Gallery

আড্ডাঃ পারিবারিক দাওয়াত ও খাবার দাবার


আমি আমার শাশুড়ী মায়ের হাতের রান্না খেতে পারি নাই। কারন আমাদের বিবাহের সময় তিনি আর এই দুনিয়াতে ছিলেন না। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বলতে গেলে কম বয়সেই তিনি এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গেছেন। আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসীব করুন। আমার স্ত্রী প্রায় বলেন তিনি খুব ভাল রান্না করতেন এবং উনার হাতের রান্নার একটা আলাদা জুড়ি ছিল। আমি অবশ্য আমার স্ত্রী পক্ষের অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের মুখেও উনার রান্নার তারিফ শুনেছি অনেক, এটাই সত্য যে যিনি ভাল রান্না করতে পারেন বা যার হাতের রান্নায় খাবার ভাল স্বাদের হয় তিনি পরিবারের মধ্যেও বিখ্যাত হয়ে উঠেন। রান্নার কারনেই অনেকেই মানুষের মনে বিশেষ স্থান করে নেন।

যাই হোক, আমার শশুড় বাড়ির এক ফুফুর কথাতো আমি এখনো বলে থাকি। তিনিও আর এই দুনিয়াতে নেই, উনার হাতের রান্নায় যাদু ছিল এটা আমিও বলি। আমি উনার হাতের পোলাও কোরমা রোষ্ট রেজালা সহ নানা সাধারণ খাবারো খেয়েছি, অসাধারণ। এই ফুফুর কথা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেন, অনেকে বলতে শুনেছি এই ফুফু নাকি তরকারী চামচ দিয়ে নাড়িয়ে দিলেও স্বাদ হয়ে যায়। আমি এটা মানি।

আমার শশুড়বাড়ির আর এক্জন ভাবী (তিনি আমার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী) খুব ভাল রান্না করে থাকেন। আমাদের সবাই উনাকে চামেলী ভাবী বলেই জানি। যাই হোক, চামেলী ভাবীর সাথে দেখা হলেই আমাকে দাওয়াত দেন এবং খেয়ে আসতে বলেন কারন তিনি জানেন যে, আমি রান্না বান্নায় বিশেষ আগ্রহী। গত কিছু দিন আগে তেমনি তিনি আমাদের পুরো পরিবারকে দাওয়াত দেন এবং আমরা সেই ঘরোয়া দাওয়াতে অংশ নেই।

খাবার টেবিলে বসেই আমার মোবাইল যোগে ছবি তোলা শুরু হয়ে যায়। চলুন উনার রান্না করা খাবার গুলো দেখে নেই। আগেই বলে ফেলি, অসাধারণ স্বাদের রান্না করেন তিনি! যারাই একবার উনার রান্না খেয়েছেন তারাই আবারো খাবার দাওয়াতের অপেক্ষায় থাকেন! হা হা হা…। বাড়ীর জামাই হিসাবে বছরে আমার কয়েকবার দাওয়াত থাকেই!

শসা ও লেবু।


দুই পদের আঁচার।


আঁচার ও আঁচারের তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুঁচি মাখা, এটা একটা অসাধারণ আইটেম, গরুর ঝাল গোশত রান্নার সাথে মেখে খেতে সত্যই মজাদার।


বৃষ্টির দিন ছিল বলে খিচুড়ী, ঝরঝরে!


মুরগী রান্না।


এই হচ্ছে বিশেষ গরুর গোশত রান্না। চমৎকার স্বাদ এবং নরম গোশত। এই রান্নার জন্যই ভাবী ইত্যিমধ্যে বিশেষ নাম করে ফেলেছেন আত্মীয় মহলে।


আমার প্লেটের হাল! ভাল খেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। (শোকর ইয়া পরওয়ারদেগার, তুমি এখনো ভাল খাবার মুখে তুলে দিচ্ছ।)


ওরা হচ্ছে মামাত ফুফাত ভাই! আমরাও আমাদের ছোট বেলায় এভাবে মামাত, ফুফাত, চাচাত ভাই বোনদের নিয়েই বড় হয়েছি এবং এটা এখন আমাদের ছেলে মেয়েদের মধ্যে দেখলে ভাল লাগে। মানুষ বন্ধু বান্ধব ছাড়া বাঁচতে পারে না, ছোট বেলা থেকেই পরিবারের মাঝেই ভাই বোনদের মাঝে এমন বন্ধুত্ব গড়ে উঠে, উঠুক।

যাই হোক, আশা করি খাবার গুলো দেখে আপনাদের সবার ভাল লেগেছে। এই খাবার গুলোই আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের খাবার এবং এই খাবারের লেগে আছে আমাদের পারিবারিক বন্ধন, মেইল সেতু।

খাবার খেতে গিয়ে এবং আড্ডা কথায় চামেলী ভাবীর একটা কথা মনে খুব দাগ কেটেছে, তিনি জানালেন এক সময়ে তিনি খাবারের প্রচুর বাচ বিচার করতেন, এটা খেতেন ওটা খেতেন না, এমনি হলে অমনি চাইতেন এমনকি পছন্দ না হলে নিজে রান্না করে খেতেন ইত্যাদি। তিনি এখন বললেন, এই সব ভুল ছিল। স্বীকার করেন যে, ভুল ধারনায় এমন করতেন। আসলে সব খাবারই খেতে হয় এবং দুনিয়ার সব খাবারই ভাল।

শুভেচ্ছা আপনাদের সবাইকে। যারা ভাল রান্না পারেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে মাঝে মাঝে নিজদের আত্মীয় স্বজনদের রান্না করে খাওয়ান, এতে আপনার সুনামের কথাই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। হাজার টাকার উপহারের পরিবর্তে এক প্লেট ভাতের যে কি মূল্য তা সবাইকে জানিয়ে দিন।

ভাল থাকুন, আসছি আরো মজাদার রেসিপি নিয়ে।

2 responses to “আড্ডাঃ পারিবারিক দাওয়াত ও খাবার দাবার

  1. আনার দাওয়াতের কপাল আছে বলে মনে হয়, আপনার পোষ্ট গুলো দেখে বুঝা যায়। হি হি।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s