Gallery

রেসিপিঃ মাল্টা চা (টিটো মিয়া ফর্মুলা)


আমরা যারা ফুটপাতে চা পান করি তারা জানি কোন মোড়ে কোন চা দোকানের চা মজাদার। আমাদের ওয়াপদা রোডের গলিতে প্রবেশের মুখে রাজ্জাক ভাইয়ের চা আমাদের এই এলাকায় সেরা বলে আমি মনে করি। রাজ্জাক ভাইয়ের বয়স হয়েছে তিনি এখন আর তেমন চা দোকানে বসেন না, এখন চা দোকানটা চালায় উনার ছেলে মাসুম। মাসুমের বানানো চাও আমার কাছে ভাল লাগে। এই বিষয়ে একদিন আমি রাজ্জাক ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, সবাই তো একই ভাবে চা বানায়, আপনার চা বেশি স্বাদ হয় কি করে? জবাবে তিনি জানালেন, তিনি ভাল মানের চা পাতা ব্যবহার করেন এবং দীর্ঘ দিন ধরে চা বানিয়ে এখন রং দেখলেই বুঝতে পারেন। আর দুধ চিনির তিনি এমন একটা মাত্রা ব্যবহার করেন যাতে চা পানে চা পানকারীর ভাল লাগে। আমি অনেক সময় রাজ্জাক ভাইকে পেলে এখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে চা পান করি। রাজ্জাক ভাই আমাকে বিশেষ সন্মান করেন।

রামপুরাতে বাসা ভাড়া নিয়ে চলে আসার পর আর মালিবাগের মোড়ে যাই না, তবে এই এলাকা দিয়েই প্রতিদিন অফিসে যাই। মালিবাগ মোড় নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি আছে, এই মোড়ে আমি রাতের পর রাত আড্ডা দিয়ে কাটিয়েছি। সে অবশ্য অনেক আগের কথা। রাতের মালিবাগ মোড় আমার এখনো চোখের সামনে! তখনই দেখেছি এই মোড়ে কারা কারা জেগে থাকে সারা রাত। মালিবাগ মোড়ে তখন তিনটে চা বিস্কুট পরোটার দোকান (ডিম ভাঁজার ব্যবস্থাও ছিল) ছিল যা সারা রাত খোলা থাকত এবং সারা রাতেই দূর থেকে লোকজন এসে খেয়ে যেত। আমরা কয়েক বন্ধু এই দোকান গুলোর নিয়মিত কাষ্টমার ছিলাম। আমি এই মোড়ে আড্ডা দিতে গিয়ে অনেক নামী দামী গানের বা ব্যান্ড শিল্পীদের দেখেছি! অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফিরতে উনারাও চা পরোটা খেয়ে যেতেন! নাম গুলো নিতে চাই না, এখন উনারা দেশ বিদেশে অনেক পরিচিত এবং বিখ্যাত! (কিছু কথা গোপন করে গেলাম! বললে আপনারাই বলবেন ছেলে খারাপ! হা হা হা)

যাই হোক, কয়েকদিন আগে মালিবাগ মোড় দিয়ে হেঁটে পার হয়ে আসছিলাম। আগের সেই অবস্থা আর নেই, সব নুতন লোকজন এসে ফুটপাত দখল করে ফেলেছে। কত কিসের দোকান। হোসাফ টাওয়ারের বিপরীতে হোটেল ম্যানহাটন পার হয়ে এগুলে পেপার বিক্রীর একটা খোলা স্টল সেই ১৯৫২ সাল থেকেই আছে, অবশ্য এদের থেকে অনেক বই পেপার কিনলেও কখনো তেমন কথা বলি নাই! নানা পদের দৈনিক পত্রিকার সাথে সাথে হরেক রকমের বই পাওয়া যায়। এই ফুটপাতের খোলা দোকানের পাশেই টিটো মিয়ার চা দোকান, দোকানের জায়গা পুরানো হলেও মালিক নুতন। প্রবেশ করে চা চাইতেই টিটো মিয়া (উনার নাম আমি পরে জেনেছি) বললেন, মাল্টা চা দেই!

নাম শুনেই পানে মন চাইল, আমি জানিয়ে দিলাম, ভাল করে বানিয়ে দিতে হবে এবং আমি ছবি তুলে রাখব, চা ভাল হলে অনলাইনে লিখবো। টিটো মিয়া হাসি মুখে রাজি হয়ে গেলেন। চলুন দেখে ফেলি!

উপকরনঃ
– আদা কুঁচি
– লেবুর রস
– চিনি
– গরম পানি
– সামান্য চায়ের কড়া লিকার
এবং
– মাল্টার রস
(পরিমান আপনারা ছবি দেখে অনুমান করে নিন এবং যখন নিজেরা বানাবেন তখন সেই মত পরিমান দিন)

প্রনালীঃ

মাল্টা চায়ের প্রধান উপকরন, আদা কুঁচি, লেবুর রস এবং মাল্টার রস।


কাপ ধুয়ে লেবু ও মাল্টা চিপে রস বের করে নিতে হবে।


দিতে হবে পরিমান মত চিনি।


এবার কড়া গরম পানি।


সামান্য কড়া চায়ের লিকার (ছবিটা তুলতে পারি নাই, আগ পিছ হয়ে গেছে)


এবার ভাল করে নাড়িয়ে নিন।


লেবুর টুকরা তুলে ফেলে মাল্টার টুকরাটা রেখে দিতে পারেন।


ব্যস হয়ে গেল মাল্টা চা!


এই হচ্ছে আমাদের টিটো। হাসি মুখে পরিবেশনে আনন্দ আনে! (ছবিটাতে কিছু টুইষ্ট আছে! বিজ্ঞরা হয়ত ধরে ফেলবেন!)


টিটো জানালেন, প্রতিদিন প্রায় দুই কেজি মাল্টা তিনি এই চা বানাতে ব্যবহার করেন। আমি হিসাব করে দেখলাম, প্রায় ১০০ খানেক কাপ হবে হয়ত! এটা কম কিসে?


আমি টিটো মিয়ার সাফল্য কামনা করি। তবে টিটো মিয়ার চেহারায় একটা বেদনার ছাপ আছে! আমার অভিজ্ঞতায় বলে অনেক কথা! আমি দেখেছি এই মালিবাগ মোড়ে যারা ফুটপাতে দোকান করত তাদের বেশীর ভাগিই বিদেশ যেতে টাকা দিয়ে মার খেয়ে এই মোড়ে চলে আসত। টিটো মিয়ার সেইরাম কোন কাহিনী আছে কি না, আগামীবার দেখা হলে জিজ্ঞেস করবো। (কত দুঃখের কবর এই মালিবাগ মোড়!)


আমি ঘরে এই চা একদিন বানিয়ে পান করব।

রেসিপি পাঠক পাঠিকা সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা, আপনারা আমাদের ভালবাসেন বলেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আহ, যদি আপনাদের সবাইকে এমন চা পান করাতে পারতাম!

বি দ্রঃ এই চা নিয়ে আজ সন্ধ্যায় ফেবুতে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, বেশ মজার আরো কিছু তথ্য সেখানে এসেছে। সন্ধ্যায় এমন এক কাপ মাল্টা চা পানে শরীর মন দুটোই চাঙ্গা হতে বাধ্য! (মাল্টা চা পান করেছেন কখনো! চাইলেই পান করে নিতে পারেন, আমি ঠিকানা বলে দিচ্ছি!)

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ মাল্টা চা (টিটো মিয়া ফর্মুলা)

  1. twist hosse apni roja thaken na..aita to lojjar kotha..evabe shobaike na janaleo hoto 😛 😛

    Like

  2. আদা কখন দেয়া ?? গরম পানি দিতে হবে না গরম লিকার চা? আদা ছাড়া ট্রাই করা যাবে না?

    Like

  3. লিকার আর পানি আলাদা কিভাবে দেয় বুঝি নাই… আমি পাতলা লিকার এর চা দিলেই তো হবে তাই না?

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      প্রথমে গরম পানি দিতে হবে তার পর সামান্য লিকার। রংটা এতে কমলা হয়ে উঠবে। আর পুরা পাতলা লিকার দিলে রঙ কড়া হয়ে যাবে বলে মনে হয়। পুদিনা চাও এভাবে বানানো হয়। আগে গরম পানি পরে লিকার বা টি ব্যাগ দেয়া হয়।
      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s