গ্যালারি

রেসিপিঃ চিচিঙ্গা এন্ড চিংড়ি (ফরেন স্টাইল, চিচিঙ্গা সম্রাটের রান্না)


আমি ছোট বেলায় চিচিংগা একদমই পছন্দ করতাম না! চিচিংগা দিয়ে একটা তরকারী আমাদের পরিবারের সব সময়েই পাওয়া যেত তা হচ্ছে, চিচিংগা এবং ডিম দিয়ে একটা ভাঁজি। এই ভাজিটা আমাদের আম্মা প্রায়ই সকালে করতেন এবং আমরা রুটি দিয়ে খেতাম। দুপুরে বা রাতে মাছ বা মাংশ দিয়ে ঝোলের আরো একটা তরকারী রান্না হত, এই তরকারীটায় চিচিংগা দেখলেই মন খারাপ হয়ে যেত। যাই হোক, একটু বড় হতেই বিশেষ করে বিবাহের পর চিচিংগা আমার প্রিয় তরকারী হয়ে উঠলো! আমি বাজারে গেলেই চিচিংগা কিনতে ইচ্ছা হয়। মনে হয় চিচিংগার একটা তরকারী সব সময়েই সব বেলাই থাক! রান্না শিখে ফেলার পর চিচিংগা আরো আমার ফেবারেট হয়ে পড়ে!

এদিকে সেই একই কথা আমার বড় ছেলে চিচিংগা দেখলে খেতেই বসতে চায় না, ওর কারবার দেখলে আমার নিজের কথা মনে পড়ে! মাঝে মাঝে বলি, পছন্দ করেই খাবি তবে হয়ত সেদিন আমি আর এই দুনিয়াতে থাকবো না, যেমন আমার বাবাও আর এই দুনিয়াতে নেই। আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটা পরিবারের একই ঘটনা! আমরা ছোট বেলায় তেমন কিছু বুঝতে চাই না, শেষে সব কিছুই মেনে নেই! হা হা হা… অথচ যারা আগে মেনে নেই তারাই সময়ের আগে চলে যায়!

আমার স্ত্রী আমাকে ‘চিচিঙ্গা সম্রাট’ বলে থাকেন এই কারনে যে, আমি বাজারে গেলেই চিচিংগা কিনে থাকি এবং চিচিংগা মজা করে রান্না করতে পারি! চিচিংগা নিয়ে আমি অনেক রান্না করেছি এবং আশা করি আগামীতেও আরো রান্না করবো। চিচিংগা কেন আমার মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে তার কারন বের করার চেষ্টা আমিও করি কিন্তু পারি না!

যাই হোক, আপনাদের চিচিংগা নিয়ে কি অবস্থা! আপনারা কে কে চিচিংগা পছন্দ করেন? চিচিংগার কোন পদের রান্না আপনাদের ভাল লাগে। চলুন দেখে ফেলি। চিচিংগা এবং চিংড়ি রান্না, তবে একটু ভিন্ন স্টাইলে!

যত বড় চিচিংগা পাই আমার ততই ভাল লাগে (ছবিটা কয়েক বছর আগের তোলা)

উপকরনঃ
– চিচিংগা, ৪০০ গ্রাম
– চিংড়ি মাছ, গোটা পাচ/ছয় টা, খোসা ছড়ানো।
– পেঁয়াজ ফালি, ৪/৫ টা মাঝারি
– আদা বাটা, এক টেবিল চামচ
– রসুন বাটা, এক দেড় টেবিল চামচ
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– সয়াসস, এক চা চামচ
– ওয়েষ্টার সস, এক টেবিল চামচ
– চালের গুড়া, দেড় টেবিল চামচ (এক কাপ পানিতে গুলে নিতে হবে)
– এক চা চামচ গোল মরিচের গুড়া
– লবন, পরিমান মত (সসে লবন থাকে বলে এই ধরনের রান্নায় কম লবন দিয়েই শুরু করা উচিত)
– তেল, এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ
– পানি, পরিমান মত

প্রনালীঃ

চিচিংগার চামড়া ছিলে এভাবে কেটে সামান্য লবন যোগে গা গা পানিতে সিদ্ধ করে নিন।


সিদ্ধ হয়ে গেলে ঝাঁজে ফেলে পানি সরিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে চিচিংগা ধুয়ে ফেলুন এবং রেখে দিন।


এবার মুল রান্নায় চলুন। কড়াইয়ে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ ফালি ভাঁজুন।


পেঁয়াজ একটু নরম হয় এলে আদা, রসুন বাটা এবং মরিচ দিন এবং ভাল করে ভাঁজুন।


পেঁয়াজের রঙ সোনালী হয়ে গেলে চিংড়ি মাছ গুলো দিয়ে আবারো ভাঁজুন। আগুন মাঝারি থাকবে।


এবার প্রথমে সয়াসস এবং পরে ওয়েষ্টার সস দিন। ভাল করে নাড়িয়ে নিন। চিংড়ি গুলোর রঙ ধরে যাবে।


এবার চিচিংগা দিয়ে দিন।


দেখেই প্রান জুড়ায়!


ভাল করে নাড়িয়ে মিনিট ৫/৬ এর জন্য ঢাকনা দিন। আগুন মাঝারি চলবে।


এই রকম হয়ে গেলে প্রথমে চিনি ছিটিয়ে দিন এবং পরে গোল মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দিন। ভাল করে মিশিয়ে নিন।


এবার চালের গুড়া মিশানে এক কাপ পানি দিন (এখানে আপনি চালের গুড়া না পেলে কর্নফ্লাওয়ার দিতে পারেন, একই কথা হবে)।


ভাল করে নাড়িয়ে দিয়ে আগুন বাড়িয়ে দিন। এই অবস্থায় বেশি ক্ষন জ্বাল দেয়া চলবে না!


নাড়াতে থাকুন, এই অবস্থায় এসে যাবে। এবার ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন। লবন লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলে আগে বাড়ুন।


খাবার টেবিলে পরিবেশনা।


স্বাদ, বলে বুঝাতে পারবো না। অসাধারণ, আমার রান্না টেষ্টার বুলেট যে চিচিংগা পছন্দ করে না, সেও খেয়েছে!


চিচিংগার এই রান্নাটা আপনি রুটি, পরোটা বা পোলাউ এর সাথে খেতে পারেন, দারুন। ইফতারে ভাঁজি ভুজির চেয়ে এমন তরকারীর সাথে ছোলা পোলাউ বা রুটি খেয়ে দেখতে পারেন। আমি নিশ্চত খাবারে আনন্দ পাবেন।

শিশুরা অনেক তরকারী বা শাক সবজি আছে যা খেতে চায় না তবে আমি মনে করি একটু ভিন্ন পরিবেশন করলে খেতে বাধ্য হবেই। আর একবার খেয়ে মজা পেলে, সারাজীবন খাবেই।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি আমাদের সাথেই থাকবেন। আসছি আরো মজাদার রান্না নিয়ে।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ চিচিঙ্গা এন্ড চিংড়ি (ফরেন স্টাইল, চিচিঙ্গা সম্রাটের রান্না)

    • ধন্যবাদ বোন।
      রান্না করে পান্থ দাকে আমার তরফ থেকে একটা ধন্যবাদ সহ পরিবেশন করবেন। ব্যানারটা চমৎকার হয়েছে এবং আমি আরো কয়েকটা ব্যানার চাই, এটা মনে করিয়ে দেবেন।

      আপনাদের আর্জেন্টিনা এবার বিশ্ব ফুটবল কাপ নিয়ে যাক, এই দোয়া করি! হা হা হা

      শুভেচ্ছা।

      Like

  1. ‘চিচিংগার চামড়া ছিলে’ কথাটা এডিট করে অন্য ভাবে দেয়া যায় না? 😦
    এই রান্নাটা পোলাউ বা ফ্রাইড রাইস এর সাথেই ভালো যাবে আমার ধারনা, রুটির সাথে তেমন ভালো লাগবে কি?
    তবে আমি ট্রাই করবো অবশ্যই। হুবহু হয়তো হবে না। যাই হোক …
    thanks 🙂

    Like

  2. আমি চিচিংগা পছন্দ করি না তবে আপনার রান্না গুলো দেখে এখন মনে হচ্ছে ভাল জিনিষ মিস করছি। ভাইয়া, আরো কিছু রেসিপি দিন। সকালের নাস্তায় ডিম দিয়ে ভাজিটা আগে দিন।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s