Gallery

রেসিপিঃ লালশাক রান্না (মাছ দিয়ে, সাধারণ, ঘরোয়া)


আমাদের দেশে অনেকে রাতে শাক সবজি খেতে চান না। আমি যখন যা পাই তা খাই! কারন দুপুরে প্রায় বাসায় থাকি না, সারা দিন রাতে এক বেলাই বাসায় খাই সুতারাং এত বাচ বিচার করি না। আর যেহেতু নিজে রান্না করতে চাই সুতারাং আমার সময়ই হচ্ছে রাতে। তাই শাক হউক আর মাছ হউক আমি রাতেই রান্না করি রাতেই খাই! কি আর করব? এই তো জীবন। রাতে অফিস/আড্ডা ফেরার পথে আমি শাক কিনে ফিরি অনেক সময়!

যাই হোক, আজ আপনাদের লাল শাক রান্না আবারো দেখাবে, আগেও কয়েক দফা লাল শাক রান্না দেখিয়েছি। লাল শাক ভাঁজি, লালশাক মাছ দিয়ে, লাল শাক নিরামিষ ইত্যাদি রান্না আছে। আজ ইচ্ছা ছিল নিরামিষ রান্না করার, আমার ব্যাটারী জানালেন কয়েক টুকরা মানে আইড় মাছের মাথা লেজ মিলিয়ে সামান্য কিছু মাছ আছে, তা দিয়ে মিশিয়ে রান্না করো, ভাল লাগবে। কি আর করা, স্ত্রীর কথা না শুনলে কি আর চলে! তিনি বলেন এতে আরো অধিক পুষ্ঠি মিলবে! এবারের লাল শাক মাছ মানে আইড় মাছ দিয়েই রান্না করেছি, চলুন তা দেখে ফেলি! আমি এমনিতেই আবার শাক সবজি ভাল রান্না করি এবং স্ত্রীও আমার হাতের শাক সবজি খেয়ে আনন্দ পান, ছেলে বুলেট তো খেতে বসেই নানান কথা বলে যা আমারো ভাল লাগে!

উপকরণঃ
– দুই আটি লাল শাক (রান্না শুরুর আগেই পরিস্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে)
– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ
– রসুন বাটা, দুই টেবিল চামচ
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– লাল মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে বেশী কম)
– হলুদ গুড়া, ১ চা চামচ
– লবন, পরিমান মত
– তেল, এক কাপের ১/৪ ভাগ কম বেশি
– পানি, পরিমান মত

– কয়েক টুকরা মাছ (মাছ না দিয়েও স্বাদ হতে বাধ্য, আমি জানি! হা হা হা। তবে আপনি এই লাল শাকে অনেক ধরনের মাছ ব্যবহার করতে পারেন যেমন যে কোন জিওল মাছ কিংবা রুই কাতলের টুকরা দিয়েও রান্না করতে পারেন তবে আমার মনে হয় চিংড়ি দিয়েই রান্না বেশী ভাল স্বাদের হয়)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলছে)

ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০, মৃদু আঁচে ঢেকে রেখে দিন। শাক থেকে পানি বের হয়ে আসবে। মাঝে মাঝে একটু নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না। তবে মনের ভুলে চুলা ছেড়ে যাবেন না, রান্না শেষ করেই রান্নাঘর ছাড়ুন।


ছবি ১১, ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলে আগে বাড়ুন।


ছবি ১২, ঝোল কেমন রাখবেন তা নিজেই ঠিক করুন। আমি ইচ্ছা করেই ঝোল একটু বেশী রাখি। ঝোল কমাতে চাইলে ঢাকনা তুলে নিয়ে আগুন বাড়িয়ে দিন, নিমিষেই ঝোল কমে যাবে।


ছবি ১৩, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১৪, অপূর্ব! এই রকম একবাটি শাক তো একাই খেয়ে ফেলা যায়। (মনে রাখবেন, শাক সবজি না খেলে শরীরে নানা অসুখ বাসা বাঁধে।)

দারুন স্বাদের রান্না। বিশ্বাস করুন আমি দুই প্লেট ভাত সাবাড় করে দিয়েছি শুধু এই শাক দিয়েই। ইচ্ছা করে একটু ঝোল রেখেছিলাম যাতে আর অন্য কোন তরকারী না লাগে! আমার তাই হয়েছে, আর কোন তরকারী নেই নাই যদিও মোরগের গোশত রান্না ছিল।

আপনারা এভাবে একদিন রান্না করে দেখতে পারেন। লালশাকের মজাই আলাদা, দারুন।

সবাইকে শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন।

Advertisements

7 responses to “রেসিপিঃ লালশাক রান্না (মাছ দিয়ে, সাধারণ, ঘরোয়া)

  1. উস্তাদজী, আমি জানি আপনার এই রান্নার রেসিপি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা পড়বেন। কিন্তু সে সব দেশে আপনার কথিত লালশাক হয়তো পাওয়া যাবেনা। তারা আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন। আমি বিদেশে অবস্থানের সময় লাল শাকের অভাব বিটরুটের পাতা দিয়ে সেরে নিতাম। আপনিও বিট রুটের পাতা ব্যবহার করে দেখবেন, লাল শাকের চেয়েও ভালো স্বাদ লাভ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। ধন্যবাদ।

    Like

  2. Interesting and mouth watering recipe, I think prawn (or shrimp) may be accepted as a replacement for Aair fish.

    Like

  3. খালেদা এদিব খান

    ভাইয়া, চিংড়ি এবং লালাশাক বেষ্ট।

    Like

  4. আইড় মাছ একদিন রান্না করেছিলাম, খেতে গন্ধ লেগেছিলো।হয়তো আমার মাছ ধোয়াটা ভালোভাবে হয়নি।মাছ ধোয়ার প্রক্রিয়াটা শিখিয়ে দেবেন প্লিজ?

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      মাছের আইস্ট্যা ভাল করে ফেলে, পিস করে কাটুন, পিস সব সময়ে বেশি পুরু হওয়া উচিত নয়। এবার প্রথমিক ভাবে বোলে পানি নিয়ে ধুয়ে নিন, আরো ২ বার, ভাল হয় কলের পানিতে। ৩য় বারের ধোয়ায় সামান্য লবন দিন পানিতে, এই লবন দিয়ে ধুলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রত্যেক্টা মাছের আলাদা আলাদা ঘ্রান থাকে, সেটা কিছুটা বজায় থাকলে খেতে আনন্দ পাওয়া যায়। তবে মাছ নরম হয়ে গেলে, রান্নায় সময় ভেঁজে নিতে পারেন। তবে একদম পচে গেলে ফেলে দেয়া ছাড়া উপায় নাই। হা হা হা।।
      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s