন। শুভকামনা জানাই আপনাকে ও নাম না জানা সেই আপুকে।

    Liked by 1 person

  2. ভাইয়া, আমার অনেক দিনের ইচ্ছা আছে, চাকুরী হলে, ১ম মাসের বেতন থেকে আপনার জন্য একটা উপহার কেনার। দোয়া করবেন, যেন সে সামর্থ্য হয়।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ ছোট বোন।
      আমি তোমাকে আমার ছোট বোনের মতই দেখি ও জানি। আমার একমাত্র বোন প্রবাসে থাকে তাকে কতদিন দেখি না। তোমাদের দেখলে তার কথা মনে পড়ে।

      যাই হোক, দোয়া করি, আল্লাহ যেন তোমাকে একটা ভাল চাকুরী যোগাড় করে দেন। হা হা হা, আমার উপহার আমি পেয়ে গেছি, এটা উল্লেখ করাতেই আমি অনেক অনেক খুশি হয়েছি।

      পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো থেকো।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. খালেদা এদিব খান

    আপনি পুরস্কার পাওয়ার মত কাজ করছেন বলে আমার মনে হল।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s