Gallery

রেসিপিঃ পুঁইশাক এবং চিংড়ি মাছ (সাধারণ তথ্য সহ, নূতনদের জন্য)


পুঁইশাক কেন খাবেন? (লেখকঃ মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্)
আমাদের দেশে সারা বছরই পুঁইশাক পাওয়া যায়। এটি খেতে বেশ সুস্বাদু, পুষ্টিগুণে অনন্য আর রোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন। পুঁইশাক ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-বিতে সমৃদ্ধ। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও খনিজ পদার্থ। এসব উপাদান সৌন্দর্য বাড়ায়। পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর আঁশ, যা কোষ্ঠবদ্ধতা বা কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে সহায়তা করে। নিয়মিত পুঁইশাক খেলে খোসপাঁচড়া ও ফোড়ার মতো সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এ ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে এটি লড়াই করে।
ক্যানসার প্রতিরোধেও পুঁইশাক সাহায্য করে। এতে থাকা স্যাপোনিন এর কারণ। পুঁইশাক প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যারা নিয়মিত পুঁইশাক খান, তারা মাথাব্যথায় কম ভোগেন।

পুঁইশাকের ভেষজ বা ঔষধি গুণও উল্লেখ করার মতো। শরীরের কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ফুলে গেলে পুঁইশাকের শিকড় তা সারাতে ভালো দাওয়াই। শিকড় বেটে লাগালে উপশম হবে। এ শাকে থাকা অ্যান্টি-ইনফামেটরি গুণই এর কারণ। ব্রণ সারাতেও পুঁইশাক কাজ করে। কিছুদিন নিয়মিত এ শাক খেতে হবে কিংবা বেটে লাগাতে হবে ব্রণের ওপর। নাক ও গলার সংক্রমণের বিরুদ্ধেও পুঁইশাক কাজ করে। পুঁইপাতার রসে চিনি মিশিয়ে খেলে এ সংক্রমণ উপশম হতে পারে। প্রত্যেক বাড়ি বা বাসায় খুব সহজেই দু’একটি পুঁইচারা রোপণ করা যায়। বাড়ির উঠান বা আঙ্গিনা এবং বাসার ছাদের টবে এটি চাষ করা সম্ভব।

(উপরের ছবি ও তথ্য গুলো লিখেছেন মুহাম্মদ রোকনুদ্দৌলাহ্, নেট থেকে পাওয়া, যোগাযোগ করতে পারলে ভাল হত। উনাকে কৃতজ্ঞতা জানাছি।)

যাই হোক, আমি নিজেও পুঁইশাক বেশ পছন্দ করি, সাথে আমাদের পরিবারের সবাই। সুযোগ পেলেই পুঁইশাক কিনে থাকি। আমাদের শাক সবজি ক্যাটাগরীতে পুঁইশাকের অনেক রান্না আছে, দেখে নিতে পারেন। ভাঁজি, নিরামিষ, ডাল দিয়ে রান্না, মাছ দিয়ে রান্না, এমন কি মাংশ দিয়েও রান্না করেছি এবং সব গুলোই আপনাদের জন্য তুলে দিয়েছি। আগামীকে পুঁইশাকের আরো আরো রান্না আসছে।

আজ চলুন পুঁইশাকের সাথে চিংড়ি মাছ দিয়ে একটা রান্না দেখে ফেলি। সহজ ও সুন্দর রান্না। বেশ মজাদারও বটে।

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
– পুঁই শাক, এক কেজি বা তারো বেশি (এই শাক রান্না করলে অনেক কমে যায়)
– কয়েকটা মাঝারি সাইজের চিংড়ি (আপনি চাইলে বেশি ব্যবহার করতে পারেন, এমন কিন অন্য মাছ দিয়েও চলবে)
– মাঝারি চারটে পেঁয়াজ কুঁচি (পেঁয়াজ একটু বেশী হলে স্বাদ বাড়বে)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– এক টেবিল চামচ আদা বাটা,
– এক চা চামচ দেশী রসুন বাটা,
– ঝাল বুঝে হাফ চামচ মরিচ গুড়া,
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া,
– তেল (পরিমান মত, কম তেলেই রান্না উত্তম)
– পানি (পরিমান মত)
– লবন (পরিমান মত)

প্রনালীঃ  (ছবি কথা বলে)

ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭, এবার পুঁই শাক দিয়ে দিন।


ছবি ৮, আগুন মাঝারি আঁচে থাকবে। ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০ রাখুন। মাঝে একবার নাড়িয়ে দিতে পারেন।


ছবি ৯, এই অবস্থায় এসে যাবে।


ছবি ১০, ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন।


ছবি ১১, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


ছবি ১২, শিশুরাও নিশ্চয় পছন্দ করবে। তবে শিশুরা সাধারণত শাক জাতীয় খাবার নিজেরা ইচ্ছা করে খায় না, সে ক্ষেত্রে নিজেরা শাক মেখে শিশুদের খাইয়ে দিতে পারেন। একবার স্বাদ বুঝে গেলে আশা করছি সারা জীবন খাবে। শিশুদের প্রতি যত্নবান হতে সবাইকে বিশেষ আহ্বান জানাচ্ছি। শিশুরাই আগামী দিনের সুনাগরিক হয়ে উঠুক, এই কামনা করি সব সময়ে।

আশা করি আপনারাও বেশী বেশি করে পুঁইশাক খাবেন, যা শরীরের জন্য ভাল তা কখনো এড়িয়ে যাবেন না। এমন সহজলভ্য, মজাদার শাক না খেলে চলে কি করে?

সবাইকে শুভেচ্ছা।

2 responses to “রেসিপিঃ পুঁইশাক এবং চিংড়ি মাছ (সাধারণ তথ্য সহ, নূতনদের জন্য)

  1. আঙ্কেল পুইশাকের ডাটা দিলেন না???
    বড় মজাটাই তো মিস হয়ে গেল!! :/

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s