গ্যালারি

বড় ইফতার পার্টিতে একদিন! (খাবারের ছবি সহ)


বিয়েশাদী বরবাদী, মুসলমানি সহ নানা প্রকারের দাওয়াত খেয়ে আমি ছবি পোষ্ট দেই কারন আমি দেখাতে চাই এই সব অনুষ্ঠানে কি কি করা হয় এবং কি কি খাওয়া হয়। আমার আড্ডা পোষ্ট সহ খাবার দাবারের ছবি পোষ্ট গুলোতেও আপনাদের একটা অংশগ্রহন থাকে। পোষ্ট গুলোর পাঠক সংখ্যা কম নয়। ইফতারের দাওয়াতে গিয়েছি অনেক বার কিন্তু এইবারই মনে হল ইফতারের দাওয়াতের ছবি দিয়েও একটা পোষ্ট দেই। এবারে এই রকম বড় বেশ কয়েকটা ইফতারের দাওয়াত পেয়েছি তবে এই ইফতারে যাবার পর মনে হয়েছে আর কোন এই রকম ইফতারে যাবার দরকার নেই! চলুন, দেখে নেই।


দেশের ব্যবসা বানিজ্যে বায়রার গুরুত্ব অনেক। প্রবাসে যারা যায় বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেনী তাদের প্রায় সবাইকে কোন না কোনভাবে বায়রার সদস্যদের মধ্যে দিয়েই যেতে হয়। বায়রার সদস্যরা বিদেশী কোম্পানীর সাথে জনশক্তি রাপ্তানীর চুক্তি করেন এবং সরকারের সহায়তায় বিদেশে শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা পাঠান। যাই হোক, এই দরিদ্র দেশে এই পেশাজীবিদের অনেক অবদান, যদিও এদের অনেকেই অনেক ভুল পথে পরিচালিত হয়েছেন। আমি নিজেও প্রথম যখন প্রবাসী হই তখন এদের সহায়তায় গিয়েছিলাম এবং আমার এখনো সেই প্রতিষ্টানের কথা মনে আছে, রিয়াজ ওভারসিজ নামের গুলশানের একটা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আমি প্রথম বিদেশে চাকুরীতে যাই। তবে এক সময় এই পেশা ভাল চোখে দেখা হত না, এখন মোটামুটি একটা সন্মানজনক অবস্থায় আসছে কিন্তু গত ৬ বছরে বর্তমান সরকারের ভুল নীতির কারনে এই পেশায় আর অনেকেই টিকে থাকতে পারেন নাই বা চলে যাচ্ছেন। তবুও এগিয়ে চলছে কারন আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা নানা দেশে এখনো আছে!


ঢাকার অফিসার্স ক্লাব এখন বড় বড় অনুষ্ঠান করাতে বেশ নাম কামিয়েছে। ব্যবস্থাপনা ভাল হলে যে কোন প্রতিষ্ঠান নাম কামাতে পারে এই ক্লাব এখন ঢাকাতে একটা উদাহরণ হয়ে আছে। এই অফিসার্স ক্লাবে আমি আগেও বেশ কয়েকটা বিয়ে এবং সাধারণ খাবার দাবারের অনুষ্ঠানে খেয়ে আপনাদের জন্য লিখেছি, আশা করি মনে আছে।


আমি টেবিল নং ৩৫ বেছে নিয়েছিলাম এবং আমি শুরুর দিকেই হল রুমে প্রবেশ করি। তখন টেবিলে টেবিলে ইফতার সাজিয়ে রাখা হচ্ছিলো।


ইফতার সাজিয়ে টিস্যু দিয়ে ঢেকে দেয়াটা আমার ভাল লেগেছে। এতে বুঝা যাচ্ছে, আমরা কিছুটা হলেও এগুচ্ছি! হা হা হা…


এই ছিল আমার ইফতারের প্লেট!


কিছু টেবিলে হয়ত তখনো সাজানো  হচ্ছিলো। এক সাথে ১৫শত লোকের বসে ইফতারের ব্যবস্থা সহজ কাজ নয়, তাও আবার চেয়ার টেবিলে! কিন্তু এখন এই সব আর আমাদের দেশের জন্য কঠিন কাজ নয়, প্রাতিষ্ঠানিক লোকবল এখন রেডী হয়ে গেছে, চাইলেই হল।


ইফতার সামনে নিয়ে বসে থাকার একটা আলাদা সোয়াব আছে।


প্রধান অতিথি মন্ত্রী মহোদয় এমন সময়ে অনুষ্ঠানে এলেন যে, তখন ইফতার করার বাকী আর মাত্র কয়েক মিনিট! খুবই আফসোসের বিষয় এই যে, এখনো আমাদের দেশের মন্ত্রী এম্পি বা অতিথিদের এই সেন্স এখনো মাটির সাথে মিশে আছে! প্রধান অতিথির দেরীতে আসার জন্য অনুষ্ঠানের কিছুই করা হল না। এমন কি ইফতারের আগে সামান্য দোয়াও করা যায় নাই! মন্ত্রী যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন ইফতারের আজান হচ্ছিলো!


কিছু মানুষ সব সময়েই অতি উৎসাহী!


দেশে টিভি চ্যানেল এত বেশী হয়েছে যে, অনুষ্ঠানের অয়োজকরা বলছিলেন, প্রায় ১০০ লোক হবে টিভি চ্যানেলেরই! ক্যামেরা ম্যান, সহকারী, এংকর এবং ড্রাইভার! তবে ক্যামেরা ম্যানদের কাজের ধরন সবার প্রায় এক রকম। আমাকে সম্ভবত মোহনা টিভি বেশী কভারেজ করেছে! হা হা হা…।


মঞ্চেও উঠার লোকের অভাব ছিল না!


যাই হোক, ইফতারের পর পরই মোরগ পোলাউ, রেজালা, সালাদ, টিকিয়া এবং দই এর ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ইফতার করেই কি এমন খাবার খাওয়া যায়, সাথে সাথে! অনুষ্ঠানে অনেক আল্লাহর পেয়ারা বান্দাদের মাগরিবের নামাজ ক্বাযা হয়েছে! কি আর করা!


রেজালার ছবি। এখানে একটা কথা না বলে পারছি না, এই অনুষ্ঠানে আমার সাথে আমার চাচা (যার প্রতিষ্ঠানে আমি এখন কাজ করি) এবং উনার কিছু বন্ধু ছিলেন, যাদের জন্য আমি খাবারের ছবি সময় মত তুলতে পারি নাই, লজ্জা পাচ্ছিলাম! হা হা হা, তারা খেয়ে উঠে যাবার পরেই ছবি তুলতে পেরেছি! বাটি খালি তাই! এ ছাড়া টিকিয়া, সালাদের বাটির ছবি মিস হয়ে গেছে!


সর্বশেষে দই!

শেষ কথাঃ
যত বড় খানাপিনার পার্টি ততই অপচয়! আমি সাধারণত এই ধরনের পার্টিতে যেতে চাই না কিন্তু তবুও যেতে হয়। না যেয়ে উপায় থাকে না, ঘর কুনে হয়ে কতদিন থাকা যায়। বেঁচে থাকতে হলে অনেক অভিজ্ঞতা নিয়ে মরনের পারে পৌঁছাতে হয়!

ইফতার, বিয়ে শাদী, মুসলমানি বা এমন বড় পার্টি গুলোতে খাবার দাবারের বিরাট একটা অপচয় চোখে পড়ে। এই ধরনের পার্টি গুলোতে আমি প্রায়ই দেখি, যত লোক আসে তার ছেয়ে বেশি খাবারের আয়োজন করা হয়ে থাকে এবং অনেক বেশি অপচয় হয়ে থাকে।

আজ এমনি একটা ইফতারের পার্টিতে (অবশ্য ইফতারের এই অনুষ্ঠান গুলোকে পার্টি বলা উচিত নয়) গিয়ে যা দেখলাম, তাতে মন খারাপ হয়ে যায়। লোকজন কম হয়নি তবুও অনেক খাবার বেঁচে যেতে দেখলাম এবং টেবিলে অনেক খাবার খেতে না পেরে ফেলে উঠে গিয়েছিলেন। আয়োজকরা এত খাবারের আয়োজন না করলেই পারতেন বলে মনে হল।

খেজুর পানি দিয়ে রোজা খুলে মোরগ পোলাউ, সালাত, রেজালা ও দই হলেই হয়ত অনেক খাবার বেঁচে যেত। অথবা শুধু ইফতারের আইটেম গুলো করলেই চলত। যাই হোক, টাকা থাকলেই যে অপচয় করতে হবে তা কিন্তু নয়।


প্রতিটা টেবিলেই এমনি খাবার জুটা হয়ে পড়েছিল।


আমি সাধারণত দুঃখের ছবি তুলি না, আজ ছবি গুলো না তুলে পারলাম না।

ইফতারের সময় পার করে বাইরে বের হয়ে এসেও রাস্তায় চোখে পড়ছিল, কত মানুষ ইফতারের সময়েও দাঁড়িয়ে বসে থাকে, সামান্য খাবারও পায় না।

তাছাড়া আমি ইচ্ছা করে বেশ কয়েকদিন রাস্তায় ইফতার করে (ছোট কোন দোকানে) দেখেছি, এই শহরে কত মানুষ ইফতারের সময় না খেয়ে কাজ করে যায় কিংবা টাকার অভাবে ইফতার করে না।

এই অপচয় গুলো না করলেই নয় কি! এই শিক্ষা গুলো কি আমাদের কখনোই হবে না! (সামহোয়্যার ইন লিঙ্ক)

ফেবু লিঙ্ক এখানে, কিছু মজার কমেন্ট আছে ফেবুতেও!

আশা করি আপনাদেরও এমন অনেক অভিজ্ঞতা আছে। পোষ্ট পড়া এবং দেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

Advertisements

2 responses to “বড় ইফতার পার্টিতে একদিন! (খাবারের ছবি সহ)

  1. vaijan…namajer babosta kore sune mon kharap hoye gelo…

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s